Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

'ধর্মের নামে হত্যা কেন?', পহেলগাঁওয়ের হত্যাকাণ্ডের জেরে বড় সিদ্ধান্ত! ইসলাম ত্যাগ বাংলার শিক্ষকের

পহেলগাঁওয়ের নিরীহ পর্যটকদের উপর নৃশংস হামলায় হতবাক সকলেই। তবে এবার এই ঘটনার জেরে এক বড় সিদ্ধান্ত বাংলার শিক্ষকের। জঙ্গি হামলার পর মনে ধর্মের নামে সহিংসতার বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা জন্ম নিয়েছে বলে জানান সাবির হুসেন। শিক্ষক জানান, তিনি শীঘ্রই আইনি পথে নিজের ধর্ম পরিবর্তনের আবেদন করবেন।

পশ্চিমবঙ্গের বাদুড়িয়ার ওই শিক্ষক জানিয়েছেন, "ধর্মের নামে এমন নৃশংসতা মেনে নেওয়া যায় না। যারা বিশ্বাস ও ধর্মের নামে মানুষ হত্যা করে, তারা মানবতার শত্রু।" সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে হুসেন বলেন, "আমি কোনও ধর্মকে অসম্মান করছি না, এটা সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। আমি দেখেছি বারবার ধর্মকে সহিংসতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, বিশেষত কাশ্মীরে। এই পরিস্থিতি আমি আর মেনে নিতে পারছি না। আমি শুধু একজন মানুষ হিসেবে বাঁচতে চাই, কোনও ধর্মীয় পরিচয় দিয়ে নয়। সেই কারণেই আমি আদালতে একটি আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করতে চাই।"

teacher

"আমি শান্তি ও মানবতার পক্ষে। যে ধর্ম ঘৃণা ও হানাহানি শেখায়, তার সঙ্গে আমি আর থাকতে চাই না।" জানিয়েছেন ওই শিক্ষক। সকল ধর্মের প্রতি নিজের সম্মান বজায় রেখেও তিনি পহেলগাঁওয়ের মতো ঘটনায় যেভাবে ধর্মীয় পরিচয়কে ব্যবহার করে সহিংসতা চালানো হচ্ছে, তার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "কেন একজন মানুষকে শুধুমাত্র তার ধর্মের জন্য হত্যা করা হবে? এই বিষয়টি নিয়ে আমি গভীরভাবে দুঃখিত।"

জানা গিয়েছে, প্রথমত ফেসবুকে নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা জানানোর পর, হুসেন আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইসলাম থেকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্বাস পরিবারের উপর চাপিয়ে দেবেন না। "আমার স্ত্রী এবং সন্তানেরা তাদের নিজস্ব বিশ্বাস অনুযায়ী জীবনধারণের জন্য সম্পূর্ণ স্বাধীন। এটা আমার ব্যক্তিগত পথ, এবং আমি আর নিজেকে ইসলামের সাথে বাঁধতে চাই না," তিনি বলেন।

পাশাপাশি নিজের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বারবার জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হওয়ায় তিনি অস্বস্তি প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন এই ধরনের প্রশ্ন সমাজে বিভেদ তৈরি করে। হুসেন জানান, "বর্তমানে সবকিছু যেন ধর্মকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে। আমি এমন একটা পৃথিবীতে আর বাস করতে চাই না।"

মূলত পহেলগাঁওয়েরর ঘটনা, যা তিনি ধর্মকে সহিংসতার ন্যায্যতা দেওয়ার আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন, তাঁর এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ। এমন একটি বিষয়ের সঙ্গে তিনি আর কোনোভাবেই যুক্ত থাকতে চান না। এদিকে এই নৃশংস ঘটনার পর থেকেই অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, ধর্মের দোহাই দিয়ে এমন বর্বরতা কেন করা হল?

Take a Poll

উল্লেখ্য, গত ২২শে এপ্রিল ২০২৫ তারিখে পহেলগাঁওয়ে এক ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় বহু পর্যটকের মৃত্যু হয়। এই হামলার পর থেকেই দেশজুড়ে উঠেছে তুমুল নিন্দার ঝড়। বিভিন্ন মহল থেকে সন্ত্রাসবাদীদের কঠোর শাস্তি ও নিহতদের পরিবারের জন্য সমবেদনা জানানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, ওইদিন জঙ্গিরা প্রথমে পর্যটকদের ধর্মীয় পরিচয় জানতে চায়। তারপর বেছে বেছে গুলি করে হত্যা করা হয় হিন্দুদের। এই ঘটনায় বহু নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটে, যা দেশজুড়ে শোকের ছায়া ফেলেছে।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+