Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

দলের 'সেকেন্ড ইন কমান্ড' থেকে বিচ্ছেদ! কেন তৃণমূল ছেড়েছিলেন মুকুল রায়? আজ জানুন নেপথ্যের কাহিনী

রাজ্য রাজনীতির এক পরিচিত এবং প্রভাবশালী মুখ মুকুল রায় আর নেই। সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে, প্রায় দেড়টা নাগাদ নিউ টাউনের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি তাঁর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তাঁর প্রয়াণে শুধু একজন নেতার মৃত্যু নয়, বরং বাংলার রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়েরও সমাপ্তি হল। দল গঠনের শুরুর কঠিন সময়টায় যখন অনেকেই দ্বিধার মধ্যে ছিলেন, তখন মমতা ব্যানার্জীর পাশে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মুকুল রায়। সংগঠন গড়ে তোলা থেকে শুরু করে বুথ স্তরের খুঁটিনাটি সমস্তটাই ছিল তাঁর আয়ত্তে।

সিঙ্গুর থেকে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় তিনি মমতার ছায়াসঙ্গী ছিলেন। ২০১১ সালের পালাবদলের পরও দলে তাঁর গুরুত্ব অটুট ছিল। ২০১৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে সংগঠন সামলেছেন মুকুল রায়। সেই সময় তিনি দলে যোগদান কর্মসূচির মাধ্যমে একাধিক নেতা থেকে কর্মীকে শিবিরে টেনে এনে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়েছিলেন। কেন্দ্রেও মন্ত্রীত্বের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি।

কেন তৃণমূল ছেড়েছিলেন মুকুল রায়?

২০১৭ সালে দীর্ঘ ১৯ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করে তিনি তৃণমূল ছাড়েন। তার পেছনে ছিল একাধিক কারণ।

সারদা ও নারদা বিতর্ক: সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারি ও নারদা স্টিং অপারেশন মামলায় নাম জড়িয়ে যাওয়ার পর থেকেই শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়।

দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল: রাজনৈতিক মহলের ধারণা যে, দলে নতুন নেতৃত্বের উত্থানে নিজেকে কোণঠাসা বলে মনে করছিলেন তিনি।

ক্ষমতার টানাপোড়েন: 'সেকেন্ড ইন কমান্ড' হিসেবে তাঁর প্রভাব কমছে, এরকম বার্তাও চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

নীতিগত মতভেদ: রাজ্যসভা ছাড়ার সময় তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, দলের মধ্যে আর স্পষ্ট নীতি নেই এবং তিনি আর স্বচ্ছন্দ নন।

বিজেপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা: পরবর্তীতে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টি-তে যোগদান করেন এবং তৃণমূলকে 'পারিবারিক দল' বলেও কটাক্ষ করেন।

বিজেপি অধ্যায় এবং প্রত্যাবর্তন

২০১৭ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়ে রাজ্যে সংগঠন মজবুত করতেও ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। তাঁর নেতৃত্ব এবং সংগঠনের জোরেই ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপি রেকর্ড ১৯টি আসন পেয়েছিল। যা রাজ্যের রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিল। ২০২১ সালে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়ে বিধায়ক নির্বাচিত হন তিনি। পরে একই বছরের ১১ জুন তিনি আবার বিজেপি ছেড়ে ফের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন। কিন্তু বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেননি। এর ফলে দল বদল করলেও খাতায়-কলমে তিনি বিজেপি বিধায়ক হিসেবেই থেকে গিয়েছিলেন।

যখন তিনি তৃণমূল ছেড়ে যোগ দেন বিজেপি (Bharatiya Janata Party)-তে যোগদান করেছিলেন তখন রাজনীতির মোড় ঘুরে যায়। তাঁর নেতৃত্ব এবং সংগঠনের জোরেই ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপি রেকর্ড ১৯টি আসন পেয়েছিল। যা রাজ্যের রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিল।

জীবনের শেষ পর্বে আসে সক্রিয় রাজনীতি থেকে অনেকটাই দূরে সরে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব এবং সংগঠনের স্মৃতি তাঁকে শেষদিন পর্যন্ত ঘিরে ছিল। এক সময়কার কৌশলী সংগঠক, প্রাক্তন রেলমন্ত্রী এবং তৃণমূলের অন্যতম স্থপতি, মুকুল রায় তাঁর রাজনৈতিক জীবনের যাত্রা শেষ করলেন একজন বিধায়ক হিসেবেই।

শেষ অধ্যায়

স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকেই তাঁর শারীরিক এবং মানসিক অবস্থা একেবারেই ভেঙে পড়ে। ডিমেনশিয়া এবং পারকিনসন্সে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। রাজনৈতিক বক্তব্যেও অনেক অসংলগ্নতা ধরা পড়েছিল। তাঁর বিধায়ক পদ নিয়েও শুরু হয় বিতর্ক। তারপর তাঁর বিধায়ক পদ খারিজ নিয়ে আদালত পর্যন্ত মামলা গড়ায়। তাঁর অসুস্থতার কথা বিবেচনা করার পর কলকাতা হাইকোর্টের একটি নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট, এবং তাঁর বিধায়ক পদ বহাল রাখার নির্দেশ দেয়।

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রাত প্রায় ১টা ৩০ মিনিটে সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। রাজনীতির ময়দানে তাঁর প্রভাব, বিতর্ক এবং নাটকীয় পালাবদল, সমস্তটা মিলিয়ে তিনি বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক স্মরণীয় চরিত্র হিসেবে থেকে যাবেন।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+