নতুন বছরে আদৌ কি বেরবে রাজ্যের বেতন কমিশনের রিপোর্ট, প্রশ্ন নবান্নে
পশ্চিমবঙ্গের চলতি আর্থিক বছরের প্রথম ৮ মাসের ঋণের বোঝা, রাজস্ব ঘাটতি এবং আর্থিক ঘাটতি গত ৮ বছরের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এমনটাই জানা গিয়েছে নবান্ন সূত্রে।
পশ্চিমবঙ্গের চলতি আর্থিক বছরের প্রথম ৮ মাসের ঋণের বোঝা, রাজস্ব ঘাটতি এবং আর্থিক ঘাটতি গত ৮ বছরের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এমনটাই জানা গিয়েছে নবান্ন সূত্রে।

চলতি আর্থিক বছরের বাজেটে বাজার থেকে ২০৩৫৮ কোটি টাকা ধার করার কথা বলেছিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। কিন্তু নভেম্বরের মধ্যেই তা ২৯৬৫৫ কোটি টাকা ছুঁয়ে ফেলেছে। ৮ মাসে যার গড় করলে দাঁড়ায় প্রায় ৩৭০০ কোটি টাকা মাসে। বাজার থেকে মাসে এত টাকা নেওয়ার প্রবণতা এর আগে কখনও ছিল না বলেই জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।
নবান্নের একাংশের ব্যাখ্যা নোট বাতিল এবং জিএসটি-র প্রভাব পড়েছে রাজ্যের অর্থনীতিতেও। যার জের গিয়ে পড়েছে রাজস্ব আদায়ে। আয় কম হওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে বাজার থেকে ধার করা ছাড়া কোনও উপায় নেই বলেই জানাচ্ছেন তাঁরা।
তবে নবান্নেরই অন্য অংশের ব্যাখ্যা কিন্তু অন্যরকমের। তাঁদের মতে রাজ্যে সেই অর্থে বড় শিল্প নেই। ফলে জিএসটি বাবদ আয় করছে। সেই দিক থেকে দেখতে গেলে শিল্প থেকে কর আদায়ও কম হয়েছে। কেননা আফগারি ও স্ট্যাম্প ডিউটি বাবদ রাজ্যের আয় হয়েছে ভালই।

নবান্ন সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় অনুদানের মাত্র ২৯ শতাংশ পাওয়া গিয়েছে। আর প্রাপ্য কেন্দ্রীয় করের মাত্র অর্ধেক অংশ এসে পৌঁছেছে। ফলে রাজ্যের খারাপ আর্থিক পরিস্থিতির জন্য দায়ী কেন্দ্রও।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের পরিকল্পনা বহির্ভূত খাতে বরাদ্দের ৬৫ শতাংশ খরচ হয়ে গিয়েছে। যার পরিমাণ ৬৩ ৮১৯ কোটি টাকা। পরিকল্পনা বহির্ভূত খাতে নতুন খরচ না বাড়লেও আগেকার ঘোষিত মেলা, খেলা, উৎসবের খরচ বেড়েছে। অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, এই মূহূর্তে পরিকল্পনা বহির্ভূত খাতে ব্যয় কমানো জরুরি। যদিও সেই পথে হাঁটতে নারাজ সরকার।
এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে সরকারিকর্মীদের বকেয়া ডিএ কিংবা বেতন কমিশন বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ যদি করে, তাহলে তা লাগু করার আপাত সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।












Click it and Unblock the Notifications