সাইক্লোন ‘আম্ফান’কেও হার মানাচ্ছে করোনা ভাইরাস! সাইক্লোন সেন্টারে ভয় দেখছেন সুন্দরবনবাসী
সুপার সাইক্লোন রূপে ধেয়ে আসছে ‘আম্ফান’, করোনা ভয়ে আড়ষ্টরা সাইক্লোন সেন্টারে যেতে নারাজ
ঘূর্ণিঝড় আম্ফান এখন সুপার সাইক্লোনে পরিণত হয়েছে। ক্রমশ তা এগিয়ে আসছে বাংলার দিকে। আম্ফানের ভয়ে কাঁপছে বাংলার উপকূলবর্তী জেলাগুলি। প্রশাসন তৎপর হয়ে উপকূলবর্তী অঞ্চল থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। কেউই করোনার ভয়ে যেতে চাইছেন না সাইক্লোন সেন্টারগুলিতে।

সাইক্লোন সেন্টারে যেতে নারাজ বাসিন্দারা
সুপার সাইক্লোন আম্ফানের পূর্বাভাসের পর থেকেই সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল মাইকিং চালানো হচ্ছে। ফ্রেজারগঞ্জ, বকখালি, নামখানা, রায়দিঘি, সাগর ও পাথরপ্রতিমা এলাকার বাসিন্দারা ভয়ে তটস্থ। বাঁধের উপরে থাকা বা সাগরের সন্নিকটে থাকা বাসিন্দাদের সাইক্লোন সেন্টারে উঠে যাওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগই সেই আদেশ মানতে নারাজ।

করোনা আতঙ্ক পেয়ে বসেছে বাসিন্দাদের
বেশিরভাগ বাসিন্দাই করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় সাইক্লোন সেন্টারে যেতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। অভিযোগ, ভিনরাজ্য থেকে কয়েকশো যুবক এলাকায় ফিরেছেন। সবাই যদি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে উঠে আসে তবে করোনা ছড়ানোর আশঙ্কা থাকছে। শুধু সাইক্লোন সেন্টারেই নয়, স্কুলগুলিতে থাকা নিয়েও তৈরি হয়েছে একই আতঙ্ক।

কিংকর্তব্য বিমূঢ় অবস্থা প্রশাসনের
এই অবস্থায় প্রশাসন পড়েছে বিপাকে। তাঁদের এখন কিংকর্তব্য বিমূঢ় অবস্থা। প্রশাসন আবেদন করছেন, সাইক্লোন সেন্টার বা স্কুলগুলিতে উঠে যাওয়ার। সেখানে সামাজিক দূরত্ব মেনেই সবাইকে রাখা হবে। সেই অভয় দেওয়ার পরও কারও সম্বিত ফিরছে না। এদিকে ক্রমশ এগিয়ে আসছে সুপার সাইক্লোন।

বুলবুলের ক্ষতের মধ্যেই হাজির আম্ফান
মাস সাতেক আগে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল তাণ্ডব লীলা চালিয়ে গিয়েছে সুন্দরবনের উপর দিয়ে। সে যাত্রায় ম্যানগ্রোভ অরণ্য সুন্দরবনকে অনেকাংশে বাঁচিয়ে দিয়েছিল। এবার সুপার সাইক্লোন অম্ফান ধেয়ে আসছে সুন্দরবনে। এখন থেকেই আতঙ্ক গ্রাস করেছে বাসিন্দাদের মনে। এখনও বুলবুলের ঘা দগদগে, এই অবস্থায় আম্ফানের সঙ্গে কি লড়াই করতে পারবে সেই ক্ষতচিহ্ন নিয়ে? প্রশ্ন উঠেছে।

আম্ফানের মুখে দাঁড়িয়ে সুন্দরবন
হাওয়া অফিস জানিয়েছে, দক্ষিণ মধ্য সাগরে অবস্থান করা সুপার সাইক্লোন আম্ফান ধেয়ে আসছে সুন্দরবন অভিমুখে। সাগরদ্বীপ, বকখালি, ঝড়খালির কাছেই আছড়ে পড়তে পারে আম্ফান। উপকূলের কাছে এসে তা গতি বাড়িয়ে আছড়ে পড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন আবহবিদরা। এবং এর সর্বোচ্চ গতিবেগ হতে পারে ঘম্টায় ১৫৫ কিমি।

কন্ট্রোল রুম ১৪টি গ্রাম পঞ্চায়েতে
তবে মুখ বুজে বসে নেই প্রশাসন। তারা ইতিমধ্যে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ১৪টি গ্রাম পঞ্চায়েতে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। মজুত রাখা হয়েছে জলের পাউচ, ত্রাণও। ১৭টি সাইক্লোন সেন্টারের ১০টি কোয়ারেনটাইন সেন্টার করা হয়েছে। তাই এখন স্কুলগুলিকে ব্যবহার করার কথা ভাবা হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications