বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ে এবার বামদের পাশাপাশি অতি বামেদেরও পাশে চাইলেন মমতা
একদা বাংলার মসনদ থেকে বামেদের সরাতে 'বিজেপিকে সামনে এনে' লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর বঙ্গে বিজেপিকে রুখতে এবার বামফ্রন্টের সমর্থন চাইলেন তিনি। কালীঘাটে দলের বিধায়ক ও নেতাদের নিয়ে এদিন রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন অনুষ্ঠানে তিনি এই নতুন রাজনৈতিক অবস্থানের কথা জানান।
ওই অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেবল বাম নয়, অতি বামেদের কাছেও জোটের আহ্বান জানিয়েছেন। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এক বৃহত্তর বিরোধী মঞ্চ তৈরির ডাক দেন। তাঁর কথায়, "চারিদিকে সন্ত্রাসের বজ্রপাত চলছে। ভয় না পেয়ে বাংলার যত বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দল, ছাত্র, যুব সংগঠন রয়েছে তাদের তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে বঙ্গে জোট বাঁধার আবেদন জানাচ্ছি। বামেদের নিয়েও আমার কোনও ইগো নেই। বাম, অতি বাম সবাইকে নিয়ে চলতে চাই। আসুন আমরা জোট বাঁধি।" দিল্লির পাশাপাশি বাংলাতেও বিরোধী ঐক্য মঞ্চ গড়ার আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচনী ফলাফল প্রসঙ্গে মমতা এদিন ফের দাবি করেন, এই লড়াই তাঁরা জিতেছেন, তিনি হারেননি। বরং তৃণমূলকে হারানো হয়েছে। নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন বিরোধী দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এই প্রসঙ্গে মমতা দৃঢ়ভাবে বলেন, "আজ থেকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নীতি ও নৈতিকতার লড়াই শুরু হল।"
ফলাফল ঘোষণার পর কলকাতা থেকে দিল্লি ফেরার পথে সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে বিমানে হেনস্তার প্রতিবাদে সরব হন মমতা। তিনি জানান, যারা "রিগিং" করতে রাজ্যে এসেছিল, মহুয়া সেই একই বিমানে ফিরছিলেন। অভিযোগ, সেসময় দলের সাংসদের উদ্দেশে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করা হয়।
দলের কর্মীদের উপর হওয়া সন্ত্রাস নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলাদের হেনস্তা করা হচ্ছে। এই সমস্ত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এবং শিকড়ের টানে সকলকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মমতা উল্লেখ করেন, ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর তিনি কোনও অত্যাচার হতে দেননি, এমনকী তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের কাছে তাঁর বুলেটপ্রুফ গাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু এবার নির্বাচনের ফলাফলের পর রাজ্যজুড়ে সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠছে।












Click it and Unblock the Notifications