আদালতের নির্দেশনামা অমান্য, মাকে বাড়ি ঢুকতে দিল না ছেলে

আদালতের আদেশনামা হাতে পুলিশও নাছোড়বান্দা। মাকে বাড়িতে ঢুকতে দিতেই হবে।
চলছে জোর বাকবিতণ্ডা।
কিন্তু যাকে নিয়ে এতকিছু, তার মুখে কথা নেই। শুধু ছলছল চোখে এক কোণে দাঁড়িয়ে রয়েছেন প্রৌঢ়া।
শুক্রবার আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত একটি খবর অনুযায়ী, আদালতের আদেশনামা অমান্য করে নমিতা ঘোষ নামে ওই প্রৌঢ়াকে বাড়ি ঢুকতে বাধা দেয় ছেলে ইন্দ্রনাথ। গত ১৪ এপ্রিল নমিতাদেবীকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল ইন্দ্রনাথ। বাড়িতে ঢোকার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হন নমিতাদেবী। গত ৩ অক্টোবর তার শান্তিপূর্ণভাবে থাকা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেন শিয়ালদহ আদালতের প্রধান বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট। সেই অনুযায়ী চিৎপুর থানার পুলিশকর্মীদের সঙ্গে আদালতের আদেশনামা হাতে নিজের ৬৬/৩ বি টি রোডের বাড়িতে পৌছন নমিতাদেবী। কিন্তু মায়ের সঙ্গে পুলিশ দেখেই হম্বিতম্বি শুরু করে দেয় ইন্দ্রনাথ। পুলিশ আদালতের আদেশনামা দেখালেও নমিতাদেবীকে বাড়িতে ঢুকতে বাধা দেয় সে। বাড়িতে ঢুকতে না পেরে পুলিশের সঙ্গে ফিরে আসেন নমিতাদেবী। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বাড়িতে ঢুকতে না দেওয়ায় ছেলের নামে চিৎপুর থানায় অভিযোগও দায়ের করেছেন নমিতাদেবী।
২০০৯ সালে স্বামী কাশীনাথ ঘোষ মারা যাওয়ার পর থেকেই মা নমিতাদেবী ও বোন সুস্মিতার উপর অত্যাচার শুরু করে ইন্দ্রনাথ। ২০১১ সালে সুস্মিতার বিয়ে হয়ে গেলে মায়ের উপর ইন্দ্রনাথের অত্যাচার ক্রমশ বাড়তে থাকে। বিষয়টি থানায় জানালেও ছেলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেননি নমিতাদেবী। কিন্তু ১৪ তারিখ মারধর করে বাড়ি থেকে বার করে দিলে ছেলের বিরুদ্ধে শিয়ালদহ আদালতে মামলা করেন নমিতাদেবী। জায়গার অভাবে মেয়ের বাড়িতে থাকতে না পেরে আশ্রয়হীন হয়ে এদিক-ওদিক ঘুরতে থাকেন প্রৌঢ়া। এর পর মেয়ে সুস্মিতাই তার এক বন্ধুর বাড়িতে মায়ের থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।
কিন্তু আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন নমিতা দেবীকে বাড়িতে ঢোকানো গেল না সেই প্রশ্নে এক পুলিশকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি আদালতে জানানো হবে। এদিকে মাকে বাড়িতে ঢুকতে না দেওয়া নিয়ে ইন্দ্রনাথের উত্তর, আদালতের নির্দেশ অমান্য করতে চায় না সে। কিন্তু এক ঘরে মায়ের সঙ্গে থাকা তার পক্ষে সম্ভব না। নমিতাদেবীর চরিত্র খারাপ বলেও অভিযোগ জানিয়েছে ইন্দ্রনাথ।
ছেলের এহেন অভিযোগে রীতিমতো ভেঙে পড়েছেন নমিতাদেবী। জানিয়েছেন বাড়িতে আরও ঘর রয়েছে। কিন্তু সেখানে রাখা গয়না সম্পত্তি দখল করে নিয়েছে ছেলে। ঠাকুরের মূর্তি-সিংহাসনও বিক্রি করে দিয়েছে। তাও ছেলের শাস্তি চান না বৃদ্ধা মা। শুধু স্বামীর দিয়ে যাওয়া বাড়িতে জীবনের শেষ সময়টা কাটাতে চান বলে আদালতে জানিয়েছেন নমিতা ঘোষ।












Click it and Unblock the Notifications