ঘাটালে ফিরল কেশপুর হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি, একই কায়দায় খুন পরিবারকে
পারিবারিক বিবাদের জেরে প্রতিহিংসার জেরে ঘটল নারকীয় হত্যালীলা। কেউ যাতে সাহায্যের হাত বাড়াতে না পারে বাইরে থেকে প্রতিবেশীদের বাড়িতেও তালা ঝুলিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা।
বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে একই পরিবারের তিনজনকে ঘরে আটকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হল। জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হল ভাই-বোনের। মা আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শুক্রবার ভোররাতে পশ্চিম মেদিনীপুর ঘাটালের সুন্দরপুরে এই হত্যালীলার ঘটনা ঘটে। এই নৃশংসতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই অভিুযুক্তের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতরা হলেন রাজীব আলি ও রেশমি খাতুন। তাদের মা ফতেমা খাতুনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি বর্তমানে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পারিবারিক অশান্তির কারণেই এই হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান পুলিশের। এই ঘটনায় অভিযোগের তির ফতেমার এক আত্মীয় ইসমাইলের দিকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ভোর চারটে নাগাদ ফতেমার বাড়ির দরজায় তালা লাগিয়ে আগুন লাগানো হয়। এরপর বাইরে থেকে জানলা দিয়ে পেট্রোল ছুড়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অনুমান। ঘরে ভিতরে তখন দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ছিলেন মা ফতেমা খাতুন। স্বামী ও বড় ছেলে কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন।
দুষ্কৃতীরা প্রতিবেশীদের বাড়িতেও তালা লাগিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। কেউ যাতে ফতেমার পরিবাররে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে না পারেন, সেই কারণেই প্রতিবেশীদের বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলে মনে করা হচ্ছে। দুষ্কৃতীরা অপারেশন চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর প্রতিবেশীরা উদ্ধার করে তিনজনকে। এরই মধ্যে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয় পুলিশ। ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে তিনজনকে নিয়ে যাওয়ার পর দুজনকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
এরপরই অভিযুক্ত ইসমাইলের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় স্থানীয় জনতা। এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিশাল পুলিশ মোতায়েন করা হয় এলাকায়। প্রতিবেশীরা জানান, পাশের বাড়িতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছিল। আমরাও বের হতে পারিনি। বাইরে থেকে তালা বন্ধ ছিল দরজায়। দরজা ভেঙে বের হতে সময় লেগে যায়। তখন সব শেষ।












Click it and Unblock the Notifications