শুভেন্দুর দেখানো পথেই তাঁকে রোখার পরিকল্পনা নন্দীগ্রামে! 'সনাতনী সেবক'কে মীরজাফর বলে আক্রমণ তৃণমূলের
শুভেন্দুর দেখানে পথেই তাঁকে রোখার পরিকল্পনা নন্দীগ্রামে! 'সনাতনী সেবক'কে মীরজাফর বলে আক্রমণ তৃণমূলের
সনাতনী সেবক বলে দাবি করা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) তীব্র কটাক্ষ তৃণমূলের (Trinamool Congress)। একসময়ে একসঙ্গে কাজ করা আবু তাহের (Abu Taher) বলেছেন, বাবা শিশির অধিকারী (Sisir Adhikari) আর ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী (Dibyendu Adhikari) দুজনেই তৃণমূলের টিকিটে জেতা সাংসদ। সেখানে শুভেন্দু অধিকারী নিজেকে কীভাবে সনাতনী সেবক বলে দাবি করছেন, সেই প্রশ্ন করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা আবু তাহের।

বিশ্বাসঘাতক শুভেন্দু অধিকারী
ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির মঞ্চ থেকে তৃণমূল নেতা আবু তাহের শুভেন্দু অধিকারীকে সরাসরি বিশ্বাসঘাতক বলে আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেছেন, দিনের পর দিন মমতার খেয়ে বেইমানি করে গিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আবু তাহেরের অভিযোগ, তাঁরা আন্দোলন করেছেন, আর উনি লাশের ওপরে রাজনীতি করেছেন। তিনি কটাক্ষ করে বলেছেন, সব শেষ হয়ে গেলে সাদা পাঞ্জাবি পরে মালা দিতে হাজির হয়েছেন।

বাংলার মীরজাফর নামেও কটাক্ষ
একই মঞ্চে শুভেন্দু অধিকারীকে বাংলার মীরজাফর বলে কটাক্ষ করেছেন পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনীতিতে অধিকারী পরিবারের বিরোধী বলে পরিচিত রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী অখিল গিরির পুত্র সুপ্রকাশ গিরি। তাঁর অভিযোগ, বাংলার মাটিকে কলুষিত করেছে বিজেপি। শুভেন্দু অধিকারীকে মীরজাফর বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেছেন, বারবার মিথ্যা মামলা করে জমি আন্দোলনের নেতা ও নন্দীগ্রামের তৃণমূল কর্মীদের সিবিআই-এর ভয় দেখাচ্ছেন। তাঁর আরও অভিযোগ, নন্দীগ্রামে অশান্তি তৈরি করতে চাইছেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু সেখানকার মানুষ পুরনো ধাঁচে শুভেন্দু অধিকারীর পরিকল্পনা রুখে দেবে বলেই মনে করেন তিনি। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মত হল, শুভেন্দু অধিকারীকে ছাড়া নন্দীগ্রামের আন্দোলন গড়ে উঠত না। শুধু পূর্ব মেদিনীপুরেই নয়, জঙ্গলমহলের বিস্তীর্ণ এলাকায় সিপিএমকে পর্যুদস্ত করতে শুভেন্দু অধিকারীই নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ফলে শুভেন্দু অধিকারীর দেখানো পথেই তৃণমূল তাঁকে আটকাতে চাইছে কিনা সেই প্রশ্ন উঠছে।

ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় অভিযুক্ত শেখ সুফিয়ান
রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা মামলা নিয়ে তদন্ত করছে সিবিআই। ইতিমধ্যেই সেই মামলায় নাম জড়িয়েছে নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী এজেন্ট শেখ সুফিয়ানের। এছাড়াও ওই মামলায় হাজত বাস করতে হয়েছে সুফিয়ানের জামাই-সহ ১১ জন তৃণমূল নেতা-কর্মীকে। তৃণমূলের অভিযোগ শুভেন্দু অধিকারীর মদতেই মিথ্যা মামলা করা হয়েছে সুফিয়ান-সহ অন্যদের বিরুদ্ধে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য নন্দীগ্রামে গেলেই সুফিয়ানের নাম না করলেও শুভেন্দু অধিকারীর মুখে উঠে আসে জাহাজবাড়ির কথা।

রাজ্য সর্বোচ্চ আদালতে ধাক্কা খেয়েছে
দেহরক্ষীর অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলা-সহ মোট পাঁচটি মামলায় শুভেন্দু অধিকারীকে গ্রেফতার করা যাবে না। গ্রেফতার করতে হলে তা নিয়ে আদালতের অনুমতি নিতে হবে। এমনটাই জানিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার। যদিও সেই মামলায় সোমবার সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের রায়ই বহাল রেখেছে।












Click it and Unblock the Notifications