Sheikh Shahjahan Arrested: রেশন দুর্নীতিতে শেখ শাহজাহানের বাড়িতে ইডি! এরপরেই ঘুরে যায় মোড়! একনজরে টাইমলাইন
Sheikh Shahjahan Arrested: দীর্ঘ টালবাহানা শেষ! ৫৬ দিনের মাথায় রাজ্য পুলিশের হাতে গ্রেফতার শেখ শাহজাহান। মিনাখার বাবনপুকুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তবে কার বাড়ি থেকে শেখ শাহজাহানকে গ্রেফতার করা হয়েছে সে বিষয়ে পুলিশের তরফে স্পষ্ট করা হয়নি।
তবে বৃহস্পতিবার একেবারে ভোররাতে সবার নজর এড়িয়ে বারাসাত কোর্ট লকআপে নিয়ে যাওয়া হয় সন্দেশখালির 'বেতাজ বাদশা'কে। যা কার্যত নজিরবিহীন বলে মনে করা হচ্ছে।

বিক্ষোভের আশঙ্কাতেই পুলিশের এহেন পদক্ষেপ বলে দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু কীভাবে সংবাদ শিরোনামে এলেন শেখ শাহজাহান? তদন্ত এবং অন্যান্য প্রক্রিয়াও বা কিভাবে এগোল? রইল গোটা টাইমলাইন-
৫ জানুয়ারি- রেশন দুর্নীতির তদন্তে শেখ শাহজাহানের বাড়িতে সকালে পৌঁছে যান ইডি আধিকারিকরা। তল্লাশি চালানোর অনুমতি থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। তৃণমূল নেতার অনুগামীদের হাতে মার খেতে হয় ইডির আধিকারিকদের। এই অবস্থায় একেবারে খালি হাতেই ফিরতে হয় তাঁদের। এই হামলায় শিবু হাজরা, উত্তম সর্দার সহ একাধিক তৃণমূল প্রভাবশালীর নাম সামনে আসে।
৬ জানুয়ারি- ঘটনার পরেই রহস্যজনক ভাবে উধাও হয়ে যান শেখ শাহজাহান। এমনকি ইডির উপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদেরও খোঁজ পাওয়া যায় না। যদিও ঘটনার পর থেকেই সন্দেশখালির বেতাজ বাদশার খোঁজ শুরু হয়। দফায় দফায় ইডির তরফে বৈঠক করা হয়। এমনকি অন্যান্য কেন্দ্রীয় এজেন্সিও শেখ শাহজাহানের কীর্তির বিষয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু করে।
৭ ফেব্রুয়ারি- ইডির অভিযানের পরেই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সন্দেশখালি জুড়ে। জমি দখল, মহিলাদের উপর অত্যাচার সহ একাধিক ইস্যুতে পথে নামেন এলাকার মহিলারা। দাবি ওঠে শেখ শাহজাহানের গ্রেফতারের। শুধু তাই নয়, বাদশার অনুগামী শিবু হাজরা রাতে গ্রামের মহিলাদের তৃণমূল পার্টি অফিসে ডাকতেন বলেও অভিযোগ সামনে আসে। এমনকি শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধেও শ্লীলতাহানির মতো মারাত্মক অভিযোগ তোলেন গ্রামের মানুষ।
১০ ফেব্রুয়ারি- ঘটনায় প্রবল চাপের মুখে পড়ে তৃণমূল। পথে নেমে লাগাতার বিক্ষোভ শুরু করে বিজেপি। এই অবস্থায় তৃণমূল নেতা পার্থ ভৌমিক রেড রোড সমাবেশ থেকে উত্তম সর্দারকে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করার কথা জানান। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই এহেন পদক্ষেপ বলেও জানানো হয়। এরপরেই গ্রেফতার করা হয় উত্তম সর্দারকে।
১২ ফেব্রুয়ারি- যদিও আইনি প্রক্রিয়ায় উত্তম সর্দার জামিন পেয়ে যান। যদিও মুহূর্তে ফের বহিস্কৃত তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় প্রাক্তন বাম বিধায়ক নিরাপদ সর্দারকেও। অন্যদিকে মহিলাদের অভিযোগ নিতে পুলিশের তরফে বিশেষ দল গঠন করা হয়। ১০ জনের বিশেষ দল গঠন করা হয়। যারা গোটা এলাকা ঘুরে ঘুরে অভিযোগ নেন এবং আতঙ্ক কাটানোর চেষ্টা করে।
১৫ ফেব্রুয়ারি- যদিও মহিলাদের উপর অত্যাচার এবং সন্দেশখালির ঘটনা সাজানো বলে দাবি করা হয় তৃণমূলের তরফে। এর মধ্যেই এই ইস্যুতে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, এলাকায় রাজ্য মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিদের পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতার করা হচ্ছে। আগামিদিনে আরও হবে। তবে শেখ শাহজাহান নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। এর মধ্যেই সন্দেশখালি ছুটে যান রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। মানুষের সঙ্গে কথা বলে পাশে থাকার বার্তা দেন।
১৭ ফেব্রুয়ারি- সন্দেশখালির ঘটনায় সক্রিয় হয়ে ওঠে একাধিক কমিশন। তপশিলি কমিশন সহ একাধিক কমিশনেরর প্রতিনিধিরা সন্দেশখালি যান। অন্যদিকে সন্দেশখালি জুড়ে পুলিশের তরফে জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। যা নিয়ে একেবারে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। আইন ভেঙে সন্দেশখালি যাওয়ার চেষ্টা করেন সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। যা নিয়ে সরগরম হয়ে ওঠে সন্দেশখালি।
১৯ ফেব্রুয়ারি- ১৪৪ ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয়। এছাড়াও পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা হিয় কলকাতা হাইকোর্টে। মামলায় পুলিশের ১৪৪ ধারা নিয়ে প্রশ্ন তোলে কলকাতা হাইকোর্ট। এবং তা বাতিল করে দেওয়া হয়। এই আইনি প্রক্রিয়া চলার মধ্যে এক মহিলার গোপন জবানবন্দির ভিত্তিতে গণধর্ষণের মামলা রুজু হয়। গ্রেফতার হয় শিবু হাজরা।
কিন্তু এরপরেও খোঁজ মিলছিল না শেখ শাহজাহানের। বারবার আদালতের তোপের মুখে পড়তে হয় রাজ্য পুলিশ প্রশাসনকে। যদিও শেখ শাহাজাহানের গ্রেফতার না হওয়ার কারণ হিসাবে পুলিশ এবং তৃণমূল দাবি করে, ইডির মামলায় স্তগিতাদেশ রয়েছে। সে কারণে তৃণমূল নেতাকে ধরা যাচ্ছে না।
যদিও পরে আদালত স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেয়, শেখ শাহজাহানের গ্রেফতারে কোনও বাঁধা নেই। ইডি-সিবিআই এমনকি রাজ্য পুলিশও তাঁকে গ্রেফতার করতে পারে বলে স্পষ্ট জানায় হাইকোর্ট। দীর্ঘ প্রায় ৫৬ দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার ভোররাতে গ্রেফতার বেতাজ বাদশা।












Click it and Unblock the Notifications