আজ থেকে শুরু মাধ্যমিক! রাজ্য জুড়ে চলছে জোরদার আয়োজন, কোনও সমস্যায় পড়লে কোন নম্বরে ফোন করবেন? জেনে নিন
আজ থেকেই শুরু হয়ে গেল রাজ্যের সবচেয়ে বড় স্কুলস্তরের পরীক্ষা অর্থাৎ মাধ্যমিক পরীক্ষা। এই বছর গোটা পশ্চিমবঙ্গে এই পরীক্ষায় বসছে মোট ৯ লক্ষ ৭১ হাজার পড়ুয়া। স্বাভাবিকভাবেই জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষাকে ঘিরে পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে বাড়তি চাপ থাকবে। তবে, সেই চাপ কমানোর জন্যেই একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদ।

২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই পরীক্ষা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। রাজ্য জুড়ে এই পরীক্ষা মোট ২,৬৮২টি পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে। প্রত্যেকদিন সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষার্থীরা যাতে সময়মতো যে যার কেন্দ্রে পৌঁছে যেতে পারেন সেই সুবিধার জন্য কলকাতা এবং সংলগ্ন এলাকায় ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ রুটে অতিরিক্ত বাসও নামানো হয়েছে।
পরীক্ষার দিন যদি কোনও পরীক্ষার্থী সমস্যায় পড়লে তাহলে যাতে দ্রুত সাহায্য পাওয়া যায় সেই জন্য পুলিশের তরফ থেকে চালু করা হয়েছে একটি বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর- ৯৪৩২৬১০০৩৯। সেইসঙ্গে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের কন্ট্রোল রুম থেকেও সবসময় নজর রাখা হবে। প্রয়োজন পড়লে ০৩৩-২৩২১-৩৮১৩ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। কেউ অ্যাডমিট কার্ড অথবা প্রয়োজনীয় নথি ভুলে বাড়িতে ফেলে এলে, তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাসও দিয়েছে পুলিশ।
যদি স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কোনও সমস্যা দেখা দেয় তাহলে তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশেষ মেডিক্যাল টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শহরের ব্যস্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে পর্যাপ্ত অ্যাম্বুল্যান্সও মোতায়েন থাকবে। যাতে প্রয়োজনে তাড়াতাড়ি পরীক্ষার্থীকে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া যায়।
তবে এতকিছু আয়োজনের মধ্যেও একটি বিষয় নিয়ে এখনও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের। রাজ্যের হাজার হাজার শিক্ষক এখন বিএলও হিসেবে নির্বাচনী কাজে যুক্ত রয়েছেন। মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন সেইসমস্ত শিক্ষকদের পুরো সময়ের জন্য দায়িত্বমুক্ত রাখার অনুরোধ জানিয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পর্ষদের দাবি, পরীক্ষা শুরুর দিনেও কমিশনের তরফ থেকে সেই চিঠির কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। ফলে গার্ড দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো থেকেই যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, প্রায় দশ লক্ষ পরীক্ষার্থী যাতে কোনও রকম বাধা ছাড়া যাতে পরীক্ষা দিতে পারে, তার জন্য প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুতির কোনও খামতি রাখতে চাইছে না রাজ্য। এই ব্যবস্থাগুলি পরীক্ষার্থীদের বাস্তবে কতটা স্বস্তি দিতে পারে এখন এটাই দেখার।












Click it and Unblock the Notifications