প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বাম আমলই ভরসা! পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের চালু করা নিয়মে বড় রদবদল
শিক্ষক নিয়োগে একের পর এক দুর্নীতি প্রকাশ্যে এসেছে। ইডির জালে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সেখানে দাঁড়িয়ে তাঁর চালু করা নিয়মকে এবার মুছে দিলেন ব্রাত্য বসু।
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে উত্তাল রাজ্য! একের পর এক প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার জালে। আর এর মধ্যেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বড়সড় রদবদল। ফের একবার পুরানো নিয়ম ফিরিয়ে আনল শিক্ষা দফতর। আর এই পুরানো নিয়ম বাম আমলে নিয়ে আসা হয়েছিল।

কিন্তু রাজ্যে পালাবদল ঘটে। এরপর একাধিক ক্ষেত্রে পরিবর্তন ঘটে। তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে নয়া নিয়ম চালু করেন। আর সেই নিয়ম 'ডিলিট' করে আমলের তৈরি নিয়মেই ফিরল শিক্ষা দফতর। ইতিমধ্যে শিক্ষা দফতরের তরফে বিস্তারিত জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছতা আনতেই নাকি এই সিদ্ধান্ত বলে জানা যাচ্ছে।
বাম আমলের নিয়ম অনুযায়ী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কে হবেন তা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের ছিল। ২০১৮ সালে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এই নিয়মে রদবদল করেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের হাত থেকে এই ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়।
শিক্ষা দফতর প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষক কে হবে তা চুড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। আজ সোমবার ফের সেই নিয়মে রদবদল করা হল। নতুন নিয়ম বাতিল করে বাম আমলে চালু করা নিয়মে ফিরে গেল শিক্ষা দফতর। অর্থাৎ এবার থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কারা হবেন, ত বাছবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ। আর এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানতর।
ইতিমধ্যে বাম শিক্ষক সংগঠনগুলি স্বাগত জানিয়েছে এইস সিদ্ধান্তকে। একই সঙ্গে তাঁদের মত, বাম আমলে নিয়োগে স্বচ্ছতা ছিল। দুর্নীতিমুক্ত পদ্ধতিতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে সেটাই প্রমাণ করে। এমনকি বাম আমলের নিয়মই যে বিজ্ঞানসম্মত ছিল তাও একবার মনে করিয়ে দিয়েছেন বাম শিক্ষক এই সংগঠনগুলি।
তবে এক নেতৃত্বের মতে, এখনও বহু প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। সেখানে প্রধান শিক্ষক নেই। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা। এই অবস্থায় এই সিদ্ধান্ত খুব গুরুতর বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, সরকার যেটা ভালো মনে করেছে সেটাই করেছে। এতে রাজনীতির কিছু নেই।
কিন্তু কেন পুরানো সিদ্ধান্ত ফিরে গেল সরকার? বাম আমলের নিয়মেই বা আস্থা কেন? তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। যদিও এই বিষয়ে সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে স্বচ্ছতা আনতেই এই সিদ্ধান্ত। এছাড়াও সুষ্ঠ ভাবে যাতে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলি সেটিও অন্যতম কারণ হিসাবে মনে করা হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications