আদিবাসীদের দাবি মেনে সারি-সারনা ধর্মের প্রস্তাব পাশ! পঞ্চায়েতের আগেই মাস্টারস্ট্রোক মমতার
TMC: সারি ও সারনা ধর্ম সংক্রান্ত প্রস্তাব গৃহীত হল বিধানসভায়। শুক্রবার এই বিষয়ে বঙ্গ বিধানসভায় দীর্ঘ ১ ঘন্টা আলোচনা হয়। আর এরপরেই সারি ও সারনা ধর্ম সংক্রান্ত প্রস্তাব বিধানসভায় পাশ হয়। গত কয়েকদিন আগেই একাধিক দাবিতে রেল এবং রাস্তা অবরোধ করেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষেরা।

যার মধ্যে সারি ও সারনা ধর্মকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিও জানানো হয়। সেই সময়েই সরকারের তরফে এই বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়। জানানো হয় যে তাঁরা এই বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে। আর এরপরেই শুক্রবার ১৮৫ ধারায় এই বিষয়ে প্রস্তাব আনেন তৃণমূল বিধায়করা। খুব সহজেই তা পাশ হয়ে যায় বঙ্গ বিধানসভাতে। সংখ্যার নিরিখেই তা পাশ হয়।
এবার নিয়ম অনুসারে এটি কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হবে। আর সেখানে অনুমোদন হলেই তা কার্যকর হয়ে যাবে। আর এই প্রস্তাব বিধানসভাতে পাশ হওয়ার পরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষেরা। তবে এর পিছনে রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিকমহল।
সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। এমনকি বছর ঘুরলেই লোকসভা নির্বাচন। ইতিমধ্যে লোকসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলায় আসতে চলেছে বিজেপি নেতারা। গতবার লোকসভা এবং বিধানসভাতে বাংলার দীর্ঘ আদিবাসী এলাকাতে একচেটিয়ে বিজেপি ঝড় তুলেছে। বাকুড়া,পুরুলিয়া জঙ্গলমহলে একাধিক আসনে জয় পেয়েছে বঙ্গ বিজেপি নেতারা।
এই অবস্থায় যেভাবেই হোক আদিবাসী মন পেতে মরিয়া তৃণমূল। গত কয়েক বছরে একাধিকবার জঙ্গলমহল সফর করেছেন। সিধু-কানহুর জন্মদিনে ছুটি ঘোষণা করেছেন। এছাড়াও রাজ্যের তরফে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সাঁওতালি ভাষাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, আদিবাসী ঘরের মেয়েকে ভোটে প্রার্থী থেকে মন্ত্রী করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই অবস্থায় সামনেই ব্যাক টু ব্যাক বড় দুটি নির্বাচন। সেখানে দাঁড়িয়ে আদিবাসী মানুষের দীর্ঘদিনের দাবিকে স্বীকৃতি দিয়ে কার্যত মাস্টারস্ট্রোক দিলেন মমতা! মত রাজনৈতিকমহলের। এই প্রসঙ্গে বীরবাহা হাঁসদা বলেন, আমরা মানুষের কথা বলেছি। কয়েকদিন আগে এই দাবিতে আদিবাসী মানুষ রাস্তা অবরোধ করেছিলেন।
এই বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও জানানো হয়। মানুষের স্বার্থই আমাদের কাছে শেষ কথা বলে মন্তব্য করেছেন বীরবাহা। যদিও বিজেপির দাবি, সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। আর সেদিকেই শাসকদল এই প্রস্তাব পাশ করেছে বলে কটাক্ষ বিজেপির। যদিও এই বিষয়টি নিয়ে বিশেষ মাথাঘামাতে নারাজ তৃণমূল নেতৃত্ব।












Click it and Unblock the Notifications