ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের স্লোগান বাঁধলেন মোদী, তবে দমদম থেকেও দেখাতে পারলেন না স্পষ্ট দিশা
কলকাতার তিনটি রুটে মেট্রো প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মেট্রোয় সফরও করলেন। এরপর দমদমে পরিবর্তন সংকল্প সভায় বক্তব্যও পেশ করলেন। বেঁধে দিলেন আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য এ রাজ্যে নড়়বড়ে বিজেপির স্লোগান। কিন্তু নেই ঝাঁঝ, দেখাতে পারলেন না স্পষ্ট দিশা। উত্তর দিলেন না তৃণমূল কংগ্রেসের বেশিরভাগ প্রশ্নবাণের।

নরেন্দ্র মোদী মানলেন, বিকশিত বাংলার উদয় না হলে বিকশিত ভারত সম্ভব নয়। অসম, ত্রিপুরার উদাহরণ টেনে স্বাভাবিকভাবেই বাংলায় আসল পরিবর্তনের ডাকও দিলেন। যেমনটা দিয়েছিলেন ২০১৬ বা ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটেও। কিন্তু তৃণমূল ক্রমেই শক্তিশালী হয়েছে। এবারও মোদী বললেন, বিকশিত বাংলা মোদীর গ্যারান্টি! টিএমসি সরাও, বাংলা বাঁচাও। এরপর বেশ কয়েকবার দিলেন সেই স্লোগান- বাঁচতে চাই, বিজেপি তাই।
তৃণমূল কংগ্রেস এদিন মোদীর কাছে জানতে চেয়েছিল কেন বিভিন্ন প্রকল্পে বাংলার ন্যায্য পাওনা আটকে রাখা হয়েছে? এই বিষয়ে সদুত্তর না দিতে পেরে মোদী শুধু বললেন, কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন খাতে যে টাকা পাঠায় তা লুঠ করে টিএমসি! কিন্তু সেই সংক্রান্ত কোনও হিসেব, পরিসংখ্যান দিতে পারেননি মোদী।
অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে তাড়ানোর অঙ্গীকার করে বললেন, সমস্ত বিকশিত দেশে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। অনুপ্রবেশকারীরা আমাদের দেশে যুব সম্প্রদায়ের কাজ কাড়ছে, দেশের পরিকাঠানোর উপর চাপ তৈরি করছে। মা-বোনেদের উপর অত্যাচার করছে। কৃষক, আদিবাসীদের জমি দখল করে নেওয়া হচ্ছে। সে কারণেই অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে বের করার প্রক্রিয়া চলছে। বাংলাতেও চলবে। নরেন্দ্র মোদী বা বিজেপি নয়, এটা সম্পূর্ণ করতে পারবে প্রতিটি ভোটারের একেকটি ভোট। বাংলায় সরকার পরিবর্তন হলে এখানে বিদ্যুৎচালিত যান থেকে হেরিটেজ ট্যুরিজম-সহ নানা ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান হবে বলে আশ্বাস মোদীর। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাহলে এই রাজ্য থেকে কাউকে অন্য রাজ্যে কাজের জন্য যেতে হবে না। এখানেই বন্ধ কলকারখানা খুলবে, আরও বিনিয়োগ আসবে, নতুন কর্মসংস্থানের দিগন্ত খুলবে।
বিজেপি-শাসিত রাজ্যে বাঙালিদের উপর অত্যাচারের কথায় না গেলেও মোদী বললেন, তিনি গর্বিত বাংলাকে শাস্ত্রীয় ভাষার মর্যাদা দিতে পেরে। উল্লেখ্য, মঞ্চে তখন বসে বিজেপি নেতা অমিত মালব্য, যিনি কিছুদিন আগে বলেছিলেন বাংলা নামে নাকি কোনও ভাষাই নেই। ডা. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সৈনিক হিসেবে নিজেকে উল্লেখ করেন মোদী। তাঁর আদর্শকে পাথেয় করেই যে আত্মনির্ভরতা বা মেক ইন ইন্ডিয়া, সে কথাও মনে করালেন। বাংলায় বিজেপি সরকার গঠনে শ্যামাপ্রসাদের স্বপ্নপূরণের কথা বললেন মোদী। সঙ্গে বললেন, বিজেপি যা সংকল্প করে, তা পূরণ করেই ছাড়ে। যেমনটা হয়েছে অপারেশন সিঁদুরের ক্ষেত্রেও।
মোদী বলেন, বাংলায় একবার বিজেপিকে আনলেই দুর্নীতিবাজ, অপরাধীদের ঠাঁই হবে জেলে। মোদী বলেন, যেখানে যে কোনও স্তরের সরকারি কর্মচারীকে পুলিশ ধরলে এবং তিনি ৫০ ঘণ্টা জেলে থাকলে সাসপেন্ড হন বা চাকরি হারান, সেখানে মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীদের জন্য এমন নিয়ম নেই। এটা সংবিধানের অপমান। মুখ্যমন্ত্রী তো জেলে বসেও সরকার চালান। এই রাজ্যেও শিক্ষা ও রেশন দুর্নীতিতে ধরা পড়ার পরেও মন্ত্রীরা জেলে বসেও মন্ত্রিত্ব ছাড়ছিলেন না! প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত যদি ৩০ দিন জেলে থাকেন, তাহলে পরের দিন তাঁকে সরতে হবে এমন বিল আমরা এনেছি। তৃণমূলের সাংসদরা সেই বিলের কপি ছিঁড়়েছেন। কংগ্রেস-সহ ইন্ডি জোটের নেতারা এই বিলের বিরোধিতা করছেন। তবে সংবিধানের অপমান আমরা মানব না।
যদিও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অমিত শাহের উদ্দেশে যে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন যে, অপরাধ বা অভিযোগ প্রমাণ না করতে পারলে যাতে তদন্তকারী অফিসার-সহ শীর্ষকর্তাদের দ্বিগুণ সংখ্যক দিন জেলে কাটানোর শর্ত রাখতে হবে, সেই বিষয়ে মোদী নিরুত্তর রইলেন। তিনি এদিন বলেন, দমদম-সহ বিভিন্ন শহরে স্মার্ট সিটি মিশনের কাজ করতে দিচ্ছে না রাজ্য সরকার। এই কাজ হলে জনসংখ্যার ঘনত্ব যেখানে বেশি সেই সব শহরে নাগরিক পরিষেবা অনেক ভালোভাবে দেওয়া যায়, স্বাচ্ছন্দ্য দেওয়া যায়। সরকার বদলালে দমদমে শিল্পের হাব তৈরির আশ্বাসও দেন মোদী।












Click it and Unblock the Notifications