ঘটনার ঘনঘটা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী বললেন অবাধ ভোট, পাল্টা প্রতিক্রিয়া বিরোধীদের
ঘটনার ঘনঘটা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী বললেন অবাধ ভোট, পাল্টা প্রতিক্রিয়া বিরোধীদের
চার পুরনিগমের ভোটের পরই বিজেপি নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছিল ভোট বাতিলের। ভোট সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে নতুন করে ভোটের দাবি তুলেছিল বিজেপি। নির্বাচন কমিশন তা খারিজ করে দেওয়ায় বিধাননগর ও আসানসোলের পুরভোট বাতিলের দাবিতে হাইকোর্টে পর্যন্ত গিয়েছে বিজেপি। কিন্তু রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চার পুরভোটে বিপুল জয়ের পর তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানিয়ে দিলেন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে রাজ্যে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাফ কথা, দু-একটা বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া রাজ্যের চার পুরসভার ভোটে কোনও অশান্তি হয়নি। একেবারে পিসফুল নির্বাচন। মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছে। কোনওরকম ভোটলুঠ হয়নি। বিরোধীদের অভিযোগ সর্বৈব মিথ্যা। মানুষের কাছে প্রত্যাখ্যান মেনে নিতে না পেরেই ওরা নানা অভিযোগ করছে।
যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কথার বিপরীত প্রতিক্রিয়াও মিলেছে। মমতার ভোয়-জয়ের প্রতিক্রিয়ায় বেমালুম ভোট-সন্ত্রাসকে এড়িয়ে গেলেও বিরোধীরা জানিয়েছেন, এত কিছু ঘটার পরেও যদি রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান যিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীও, তিনি যদি বলেই কিছুই ঘটেনি, তাহলে রাজ্যের পরিস্থিতি যেমন হওয়ার কথা, ঠিক তেমনটাই রয়েছে।
বিজেপির পক্ষে প্রতিক্রিয়ায় দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, ভোট হয়নি, ভোট লুঠ হয়েছে। আমরা আদালতে আবেদন করেছি ভোট বাতিলের। এখন আমরা আদালতের নির্দেশের অপেক্ষায় থাকব। যেরকম ভোট হয়েছে, তাতে যে এমনতর ফল হবে, তা আমরা আগে থেকেই জানতাম। বিজেপির আর এক প্রতিনিধি দেবজিৎ চক্রবর্তী বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় উৎসাহ পাবে ভোট লুঠকারীরা। সামনেই ১০৮ পুরসভার ভোট। এর ফলে সেই ভোটের আগে ভোটলুঠকারীদের উৎসাহ-বর্ধন করলেন তিনি। দেবজিৎ আরও জানান, আমরা দুটি পুরসভা ভোট বাতিলের দাবি করেছি। আরও দুটি পুরসভা ভোট নিয়ে আলোচনা চলছে দলের অন্দরে।
সিপিএম তথা বামফ্রন্টের পক্ষে দাবি করা হয়েছিল, বিধাননগর ও আস,ানলোনের ভোটে সন্ত্রাস হলেও, শিলিগুড়ি ও চন্দননগর পুরসভার ভোট অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। চন্দননগরের ভোটে সেই প্রতিফলন মিললেও, শিলিগুড়িতে কিন্তু বিজেপি ও সিপিএম উভয়েই ধরাশায়ী হয়েছে। আর বিধাননগরে মুছে গিয়েছে বিজেপি ও সিপিএম তথা বামফ্রন্ট। আসানসোলেও তৃণমূল ঝড়ে ম্লান বিরোধীরা।
কংগ্রেসের তরফে অধীর চৌধুরী বলেন, এভাবে ভোট লুঠ করে গণতন্ত্রের হত্যা করা হচ্ছে। কী নিদর্শন হয়ে থাকছে বাংলার ভোট। সামনে ১০৮ পুরসভার নির্বাচন, দেখা যাক সেখানে ভোটের সুষ্ঠু ও অবাধ পরিবেশ থাকে কি না, মানুষ ভোট দিতে পারেন কি না। মানুষ যদি ভোট দিতে না পারেন, তাহলে সঠিক প্রতিফলন উঠে আসবে না। এভাবে ভোটের নামে প্রহসন হয়েই চলেছে বাংলায়।












Click it and Unblock the Notifications