স্ট্রোকের আগাম পূর্বাভাস এবার অ্যাপের মাধ্যমেই, দাবি স্ট্রোক ফাউন্ডেশন অফ বেঙ্গলের
স্ট্রোক ফাউন্ডেশন অফ বেঙ্গল 'রিস্কোমিটার’ নামে একটি নতুন অ্যাপ বাজারে নিয়ে আসতে চলেছে যা অদূর ভবিষ্যৎ মানুষকে স্ট্রোকের হাত থেকে বাঁচাতে সাহায্য করবে। স্ট্রোক ফাউন্ডেশন অফ বেঙ্গলের বা এসএফবির কর্মকর্তারা এই 'অ্যাপের' ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী। তারা মনে করছেন যে এই অ্যাপ ব্যবহারের ফলে অতর্কিত স্ট্রোকের মতো ঘটনা আগের থেকেই অনেকটাই আটকানো সম্ভব হবে।

স্মার্ট ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষ ভাবে তৈরি এই অ্যাপটি ইংরেজি ও বাংলা ভাষা সহ মোট ১২টি ভাষায় ব্যবহার করা যাবে। যার ফলে প্রায় সব ভাষাভাষীর মানুষেরাই এই অ্যাপের সুবিধা ভোগ করতে পারবে। গুগল প্লে-স্টোরেই মিলবে এই বিশেষ প্রযুক্তির অ্যাপ।
চিকিৎসকদের কথায়, সাধারণত মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে রক্ত সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটলে স্ট্রোকের মতো ঘটনা ঘটে। যার ফলে পক্ষাঘাতের শিকার হয় সাধারণ মানুষ। এমনকি একাধিক ক্ষেত্রে যার ফলে মৃত্যু পর্যন্তও হতে পারে। স্ট্রোক ফাউন্ডেশন অফ বেঙ্গলের এক প্রবীণ কর্মকর্তা বলেন, কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির আগাম স্ট্রোকের সম্ভাবনা অনুধাবন করতে অ্যাপ ব্যবহারকারীদের প্রথমে একটি প্রশ্নপত্র পূরণ করতে হবে।
ব্যবহারকারীদের উত্তরের ভিত্তিতেই এই অ্যাপটি স্ট্রোকের সম্ভাবনা সম্পর্কে আগাম পূর্বাভাস দিতে সক্ষম হবে। ওই সংস্থার আর এক বিশেষজ্ঞের মতে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথেই নিকট ভবিষ্যতে এই অ্যাপ মানুষের অতর্কিত মৃত্যুর সম্ভাবনাকে অনেকটা আটকাতে সম্ভব হবে।
স্ট্রোক ফাউন্ডেশন অফ বেঙ্গলের প্রায় সব সদস্যরাই 'রিস্কোমিটার' কে তাদের এক বড়সড় সাফল্য বলেই মনে করছেন। ওই সংস্থার এক গবেষকের কথায়, "স্ট্রোকের মতো ঘটনা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে সারা দেশ জুড়ে। যা নিয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক পরিমাণে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। " ওই সংস্থার অপর এক কর্মকর্তা বলেন, "স্ট্রোকের মতো কঠিন রোগও ৮০-৯০ শতাংশ রোধ করা সম্ভব, যদি তা আগে থেকেই চিহ্নিত করে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া যায়।" যদিও এই ক্ষেত্রে তিনি একশ্রেণীর মানুষের সচেতনতার অভাবকেই এই রোগের মূল কারণ হিসেবে দায়ী করছেন।
অতিরিক্ত চিন্তা বা উচ্চ রক্তচাপকেই স্ট্রোকের জন্য অন্যতম কারণ হিসাবে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি অতিরিক্ত চিন্তা, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের পরিমান বৃদ্ধি, অতিরিক্ত ধূমপান করার মতো কারণ গুলি অনেকাংশে স্ট্রোকের জন্য দায়ী। এই বিষয়েও নবনির্মিত রিস্কোমিটার জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে সক্ষম হবে বলে করছেন এসএফবি-র কর্মকর্তারা। দেশের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশের মধ্যেই এই সমস্যা দেখা যায় বলেও জানান তারা। এসএফবির আধিকারিকদের মতে প্রাথমিক কারণ গুলিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই স্ট্রোকের মতো ঘটনাকে অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।












Click it and Unblock the Notifications