তৃণমূলের ভার্চুয়াল বৈঠকে মমতা-অভিষেকের কড়া নির্দেশ কর্মীদের, দিলেন বড় 'পেপটক'
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হবে আগামী সোমবার। এর আগে শনিবার, তৃণমূল কংগ্রেস ২৯৪টি কেন্দ্রের কাউন্টিং এজেন্টদের নিয়ে তিন ঘণ্টার এক ভার্চুয়াল বৈঠকে বসে। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন।
তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এজেন্টদের জানান, দল দু'শোর বেশি আসনে জিতছে এবং জয়ের ব্যবধান কম হলে পুনর্গণনার দাবি তুলতে হবে। তিনি নিজে ৪ জুন বিকেলে বিজয় ঘোষণা না করা পর্যন্ত কোনো এজেন্ট গণনাকেন্দ্র ত্যাগ করবেন না। আক্রান্ত কর্মীদের পুরস্কৃত করার কথাও জানান দলনেত্রী।

ব্যক্তিগত শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মমতার পরামর্শ ছিল: ''কাউন্টিং এজেন্টরা হালকা খাবার খাবেন। বাইরের জল নেবেন না, বাড়ির জল নেবেন। পান, বিড়ি, সিগারেট ওইদিন বা আগেরদিন কেউ নেবেন না। কাউন্টিং সেন্টারে চা খেতে না দিলে ওদেরই ব্যবস্থা করতে বলবেন।"
এজেন্টদের অভয় দিয়ে মমতা বলেন, ''আপনারা জিতবেন। ১০০০ বা ২০০-৩০০ ভোটে জিতলে পুনর্গণনা চাইবেন।" তিনি ভোর ৫টার মধ্যে গণনাকেন্দ্রে পৌঁছে, ডায়েরি নিয়ে ইভিএম খোলার সাথে সাথে তথ্য নোট করার নির্দেশ দেন। কঠোর বার্তা দেন, ''দুর্বল হলে তৃণমূল করার দরকার নেই।"
কারচুপির বিষয়ে মমতা আরও সতর্ক করেন: ''আপনাদের চোখ ধাঁধিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে। কাউন্টিং সেন্টারে চোখ খোলা রাখবেন। ডেটা ঠিক করে কম্পিউটারে তুলছে কিনা, সেদিকে নজর রাখবেন। আপনার ভোট বিজেপির ঘাড়ে দিয়ে দিতে পারে।"
কর্মীদের কঠোর পরিশ্রমকে সম্মান জানিয়ে দলনেত্রী বলেন, ''খুব কষ্ট করে লড়াই করেছেন আপনারা, জিততে হবে। যাঁরা কষ্ট করেছেন, আক্রান্ত হয়েছেন, দল তাঁদের পুরস্কৃত করবে।"
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একুশের নন্দীগ্রামের ফলাফল স্মরণ করিয়ে লোডশেডিং ও বাহিনী দিয়ে অত্যাচারের সম্ভাবনা সম্পর্কে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, ''ওরা চাইবে লোডশেডিং করতে, বাহিনী দিয়ে অত্যাচার করা। ছাত্র সংগঠন ট্রান্সফরমার ঘিরে রাখবে। বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুরে নজর রাখবেন।"
সিআরপিএফের সম্ভাব্য বাড়াবাড়ি প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, ''সিআরপিএফ যদি অত্যাচার করে, আপনারাও ঝান্ডা নিয়ে থাকবেন।" তিনি আত্মরক্ষার অধিকারের ওপর জোর দেন, ''আমাকে যদি কেউ মারে আমার আত্মরক্ষার অধিকার আছে।"
ভোটগণনায় সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত কারচুপির বিশদ বিবরণ দেন অভিষেক। কারচুপি রুখতে তিনি বলেন: ''ইভিএম আনার পর ফর্ম ১৭ সি-র সঙ্গে সিরিয়াল নম্বর মেলাতে হবে। নম্বর ম্যাচ না করলে মেশিন খোলা যাবে না। ভিভিপ্যাট কাউন্টিংয়ের দাবি জানাতে হবে।"
অভিষেক আরও বলেন, নম্বর মিললে সিল, তারিখ ও সময় যাচাই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ও দ্বিতীয় দফার মোট ভোট এবং টোটাল বোতামের নম্বর ১৭ সি ফর্মের সাথে মিলিয়ে তবেই রেজাল্ট বোতাম টিপে প্রতিটি প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট নোট করতে হবে।
তিনি এজেন্টদের ডায়েরি নিয়ে এবং সুবিধা অ্যাপে ডেটা গণনাকেন্দ্রেই সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। অভিষেক সতর্ক করেন, ''কিন্তু কোন প্রার্থী ক'টা ভোট পেয়েছে সেটা ফরম্যাট করে নিয়ে যাবেন, নোট করবেন। এই চুরি বিহারে, দিল্লিতে হয়েছে।"
কর্মীদের সম্ভাব্য ভয়ভীতি প্রদর্শনের কৌশল সম্পর্কে অভিষেক বলেন, ''কোথাও অবজার্ভার গিয়ে বলল, আপনাকে থানায় যেতে হবে। কেউ এরকম বললে লিখিত দেখতে চাইবেন। থানায় নিয়ে যেতে হলে পুলিশ করবে। এগুলো ভয় দেখানোর কৌশল।"
তিনি কর্মীদের আগামী দু'দিন শক্ত থাকার আহ্বান জানান। দৃঢ় কণ্ঠে অভিষেক বলেন, ''একটা বাঙালির উপর ডান্ডা পড়লে তার জবাব হবে।"












Click it and Unblock the Notifications