মুকুল তৃণমূলের চর! মোদী-অমিত শাহদের হাতে সেই চিঠি, রহস্যে ঘেরা জল্পনা
যে পার্টি মুকুলের অঙ্গুলিহেলনে তৈরি হয়েছিল, যে পার্টিতে তাঁর অনুগামীরাই রয়েছেন, তাঁরাই এখন মুকুলকে তৃণমূলের চর প্রতিপন্ন করতে চাইছেন।
'তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে মুকুল রায়ের সম্পর্কত্যাগের বিষয়টি পুরোটাই সাজানো ঘটনা। মুকুল রায় যে তৃণমূল ত্যাগের কথা ঘোষণা করছেন, তা নাটক ছাড়া আর কিছু নয়। বিশেষ কোনো উদ্দেশ্যে নিয়েই তিনি তৃণমূল ছাড়ার ভান করছেন।' এমনকী মুকুল রায়কে তৃণমূলের চর বলেও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সম্প্রতি বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে।

ন্যাশনালিস্ট তৃণমূল কংগ্রেস পার্টির তরফে এই চিঠি লেখা হয়েছে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতিকে। চিঠি দেওয়া হয়েছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা তথা পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়কে। দলের সভাপতি হিসেবে অমিতাভ মজুমদার বিজেপিকে সাবধান করে দিয়ে চিঠি মারফত জানিয়েছেন, 'মুকুল রায় আপনাদের দলে যাচ্ছেন ক্ষতি করতে। তাঁর গতিবিধি রহস্যজনক। তিনি আসলে তৃণমূলের চর। আপনারা সাবধান হন।'
আর এই দাবিতেই রহস্য ঘণীভূত হয়েছে। যে পার্টি মুকুলের অঙ্গুলিহেলনে তৈরি হয়েছিল, যে পার্টিতে তাঁর অনুগামীরাই রয়েছেন, তাঁরাই এখন মুকুলকে তৃণমূলের চর প্রতিপন্ন করতে চাইছেন। এই ঘটনায় মুকুল রায় বেশ বিব্রত। বিজেপিও চিঠি পাওয়ার পর মুকুল রায়কে নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে।

তাঁদেরও মনে হয়েছে, মুকুলের গতিবিধি সত্যিই রহস্যে ঘেরা। তিনি আসলে কী চাইছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিজেপিও তাই সাবধানী পদক্ষেপ নিতে চলেছে। ধীরে পা ফেলতে চাইছে মুকুল প্রসঙ্গে। এদিনই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা মুকুল রায়কে নিয়ে রাজ্যের তৃণমূলস্তরের নেতাদের অভিমত জানতে মূল্যায়নের ব্যবস্থা করেছিল। তারপরই এই ঘটনা রহস্য বাড়িয়ে দিল আরও।
সারদা মামলায় মুকুল রায় যখন দলে কোণঠাসা, তখনই মুকুল ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা অমিতাভ মজুমদার ন্যাশনালিস্ট তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করতে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছিলেন। মুকুলের পরামর্শেই এই দল তৈরি হয়েছিল। মুকুল রায় তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করলে এই দলে আসবেন, এমনটাই স্থির ছিল। কিন্তু দুবছর পর তৃণমূল ত্যাগ করলেও মুকুল রায় ন্যাশনালিস্ট তৃণমূল পার্টিতে যোগ দেননি। উল্টে তিনি বিজেপির দিকেই পা বাড়িয়ে রয়েছেন। সেখানেই চক্রান্তের গন্ধ পাচ্ছেন মুকুল ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতারা।

তৃণমূলের পরিবারতন্ত্র নিয়ে মুখ খুললেও সারদা ও নারদ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে ক্লিনচিট দিয়েছেন মুকুল। এই ঘটনাও বিস্মিত করেছে অনেককে। মুকুল রায় দল ছেড়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কালিমালিপ্ত করতে চাইছেন না। এ প্রসঙ্গে বিপরীতপন্থী যুক্তিটিও অবশ্য ফেলে দেওয়া যায় না। আসলে মুকুল নিজেও কালিমামুক্ত নন, তাই উসকে ঘা করতে তিনি চান না। এটা তাঁর সাবধানী পদক্ষেপও হতে পারে।
কিন্তু তাঁকে ন্যাশনালিস্ট তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। অমিতাভবাবুরা জানিয়েছেন মুকুল রায়ই আমাদের অনুপ্রেরণা, তাঁর নির্দেশেই এই পার্টি। তাহলে তিনি কেন দল ছেড়েও এই পার্টির দায়িত্ব নেবেন না! তিনি বিজেপিতে যেতে চাইছেন কিছু উদ্দেশ্য নিয়ে। তাঁর তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়া নিয়েও সন্দেহ দানা বাঁধছে তাই।

দিল্লিতে স্পিডপোস্টের মাধ্যমে অমিতাভ মজুমদার বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ, পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক কৈলাশ বিজয়বর্গীয়কে এই চিঠি পাঠানোয় রাজনৈতিক মহলে কৌতুহল তৈরি হয়েছে। এই চিঠিতে তাঁকে তৃণমূলের চর বলে উল্লেখ করে ব্যবস্থা নেওয়ারও আবেদন জানানো হয়েছে ন্যাশনালিস্ট তৃণমূল কংগ্রেস পার্টির তরফে।












Click it and Unblock the Notifications