হাওড়ায় রূপার হয়ে ভোট প্রচারে এসে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ মোদীর
হাওড়া, ২১ এপ্রিল : ফের একবার ভোটের প্রচারে এসে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ও দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিন প্রথমে বসিরহাটে শমীক ভট্টাচার্য ও পরে হাওড়ায় দলের প্রার্থী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের হয়ে প্রচার করেন মোদীজি।
সভায় বক্তৃতা করার সময়ে শুরু থেকে শেষ একেবারে চাঁচাছোলা ভাষায় রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন তিনি। সারদা চিটফান্ড থেকে নারদা ঘুষকান্ড, বিবেকানন্দ উড়ালপুল ভেঙে পড়া থেকে শুরু করে কর্মসংস্থানের বেহাল দশা, সবেতেই আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি।

উড়ালপুল ভেঙে পড়া নিয়ে মোদীজি জানান, সেতু ভেঙে পড়েছে। এটা তৃণমূল সরকারের ব্যাপক দুর্নীতির উদাহরণ। এক্ষেত্রে বামেদেরও একযোগে আক্রমণ করে বলেছেন, যারা শুরু করেছে, এবং যারা শেষ করার দায়িত্ব নিয়েছেন দুজনেই দোষী।
গোটা বক্তৃতায় চিটফান্ড নিয়ে সবচেয়ে বেশি সরব ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, সারদা চিটফান্ডে গরিব মানুষের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। তৃণমূল সরকার গরিব মানুষের টাকা লুঠ করেছে।
নারদা কাণ্ড নিয়েও তৃণমূলকে আক্রমণ করে মোদীজি বলেন, ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে কীভাবে একেরপর এক তৃণমূল নেতা পকেটে টাকা ভরছেন। দেখে মনে হচ্ছে এরা এতে অনেকদিন ধরে টাকা নিতে অভ্যস্ত।
মোদীজি বলেন, এই লুঠ হওয়া টাকা জনগণের। এই টাকা যারা লুঠ করেছে, চুরি করেছে তাদের ক্ষমা করবেন না। এমন শিক্ষা দিন যাতে এরা আর কোনওদিন এমন করতে না পারে।
সারদায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে গরিবদের। প্রধানমন্ত্রীর মতে, ভোটের আগে গরিবদের নামের মন্ত্র জপে বিরোধীরা। গরিবদের ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি হিসাবে দেখে। কিন্তু কখনও এরা গরিবের উন্নয়ন করেনি।
দুর্নীতির প্রশ্নে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আক্রমণ করতে ছাড়েননি মোদীজি। বলেন, কোন দলের নেতারা সারদার সঙ্গে যুক্ত, কারা টাকা খেয়েছে, টিভিতে সকলে দেখেছে। দিদি এসব দেখে চুপ কেন, এমন পরিবর্তন কেমন করে হল দিদি? বক্রোক্তি করে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর সব শুনে জনতা হাততালিতে ফেটে পড়েছে। যদিও এর কতোটা ভোটবাক্সে প্রভাব ফেলবে তা ১৯ মে ভোটের ফল বেরলেই বোঝা যাবে।












Click it and Unblock the Notifications