Municipal Election 2022: এড়ানো গেল না হিংসা, রিগিং! ৩ জায়গায় পুলিশ-কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ বিরোধীদের
অভিযোগটা একটা সময়ে উঠত বিহার আর উত্তর প্রদেশে। কিন্তু ওই দুই রাজ্যে আপাত শান্তিপূর্ণ নির্বাচন (election) হলেও, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে এবারও অশান্তি এড়ানো গেল না। ভয় দেখানো, বিরোধী এজেন্টদের বের করে দেওয়া থেকে শুরু ক
অভিযোগটা একটা সময়ে উঠত বিহার আর উত্তর প্রদেশে। কিন্তু ওই দুই রাজ্যে আপাত শান্তিপূর্ণ নির্বাচন (election) হলেও, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে এবারও অশান্তি এড়ানো গেল না। ভয় দেখানো, বিরোধী এজেন্টদের বের করে দেওয়া থেকে শুরু করে ভুড়ি ভুড়ি অভিযোগ এদিন সকাল থেকে করেছেন পুর নির্বাচনে (municipal election) অংশ নেওয়া বিরোধীরা। বিধাননগরে (bidhannagar) আবার ভুয়ো ভোটারদের বাথরুমে আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা রাজ্যের ভোটে নবতম সংযোজন। যদিও তৃণমূল (Trinamool Congress) মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় শান্তিপূর্ণ ভোটের কারণে চারটি কর্পোরেশন এলাকার মানুষদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।

শুরু থেকেই নজর ছিল বিধাননগরে
এদিন ভোটগ্রহণ শুরুর পর থেকেই সবার নজর ছিল বিধাননগরের দিকে। দিনের শুরু থেকেই ১৩ নম্বর, ৩১ নম্বর, ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে গণ্ডগোল কিংবা ভুয়ো ভোটারদের দিয়ে ভোট দানের খবর আসতে থাকে। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে রাতেই বিজেপির প্রার্থীর বাড়িতে দুষ্কৃতীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ। আর এদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে উত্তর হয়েছে এই ওয়ার্জ। এছাড়াও ৩১ নম্বর ওয়ার্ড ছিল নজর কাড়া। কেননা বিজেপির তরফে দাঁড়িয়েছিলেন দীর্ঘদিনের তৃণমূল নেতা দেবাশিস জানা। তাঁর বিরুদ্ধে প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্ত। দেবাশিস জানা সকাল থেকেই বুথে বুথে ঘুরে বেরিয়েছে। বেলা একটু বাড়তেও এই ওয়ার্ডের মৌলনা আজাগ কলেজের বুথে ভুয়ো ভোটারদের জড়ো হওয়ার খবর পেয়ে সেখানে যায় সংবাদ মাধ্যম। দুজনকে সেখানকার বাথরুম থেকে বের করা হয়। তবে তারা পুলিশের সামনে দিয়ে পালিয়ে যায়। এই ওয়ার্ডের ওপর একটি বুথে এক যুবক জানায় তাঁর নাম রণজিৎ দাস। কিন্তু তাঁর হাতে থাকা কার্ডে দেখা যায় নাম বিশ্বজিৎ ঘোষ। বিধাননগরের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভুয়ো ভোটারের অভিযোগ করেছে বিজেপি। এছাড়াও সারা দিন ধরেই কখনও বাগুইআটি, কখনও কৈখালিতে তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপি কিংবা সিপিএম-এর ঝামেলা বেধেছে ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ইই ব্লকে সিপিএম প্রার্থীর ওপরে হামলার অভিযোগ করে পথে নামেন সেখানকার বাসিন্দারা। এক ভুয়ো ভোটারের পিছনে তাড়া করতে গেলে টেলিভিশন চ্যানেলের ওক সাংবাদিকের ওপরে হামলা করা হয় বলে অভিযোগ। এছাড়া অনেকটা সময়ে সংবাদ মাধ্যমকে দেখে ভুয়ো ভোটারদের ছুটে পালাতে দেখা গিয়েছে। বিজেপি ও সিপিএম প্রার্থীদের অভিযোগ অভিযোগ করলেন পুলিশ কিংবা নির্বাচন কমিশন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।

নজরে ছিল আসানসোল
এদিন সকাল থেকেই নজরে ছিল আসানসোল। সকাল থেকেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি গাড়ি নিয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরতে থাকেন। একটা সময় গিয়ে পুলিশ তাঁকে বাধা দেয়। দুপুরের দিকে নিজের ওয়ার্ডে ঘোরার সময় তাঁর গাড়ি আটক করে পুলিশ। অন্যদিকে ভুয়ো ভোটার নিয়ে অভিযোগ ওঠায় নিজের স্ত্রী চৈতালি তিওয়ার হয়ে ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়েছিলেন, আসানসোলের প্রাক্তন মেয়র তথা বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারি। তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল। অন্য ওয়ার্ডে গেলে তাঁর বিরুদ্ধে সশস্ত্র রক্ষী নিয়ে ঘোরার অভিযোগ করে তৃণমূল। পরে তাঁকেও নোটিশ ধরায় নির্বাচন কমিশন। ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে দুষ্কৃতীরা বিজেপি প্রার্থীর ওপর হামলা চালিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। ১২ নম্বর ওয়ার্ডে গ্রামবাসী ও সিপিএম প্রার্থীকে ভয় দেখা তৃণমূল বহিরাগতদের জড়ো করেছিল বলে অভিযোগ। একটা সময়ে গিয়ে সেইসব বহিরাগতরাই গুলি চালাতে শুরু করে বলে অভিযোগ সিপিএম প্রার্থী দয়াময় বাউড়ি এবং তাঁর মেয়ে। প্রার্থীর মেয়ে লিপি দাস ফেসবুক লাইভ করে গুলি চালানো এবং হাতে অস্ত্র নিয়ে ঘোরা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। এছাড়াও ৬৮ নম্বর ওয়ার্ডে ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। বিজেপি ও সিপিএম অভিযোগ করেছেন প্রায় সব জায়গাতেই হামলা চালিয়েছে তৃণমূল। পুলিশ এবং নির্বাচন কমিশনকেও জানিয়েও কোনও ফল হয়নি।

চন্দননগরেও ভোট লুট ও হামলার অভিযোগ
অভিযোগ থেকে বাদ যায়নি চন্দননগরও। বেলা শুরুর দিকে গোন্দলপাড়ায় বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের ঝামেলার খবর আসে। তবে চন্দননগরের বিভিন্ন জায়গায় ভোট লুট ও হামলার অভিযোগ মহকুমা শাসকের দফতরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ করে বিজেপি। তুলনামূলক ভাবে চন্দননগর ছিল শান্ত।

শিলিগুড়িতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ অশোক ভট্টাচার্যের
এদিন শিলিগুড়িতেও পুরভোট নিয়ে উত্তেজনা ছিল। সকাল থেকে বিজেপির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ এবং রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্যকে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে দেখা যায়। অশোক ভট্টাচার্য তৃণমূলের বিরুদ্ধে বুথে ভুয়ো ভোটার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। ভোটে দিয়ে বেরিয়ে তিনি কেঁদে ফেলেন। কেননা স্ত্রী বিয়োগের কারণে এবার তিনি একাই বেরিয়ে ছিলেন ভোট দিতে। বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বিধাননগর এবং আসানসোল নিয়ে অভিযোগ করলেও বলেছেন শিলিগুলিতে তাদের ফল ভাল হবে।

জিরো টলারেন্স নীতি কমিশনের
রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে সকালে সব থেকে বেশি অভিযোগ আসে বিধাননগর থেকে। তারপরেই স্থান আসানসোলের। জানা গিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় কোনও অশান্তি হলেই জিরো টলারেন্স নীতি নিতে হবে। বিরোধীরা পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেও সংবাদের লাইভ সম্প্রচারে বিকেলের দিকে পুলিশকে ছুটতে দেখা গিয়েছে। অন্যদিকে এদিন বেলা ৫ টা পর্যন্ত আসানসোলে ৭১.৯৮%, বিধাননগরে ৭১.৩২%, চন্দননগরে ৭১.০৬% এবং শিলিগুড়িতে ৭৩.০৫% ভোট পড়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর।












Click it and Unblock the Notifications