বসিরহাটে জেলের ভিতরে এক হল চারহাত, কব্জি ডুবিয়ে ভুরিভোজ কয়েদি থেকে পুলিশের
এই প্রথম বিয়ের সাক্ষী থাকল বসিরহাট উপ-সংশোধনাগার। জয় হল ভালোবাসার। আজ থেকে ঠিক এক বছর আগে বসিরহাট মহকুমার হাসনাবাদ থানার চকপাটলি গ্রামের ২৮ বছরের যুবক মইদুল গাজীর সঙ্গে একই গ্রামের ২৭ বছরের যুবতী মমতাজ খাতুনের সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হয়। কয়েক মাস ধরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই যুবক যুবতীর সাথে একাধিক বার সহবাস করে বলে অভিযোগ। এরপরে মমতাজ মইদুলকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিতে শুরু করে। মইদুল সামান্য রাজি হলেও যুবকের পরিবারের মানতে চায়না ও তারা এই বিয়েতে সম্মতি দেয় না। তখন মমতাজ ওই যুবকের বিরুদ্ধে হাসনাবাদ থানায় বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস করার অভিযোগ করলে যুবককে গ্রেফতার করা হয়।

বসিরহাট মহকুমা আদালতের বিচারক ইন্দ্রাণী গুপ্ত যুবককে জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। তারপরে ছেলের পরিবার রাজি হওয়ায় বসিরহাট মহকুমা আদালতের বিচারক, বসিরহাটের মহকুমা শাসকের নির্দেশে বৃহস্পতিবার বসিরহাট উপ-সংশোধনাগারে বিয়ের আয়োজন হয়। কাজী দীন ইসলাম বৈদ্য এই বিয়ের পড়ান।
মেয়ের হাতে মেহেন্দি, গলায় মালা, কানে দুল। অন্যদিকে ছেলের হাত মেহেন্দি, গলায় মালা ও মাথায় টুপি। মুসলিম শরীয়তে নিয়মে বিবাহ সম্পন্ন হয়। সরকারিভাবে রেজিস্ট্রি করে বিবাহ সম্পন্ন হয়। দুটো পরিবারের তরফ থেকে এই বিয়েতে উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
বসিরহাট পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের মহল্লা প্রধান অসিত মজুমদার, জেলার সৌম্যভ মুখার্জি, আইনজীবী আসিফ আলম ও সুবির কুমার ঘোষ সহ জেলের কয়েদি, বাংলাদেশি কয়েদিরাও উপস্থিত ছিল। রীতিমতো কব্জি ডুবিয়ে মেনু সাজিয়ে ভূরিভোজ খেলো পাত্র-পাত্রী থেকে শুরু করে সমস্ত মানুষ। জেলবন্দি কয়েদিরা খেলেন ভাত, মুড়োঘন্ট, বেগুনি, মাছ, চিকেন কষা, চাটনি, পাপড়, রসগোল্লা, সন্দেশ অবশেষে মিষ্টি পান। আজ এই দিনটার জন্য সবাই আনন্দে দিশেহারা। জেলবন্দি কয়েদিদের মুখে হাসি চার হাত এক জায়গায় হওয়ায়।












Click it and Unblock the Notifications