কমিশনের ভূমিকায় তীব্র অসন্তোষ, এসআইআর বন্ধের দাবি মমতার
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার সমালোচনায় সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, তাঁর পর এবার কমিশনে যাবেন খোদ দলনেত্রী মমতা।
আজ মমতা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে রাজ্যে চলতে থাকা এসআইআর প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এসআইআর যেভাবে চলছে তাতে তা 'ব্যাপক ভোটারবঞ্চনা' ঘটাতে ও 'গণতন্ত্রের ভিত্তিমূলে আঘাত হানতে' পারে।

গতকাল দেওয়া একটি কড়া চিঠিতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে 'অপরিকল্পিত, অপ্রস্তুত ও অ্যাডহক' প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধানের অভিযোগ করেছেন। এর মাধ্যমে 'গুরুতর অনিয়ম, পদ্ধতিগত লঙ্ঘন এবং প্রশাসনিক ত্রুটি' হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ২০ নভেম্বর ও ২ ডিসেম্বর তারিখে লেখা পূর্ববর্তী দুটি চিঠি পাঠানোর পরেও বাস্তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।
এই উদ্বেগ নথিবদ্ধ করে তিনি লেখেন, "আমি আবারও আপনার কাছে লিখতে বাধ্য হচ্ছি আমার গভীর উদ্বেগ নথিভুক্ত করার জন্য।" মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আক্ষেপ করে যোগ করেন, "দুর্ভাগ্যবশত, কোনও সংশোধনমূলক পদক্ষেপ না নিয়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।"
এই প্রক্রিয়ার 'অপ্রয়োজনীয় তাড়াহুড়ো' এবং 'পর্যাপ্ত প্রস্তুতি বা ভিত্তি তৈরি' না হওয়াকেই তিনি 'মৌলিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ' উল্লেখ করেছেন। এই সমস্যাগুলি 'দৃষ্টান্তমূলক, তবে কোনওমতেই ব্যাপক নয়' হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।
তাঁর চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দৃঢ়ভাবে লেখেন, "সামগ্রিকভাবে, এই ত্রুটিগুলি প্রমাণ করে যে বর্তমান SIR প্রক্রিয়া গভীরভাবে আপোসকৃত এবং আমাদের গণতন্ত্রের মৌলিক কাঠামোগত ভিত্তিকেই আঘাত করছে।" তিনি কঠোরভাবে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, অবিলম্বে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ না নিলে "অপূরণীয় ক্ষতি" এবং "ব্যাপক ভোটাধিকার হরণ" এড়াতে "এই প্রক্রিয়া অবশ্যই বন্ধ করতে হবে"।
তিনি অভিযোগ করেন, এই কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা সঠিক বা অভিন্ন প্রশিক্ষণ পাননি। ব্যবহৃত আইটি ব্যবস্থাগুলিকে 'ত্রুটিপূর্ণ, অস্থিতিশীল ও অবিশ্বস্ত' হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, "সময় সময় জারি করা নির্দেশিকাগুলি অসঙ্গতিপূর্ণ এবং প্রায়শই পরস্পরবিরোধী।"
মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, জাতীয় ও রাজ্য উভয় স্তরেই স্বচ্ছতা ও পরিকল্পনার অভাবে 'এই গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রহসনে পরিণত করেছে' এবং 'নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সততা নিয়ে জনবিশ্বাসকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে'।
কমিশনের প্রস্তুতির বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, জাতীয় স্তরেও নির্বাচন কমিশন এসআইআর-এর 'নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য, পদ্ধতি ও চূড়ান্ত লক্ষ্য' সম্পর্কে অনিশ্চিত বলে মনে হচ্ছে।
তিনি লেখেন, "যদিও এই প্রক্রিয়াকে সময়বদ্ধ হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে, তবুও কোনও সুনির্দিষ্ট, স্বচ্ছ বা অভিন্ন সময়সীমা নেই।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন রাজ্য এখন ভিন্ন মানদণ্ড অনুসরণ করছে এবং সময়সীমাগুলি স্বেচ্ছাচারীভাবে পরিবর্তন করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর তীক্ষ্ণ সমালোচনার মধ্যে একটি অন্যতম বিষয় তুলে ধরেছেন- গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশাবলি 'আশ্চর্যজনকভাবে অনানুষ্ঠানিক' পদ্ধতিতে জারি করা হচ্ছে। তিনি লেখেন, "গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশাবলী প্রায় প্রতিদিনই, প্রায়শই হোয়াটসঅ্যাপ ও টেক্সট বার্তার মতো অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলের মাধ্যমে জারি করা হচ্ছে।"
সাংবিধানিক গুরুত্বের এই প্রক্রিয়ার জন্য সঠিক লিখিত বিজ্ঞপ্তি, সার্কুলার বা বিধিবদ্ধ আদেশ জারি না হওয়ায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সতর্ক করেন এটি 'নির্ভুলতা, স্বচ্ছতা বা জবাবদিহিতার কোনও সুযোগ রাখে না'। এর ফলে 'গুরুতর অসঙ্গতি' এবং 'প্রকৃত ভোটারদের সম্ভাব্য ভোটাধিকার হরণের' ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
গুরুত্বর অভিযোগ উত্থাপন করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ না করে এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের অধীনে বিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষ হিসাবে নির্বাচনী নিবন্ধন কর্মকর্তাদের জ্ঞান বা অনুমোদন ছাড়াই 'আইটি সিস্টেমের অপব্যবহারের মাধ্যমে ভোটারদের ব্যাকএন্ড থেকে মুছে ফেলার' ঘটনা ঘটেছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, "এটি গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করে যে, কে এই ধরনের পদক্ষেপের অনুমতি দিয়েছে এবং কোন আইনি কর্তৃপক্ষের অধীনে। এর তত্ত্বাবধানে বা নির্দেশনায় পরিচালিত কোনও বেআইনি, স্বেচ্ছাচারী বা পক্ষপাতদুষ্ট কাজের জন্য নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণরূপে জবাবদিহি করতে হবে।"
-
আরও একটি সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন, আর কত নাম নিষ্পত্তি হওয়া বাকি? -
মালদহের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই, মমতার তোপে কমিশন -
মমতা সাধারণ মানুষকে দিচ্ছেন, নিয়ে নিচ্ছেন মোদী! দাবি অভিষেকের -
মালদহের অশান্তি নিয়ে বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলল মমতা, সুতির সভা থেকে শান্তির বার্তা -
কালিয়াচক কাণ্ডের পর ফের অশান্তি! অমিত শাহ-র রোড শো ঘিরে ভবানীপুরে ধুন্ধুমার, হাতাহাতি তৃণমূল-বিজেপির -
কালিয়াচক কাণ্ডে উত্তেজনা চরমে! বিচারকদের ঘেরাও-ভাঙচুরে তৃণমূলকে নিশানা সুকান্তর, কী বললেন দিলীপ? -
ভোটের আগে তালিকা সংশোধনে তৎপরতা, সপ্তম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ -
ভোটের আগে ফর্ম ৬ বিতর্কে উত্তপ্ত রাজ্য,অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে দুই শিবির -
ভোটার তালিকা ইস্যুতে মালদহে বিচারক ঘেরাও এর ঘটনায় রিপোর্ট তলব কমিশনের -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
বিশ্বখ্যাত আইটি সংস্থায় একলপ্তে ৩০ হাজার কর্মী ছাঁটাই, ভারতে কাজ গেল ১২ হাজার জনের -
এবার একটা বড় খেলা হবে, নানুরে মন্তব্য মমতার









Click it and Unblock the Notifications