সারদায় প্রথম সুবিধাভোগী ব্যক্তির নাম মমতা, বিস্ফোরক অভিযোগ কুণাল ঘোষের

কুণাল
কলকাতা , ৮ জুন: সারদা গোষ্ঠী থেকে সবচেয়ে বেশি সুবিধা নিয়েছিলেন যিনি, তাঁর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বার সিবিআই-কে লেখা চিঠিতে সরাসরি এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন কুণাল ঘোষ। তাঁর ৯১ পাতার চিঠি ঘিরে এখন তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।

ওই চিঠিতে কী লিখেছেন কুণাল ঘোষ? অষ্টম পৃষ্ঠার প্রথম অনুচ্ছেদে কুণালবাবু লিখেছেন, "সারদায় প্রথম সুবিধাভোগী ব্যক্তির নাম মমতা। এটা কোনও টাকা নেওয়ার থেকেও বেশি। উনি টাকা নিয়েছেন কি নেননি, আমি সে বিষয়ে বলছি না। বলছি, সরাসরি টাকা নেওয়ার থেকেও সুবিধা নেওয়া কি কম?" প্রসঙ্গত, এর আগে কুণাল ঘোষ বলেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মুকুল রায়, মদন মিত্রদের জিজ্ঞেস করলে সারদা কেলেঙ্কারির অনেক কিছু জানা যাবে। কিছুদিন আগে বিধাননগর আদালত চত্বরে কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেছিলেন, সারদা কেলেঙ্কারিতে দোষীদের আড়াল করছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু এভাবে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আগে কাঠগড়ায় তোলেননি তিনি।

কুণালবাবুর চিঠির ছত্রে-ছত্রে রয়েছে বিস্ফোরক দাবি। পঞ্চম পাতার চতুর্থ অনুচ্ছেদে কুণাল ঘোষ লিখেছেন, "সারদার ক্ষেত্রে দেখলাম, তৃণমূলের প্রভাবশালীরা মালিকের বন্ধু। আমি তো শুধু মিডিয়া দেখতাম, বাকিরা তো নানাভাবে যুক্ত।"

ওই পাতারই সপ্তম অনুচ্ছেদে কুণালবাবু লিখেছেন, "প্রথমে আমাকে সামনে রেখে গোটা মিডিয়াটা ব্যবহার করা হল। কাগজের প্রতি লাইন, টিভি-র প্রতিটা মিনিট দিদির জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল। নিরপেক্ষ কিছু হলেই ফোনে ধমক, মালিককে চাপ।"

অষ্টম পাতার দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে কুণাল ঘোষ লিখেছেন, "মনে রাখুন ২০০১ সালেও মমতার সঙ্গে কংগ্রেসের জোট হয়েছিল। তখন কিন্তু মমতা জেতেননি। ২০১১-তে জিতলেন। পারিপার্শ্বিক কারণগুলির মধ্যে সারদা একটা বড় ফ্যাক্টর। সারদার যা সুফল মমতা পেয়েছেন, আর কেউ পাননি এতটা।"

ষোলো নম্বর পাতার পঞ্চম অনুচ্ছেদে তিনি বলেছেন, "সারদা মিডিয়ার পূর্ণ সুবিধা নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস ও এখনকার রাজ্য সরকার। কাগজের প্রতি পাতা, চ্যানেলের প্রতি মিনিট প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রচার দিয়েছে তাদের। এখন আমাকে মিথ্যা অভিযোগে হয়রান করে নিজেদের আড়াল করছে। পুলিশ একতরফাভাবে কাজ করছে। ওপর মহলের নির্দেশে চলছে। আমি হতাশ, বীতশ্রদ্ধ।"

চিঠিতে তিনি আরও লিখেছেন, "মদন মিত্র ছিলেন সুদীপ্ত সেনের অভিভাবক! উনি যা বলতেন, সুদীপ্তবাবু তাই-ই করতেন।"

এদিকে, এই চিঠি ঘিরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিরোধীরা। কংগ্রেস নেতা আবদুল মান্নান বলেছেন, "যদি মুখ্যমন্ত্রী মনে করেন, কুণাল ঘোষ যা বলেছেন সেটা ভুল, তা হলে উনি মানহানির মামলা করুন। তবেই বুঝব আমাদের মুখ্যমন্ত্রী সততার প্রতীক।" তাঁর আরও অভিযোগ, বিধাননগর পুলিশ তদন্তে মেনে বারবার চেষ্টা করেছে আসল অপরাধীদের বাঁচানোর। তাই সিবিআই তদন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সততা নয়, শঠতার প্রতীক। কুণাল ঘোষ যা বলেছেন, ঠিক বলেছেন।"

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+