বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাছ-মাংস নিষিদ্ধ করবে! পাল্টা হুঙ্কার ছেড়ে মমতা বললেন "আমি ৪৪০ ভোল্ট"
বিজেপি যদি ক্ষমতায় আসে, তবে তারা বাংলায় মাছ-মাংস নিষিদ্ধ করে দেবে। আমি শুনেছি বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, খোলা বাজারে মাছ-মাংস বিক্রি করা যাবে না। কেবল যাদের লাইসেন্স আছে তারাই ঘরের ভেতরে মাংস বিক্রি করতে পারবে। তাহলে কি সবাই এখন শপিং মলে মাছ-মাংস বিক্রি করবে? আজ এই প্রশ্ন তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি বলেন, খুব অল্প সংখ্যক মানুষেরই সেই আর্থিক ক্ষমতা আছে। আমাদের এখানে বেশিরভাগ মাছ বিক্রেতা রাস্তায় টাটকা মাছ বিক্রি করেন। এভাবেই ওরা রুটি-রুজি রোজগার করে। আমি এই ধরণের রাজনীতির তীব্র নিন্দা জানাই।

বিজেপি ও নির্বাচ কমিশনকে চ্যালেঞ্জ করে মমতা বলেন, আমি ওদের চ্যালেঞ্জ করছি- সমস্ত বৈধ ভোটারদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় রেখে একটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করে দেখান। কিন্তু আপনারা যদি আমাদের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিতে চান, তবে মনে রাখবেন কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না। মানুষ একদিন এর জবাব দেবে। কোনও চেয়ারই চিরস্থায়ী নয়। জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে কী হয়েছিল? আমি শুনেছি, তাঁকে 'ওয়েস্টার্ন কোর্ট'-এর একটা ঘরে তিন মাস আটকে রাখা হয়েছিল। পহেলগাঁও বা পুলওয়ামায় কী ঘটেছিল তা কি মানুষ জানতে পারবে না? সেনাপ্রধানরা এখন মুখ খুলছেন। এতগুলো মৃত্যুর জন্য কে দায়ী ছিল? বাংলায় একটা পটকা ফাটলেও প্রতিবার NIA পাঠানো হয়।
মমতার কথায়, একজন মহিলা, যিনি বিজেপির টিকিটে লড়াই করেছেন এবং জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিত্ব করেন, তিনি বাংলায় আসেন ঠিকই, কিন্তু উন্নাও-এর ঘটনার সময় চুপ থাকেন।
নেপালকে নিয়ে আমরা যতটা চিন্তিত ছিলাম, বাংলাদেশকে নিয়ে আমরা ঠিক ততটাই চিন্তিত। আমরা মণিপুর নিয়েও উদ্বিগ্ন ছিলাম। সে রাজ্য এখনও জ্বলছে। আপনারা এ পর্যন্ত কতজন অনুপ্রবেশকারী আর রোহিঙ্গা খুঁজে পেয়েছেন? বিহারেও আপনারা অনুপ্রবেশ নিয়ে কথা বলেছিলেন। সেখানে কতজন বাংলাদেশি পেয়েছেন? আপনারা যদি সীমা লঙ্ঘন করেন, তবে আপনারা কাদের আশ্রয় দিয়েছেন আমি তা ফাঁস করে দেব। তাই আমাকে উস্কানি দেবেন না। এই 'তুঘলকি' কমিশনকে ব্যবহার করে পিছনের দরজা দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করবেন না। আমরা চাইলে সবাইকে ঘেরাও করতে পারি। আমরা সহযোগিতা করছি, কারণ আমরা চাই SIR-এর কাজ নির্বিঘ্নে শেষ হোক। নির্বাচনী আধিকারিকরা খুব পরিশ্রম করছেন। অথচ মানুষকে দিনে ১,০০০ করে শুনানিতে হাজির থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে।
মমতা এদিন বলেন, এই SIR-এর কারণে যাঁরা মারা গিয়েছেন এবং যাঁরা এখনও হাসপাতালে ভর্তি, তাঁদের দায়িত্ব কে নেবে? আপনারা আমাদের অবহেলিত মনে করতে পারেন। কিন্তু ভুলে যাবেন না, বাংলা কখনও মাথা নত করে না। উত্তরবঙ্গকে আলাদা করার জন্য লোক পাঠানো হয়েছিল। আপনারা কি ভাবেন আমরা কিছু জানি না? আপনারা পেগাসাস ব্যবহার করেন, কিন্তু আপনাদের গতিবিধি আমাদের জানানোর জন্য আমাদেরও লোক আছে। ওরা প্রচুর বাইক এনেছে। 'বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও'-এর টাকা প্রচারের কাজে খরচ করা হয়েছে। বিহার নির্বাচনের আগে ১০,০০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। তারপর ওরা বুলডোজার নিয়ে ফিরে এলো। এখন ওরা সাধারণ মানুষের উপর সন্ত্রাস চালাচ্ছে। আমি আপনাদের চ্যালেঞ্জ করছি- সাহস থাকলে বৈধ ভোটারদের নাম না বাদ দিয়ে লড়াই করে দেখান। অবসর নেওয়ার পর আপনি [CEC] কোন পদটি চান- রাষ্ট্রপতি নাকি রাজ্যপাল? টোপটা কী? কেন একেক রাজ্যে এক একরকম নিয়ম হবে?
মমতা আরও বলেন, দরিদ্র মানুষজন তাঁদের কাজ থেকে ছুটি নিয়ে নথিপত্র জমা দিতে এসেছেন। অথচ অনেক ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন বলেছে যে তাঁদের নথি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে মাইক্রো-অবজার্ভাররা শুধুমাত্র সহায়কের ভূমিকা পালন করবেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁরা কারচুপি করার চেষ্টা করছেন। LIC, রেল এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা থেকে বেছে বেছে বিজেপি-ঘেঁষা লোকেদের পাঠানো হয়েছে। তাদের মনে রাখা উচিত যে কেন্দ্রীয় সরকার পাল্টে যাবে, কিন্তু তাঁদের নাম নথিবদ্ধ থাকবে। আপনারা যদি ভালো কাজ করেন, আমরা আপনাদের মিষ্টি মুখ করাব। যদি কোনও অফিসারকে অন্যায়ভাবে হেনস্থা করা হয়, তবে সরকার তাঁদের স্বার্থ রক্ষা করবে। আমরা দৃঢ়ভাবে তাঁদের পাশে দাঁড়াব। এটা অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ওরা লঙ্ঘন করছে।
মমতার দাবি, পরিষ্কার বলা আছে যে 'ফর্ম-৭' একসঙ্গে অনেকগুলো জমা দেওয়া যাবে না। অথচ বিজেপি প্রচুর সংখ্যায় ফর্ম-৭ জমা দিয়েছে। মাইক্রো-অবজার্ভার এবং এই তুঘলকি কমিশন সেই নামগুলো বাদ দিচ্ছে। ২১ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, তাঁরা ১৪ তারিখ বিকেলেই পোর্টাল বন্ধ করে দিল। তাঁরা কি ভ্যালেন্টাইনস ডে পালন করছিল? তারা বলেছে এখন থেকে মৃত্যু শংসাপত্র শ্মশান বা কবরস্থান থেকে আনতে হবে। এটা কি সম্ভব? ফ্যামিলি রেজিস্টার তো রয়েছে এই কারণে। আপনারা 'SIR'-এর নামে এক বিপজ্জনক খেলা খেলছেন। বিজেপির কিছু লোকের তীব্র মানসিক সমস্যা রয়েছে, তাঁদের চিকিৎসা করানো উচিত।
মমতা জানান, বেশ কিছু শিল্প সংস্থাকে জমি দেওয়া হয়েছে। একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা মন্ত্রিসভায় একটি বিল পাস করেছি। WBCS ক্যাডাররা দুই বছর প্রবেশনারি হিসেবে থাকবেন। তিন বছর বিডিও BDO হিসেবে কাজ করার পর তাঁরা SDO হবেন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে আমরা সেই নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছি। সৌজন্যের খাতিরেই আমরা সেই ব্যবস্থা নিয়েছি। কিন্তু মনে রাখতে হবে, তাঁদের নিজেদের আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনও সুযোগ দেওয়া হয়নি। আমি জানি তাঁদের মধ্যে অনেকে দিনরাত এক করে কাজ করেছেন। ভোটার তালিকা তৈরির কাজে তাঁরা যুক্ত থাকবেন না ঠিকই, তবে উন্নয়নের অন্যান্য কাজে তাঁদের যুক্ত করা হবে। কমিশন যদি কাউকে ডিমোশন দেয়, আমরা তাঁকে প্রমোশন দেব।
মমতা বলেন, এখানে বসে থাকা আরেকজন 'বাবু' তাঁর অফিস টি বোর্ডে স্থানান্তরিত করেছেন। তিনি বাংলার সমস্ত সম্পদ ভোগ করছেন এবং তারপর বাংলার মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। সম্ভবত, বিজেপি তাঁকে কিছু দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তিনি কিছু গোপন শত্রুদের সাথে মিলে পরিকল্পনা করছেন কীভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাংলার মানুষের নাম বাদ দেওয়া যায়। SIR-এর নামে কোনও নাম সংযোজন হচ্ছে না, শুধু নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তাই, জনগণও ঠিক করেছে নির্বাচনে তাদের বর্জন করবে। যারা ভোটারদের নাম বাদ দিচ্ছেন তারা জেনে রাখুন যে আমাদের কাছেও আপনাদের ইতিহাস ও ভূগোলের বিস্তারিত নথিপত্র আছে। আমাদের কাছে আপনাদের সব রেকর্ড আছে। চাষিরা এখনও ভুলে যাননি কীভাবে জোর করে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। দয়া করে আমার উপর প্রতিশোধ নিন। দয়া করে মানুষকে রেহাই দিন। আপনারা যদি মানুষকে যন্ত্রণা দেন, তবে মনে রাখবেন আপনারা যদি ৪২০ [প্রতারক] হন, তবে আমি ৪৪০ ভোল্ট [কারেন্ট]।
-
মালদহের অশান্তি নিয়ে বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলল মমতা, সুতির সভা থেকে শান্তির বার্তা -
ভবানীপুরে আজ শক্তি প্রদর্শনে বিজেপি, শুভেন্দুর মনোনয়নে সঙ্গী অমিত শাহ -
মালদহের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই, মমতার তোপে কমিশন -
মালদহের ঘটনা তৃণমূলের পরিকল্পিত ও সংগঠিত, কালীঘাটে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ ব্যক্ত করে দাবি শুভেন্দুর -
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
ভোটের আগেই কমিশনের কড়া নির্দেশ! অনুমতি ছাড়া জমায়েত নয়, নিয়ম ভাঙলেই গ্রেফতার, রাজ্যজুড়ে জারি কঠোর নির্দেশ -
আরও একটি সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন, আর কত নাম নিষ্পত্তি হওয়া বাকি? -
ভোটার তালিকা ইস্যুতে মালদহে বিচারক ঘেরাও এর ঘটনায় রিপোর্ট তলব কমিশনের -
ভোটের আগে তালিকা সংশোধনে তৎপরতা, সপ্তম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ -
প্রবল ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া, আতঙ্কে পথে মানুষ -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
কালিয়াচক কাণ্ডের পর ফের অশান্তি! অমিত শাহ-র রোড শো ঘিরে ভবানীপুরে ধুন্ধুমার, হাতাহাতি তৃণমূল-বিজেপির












Click it and Unblock the Notifications