মুকুলের পর শুভেন্দু দল ছাড়লে বুমেরাং হবে তৃণমূলের! তবু নিষ্ক্রিয় মমতা-পিকে
২০১৯-এ ধাক্কা বিজেপির কাছে খাওয়ার পর ঘটা করে ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরকে দলের দায়িত্ব দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু প্রশান্ত কিশোরকে এনেও দলের কোন্দল আর রুখতে পারলেন কই।
২০১৯-এ ধাক্কা বিজেপির কাছে খাওয়ার পর ঘটা করে ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরকে দলের দায়িত্ব দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু প্রশান্ত কিশোরকে এনেও দলের কোন্দল আর রুখতে পারলেন কই! মুকুল রায়ের পর দলের সেরা মুখ এবং ক্রাইসিস ম্যানেজার শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে নাকানিচোবানি খাচ্ছে তৃণমূল। তারপরও নীরব সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

পিকে আসার পর শুভেন্দু আরও কোণঠাসা
২০২১ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হ্যাটট্রিক হবে কি না পরের কথা, কিন্তু যে জন্য প্রশান্ত কিশোরের মতো ভোট কৌশলীকে নিয়ে আসা, সেই দলের ভাঙন রোখা এখন দূর অস্ত। বরং তিনিই একটা বড় কারণ হয়ে উঠেছেন দলে ভাঙনের। প্রশান্ত কিশোর আসার পর যেভাবে শুভেন্দু অধিকারী মতো নেতাকে কোণঠাসা করে দেওয়া হয়েছে, তার ফল ভুগতে হবে তৃণমূলকে।

অভিষেকের ছিটেফোঁটা গুরুত্বও পাননি শুভেন্দু
প্রশান্ত কিশোর তৃণমূলের দায়িত্বে আসার পর থেকে অভিষেক বন্যো্যপাধ্যায় যেভাবে গুরুত্ব পেয়েছেন, তার ছিটেফোঁটা গুরুত্বও পাননি শুভেন্দু অধিকারী। উল্টে শুভেন্দুর সঙ্গে তৃণমূলের দূরত্ব বাড়িয়ে তোলা হয়েছে। দিনের পর দিন চলে গিয়েছে, দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কোনও ব্যবস্থা নেননি। শুভেন্দুর মতো জনপ্রিয় নেতাকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন।

নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে
রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে। তাঁর সঙ্গে তৃণমূলের দূরত্ব বৃদ্ধি হয়েছে। তিনি সমান্তরাল জনসংযোগ চালাচ্ছেন। নিজেকে দলহীন প্রচারে নিয়োজিত করেছেন। কোথায় তৃণমূল বা সরকারের কোনও পরিচিয় তিনি রাখছেন না। তাঁর অনুগামীরা নানা সময়ে নানা জল্পনার বাতাবরণ তৈরি করছেন।

তৃণমূলের কোন্দল চরমে উঠেছে ২০২১ নির্বাচনের আগে
সম্প্রতি শুভেন্দুকে নিয়ে জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র সদর্থক কথা বললেও, জেলার অনেক শুভেন্দু বিরোধী নেতা এমনকী রাজ্যের অনেক নেতাও শুভেন্দুকে হয় প্রতিপন্ন করার খেলায় নেমেছে। এর ফলে তৃণমূলের কোন্দল চরমে উঠেছে ২০২১ নির্বাচনের আগে। এই কোন্দল তৃণমূলের কংগ্রেসের নির্বাচনী ফলে বিরাট প্রভাব ফেলতে পারে।

ফিরহাদের তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্যে আরও জটিলতা বৃদ্ধি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পরিস্থিতিতে এখনও নীরব। তিনি বা তাঁর দলের প্রচার কৌশলী প্রশান্ত কিশোরও নিস্পৃহ এখনও পর্যন্ত। দলের এই কোন্দল রোখার কোনও প্রচেষ্টা এখনও পর্যন্ত নেননি তাঁরা। উল্টে ফিরহাদ হাকিম তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে আরও জটিলতা বাড়িয়েছেন। এইরকম চললে তৃণমূলের পক্ষে ক্ষমতায় ফেরা জটিল থেকে জটিলতর হয়ে যাবে।

মুকুলকে হারিয়ে ক্ষতি দেখিয়ে দিয়েছে ১৯-এর নির্বাচন
২০১৭ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন মুকুল রায়। তখন মুকুল রায়কে অবজ্ঞা করেছিলেন তৃণমূলের অনেকে। এবং তাঁর দল ছাড়ার কোনও প্রভাব পড়বে না বলে ফলাও করে্ প্রচার করেছিলেন তৃণমূলের তাবড় নেতারা। কিন্তু তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড হয়ে থাকা মুকুলকে হারিয়ে কতটা ক্ষতি হয়েছিল তা দেখিয়ে দিয়েছে ২০১৯-এর নির্বাচন।

সেবার মুকুল রায়, আর এবার শুভেন্দু অধিকারী
এরপর ২০২১-এর প্রাক্কালে যে তা থেকে শিক্ষা নেবে তৃণমূল, তার কোনও আভাস পাওয়া যাচ্ছে না। সেবার মুকুল রায়, আর এবার শুভেন্দু অধিকারী। এবারও শুভেন্দুকে নিয়ে তৃণমূলের নেতা-নেত্রীরা নানা কথা বলতে শুরু করেছেন। কিন্তু শুভেন্দুর প্রভাব যে তিন-চারটি জেলায় যথেষ্ট তা মানতে নারাজ তাঁরা।

শুভেন্দু দল ছাড়লে মমতার পতনের পথ প্রায় সুগম
মুকুল রায়ের পর শুভেন্দুকে পেতে বদ্ধপরিকর ছিল বিজেপি। তৃণমূলের এমন নিস্পৃহতা দেখে নিশ্চয় হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন না মুকুল-দিলীপরা। শুভেন্দুর জন্য তাঁরা ঝাঁপাবেনই। এমনিতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিকল্প মুখ হিসেবে তাঁদের ভাবনায় ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এখন যদি শুভেন্দু গেরুয়া শিবিরে ভিড়ে যান, তাহলে মমতার পতনের পথ সুগম হয়ে যাবে অনেকটাই।












Click it and Unblock the Notifications