মমতার পথে কাঁটা বিছোতে আসছে মিম, সংখ্যালঘু ভোট-অঙ্কে সিঁদুরে মেঘ দেখছে তৃণমূল কংগ্রেস

সম্প্রতি তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে ক্লিন সুইপ করেছে তৃণমূল। এনআরসি ইস্যুতেই বিজেপিকে নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছে তৃণমূল। ফের রাজ্যে তাঁদের জয়যাত্রা শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে ক্লিন সুইপ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এনআরসি ইস্যুতেই বিজেপিকে নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছে তৃণমূল। ফের রাজ্যে তাঁদের জয়যাত্রা শুরু হয়েছে। সামনে ২০২১-এর নির্বাচন। এই নির্বাচনে জিততে গেলে আরও অঙ্ক কষার প্রয়োজন। কেননা এত সহজ হবে না ভবিষ্যতের নির্বাচন।

বাম-কংগ্রেসের ভোটে পরিপূর্ণ বিজেপির বাক্স

বাম-কংগ্রেসের ভোটে পরিপূর্ণ বিজেপির বাক্স

তৃণমূল যেমন গড় রক্ষায় মরিয়া, তেমনই বিজেপিও বাংলাতেও পরিবর্তনকামী শক্তি হয়ে উঠচে চাইছে। বাম-কংগ্রেসের ভোটে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বিজেপির বাক্স। তার উপর তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে বাংলায় আসছে মিম। হয়দরাবাদ থেকে মিম-সুপ্রিমো বাংলা বিজেপিরই সুবিধা করে দেবে।

বিজেপির ভোটবৃদ্ধি ২০১১ থেকে ২০১৯

বিজেপির ভোটবৃদ্ধি ২০১১ থেকে ২০১৯

এই পরিস্থিতিতে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বড় ম্যান্ডেটের সাথে বিজয়ী হতে তৃণমূলকে তাই কঠিন লড়াই করতে হবে। বিজেপির হিন্দু ভোটের সঙ্গে লড়াই তৃণমূলের সংখ্যালঘু তথা মুসলিম ভোটের। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ভোট ছিল ১০.২ শতাংশ এবং ২০১৯ লোকসভায় এটি ৪০.৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

বিজেপির ভোটবৃদ্ধি ২০১১ থেকে ২০১৯

বিজেপির ভোটবৃদ্ধি ২০১১ থেকে ২০১৯

বিজেপির পক্ষে হিন্দুদের একত্রিত হওয়ার কারণেই বাংলার ৩০.১ শতাংশ ভোট বাড়াতে সক্ষম হয়েছিল গেরুয়া শিবির। গত তিন বছর ধরে বিজেপি বাংলায় ধর্মের নামে রাজনীতি করে সাফল্য পাচ্ছে। এইভাবেই বাংলায় বিজেপির উল্লেখযোগ্য উত্থানও হচ্ছে। আর এই উত্থানে বড় ফারাক করে দিয়েছে বাম-কংগ্রেসের ভোট পতন।

বাম ভোটহ্রাস ২০১১ থেকে ২০১৯

বাম ভোটহ্রাস ২০১১ থেকে ২০১৯

একটি বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচন ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্টের ৯.৮৮ শতাংশ ভোট হ্রাস পেয়েছে। এবং ২০১৪ সালের লোকসভা থেকে ২০১৮ সালের লোকসভায় ভোট কমে গিয়েছে আরও ১৬ শতাংশ।

কংগ্রেসের ভোটহ্রাস ২০১১ থেকে ২০১৯

কংগ্রেসের ভোটহ্রাস ২০১১ থেকে ২০১৯

একইভাবে ২০১১ থেকে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ভোট ৮.৯১ শতাংশ থেকে বেড়ে ১২.৩ শতাংশে পৌঁছলেও, ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে মারাত্মকভাবে পতন ঘটে। মাত্র ৯.৬ শতাংশ ভোট পায় কংগ্রেস। আর এ বছর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে কংগ্রেস মাত্র ৫ শতাংশ ভোট অর্জন করতে সফল হয়।

তৃণমূলের ভোটবৃদ্ধি ২০১১ থেকে ২০১৯

তৃণমূলের ভোটবৃদ্ধি ২০১১ থেকে ২০১৯

একসময় বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেসের সঙ্গে থাকা এই ভোটের বেশিরভাগটাই বিজেপিতে গিয়েছিল। উল্টোদিকে ২০১১ সালের বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ভোট ছিল ৩৯ শতাংশ। যা ২০১৬ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯.৫৬ শতাংশে। একইভাবে, ২০১৪ সালে তৃণমূলের ভোট ছিল ৩৯.০৩ শতাংশ, যা ৪.২৭ শতাংশ বেড়ে ৪৩.৩ শতাংশ হয়েছে ২০১৯-এ।

বিরোধী ভোট একত্রিত হয়ে পড়েছে বিজেপির বাক্সে

বিরোধী ভোট একত্রিত হয়ে পড়েছে বিজেপির বাক্সে

তৃণমূলের ভোট কমেনি ঠিকই, কিন্তু বিরোধী ভোট একত্রিত হয়ে পড়েছে বিজেপির বাক্সে। ফলে বিজেপি তৃণমূলের ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করেছে। টিএমসির নেতা কর্নেল দীপ্তাংশু চৌধুরী জানান, বিজেপির পক্ষে একমাত্র কারণ বাম এবং কংগ্রেসের ভোট নিজেদের ঝুলিতে নিতে পারা।

মমতার উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে মুসলিম ভোট

মমতার উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে মুসলিম ভোট

এই মুহূর্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দল হিন্দুদের নিয়ে উদ্বিগ্ন নয়। কিন্তু মমতার কাছে বর্তমানে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে মুসলিম ভোট। বিজেপি যেমন উগ্র হিন্দুত্ববাদী দল, তেমনই উগ্র মৌলবাদী দল হল মিম। আসাদউদ্দিন ওয়েসির বাংলায় প্রবেশ মমতার সংখ্যালঘু ভোটের কাছে তাই কাঁটা-স্বরূপ।

মিম প্রবেশ করা মানে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হওয়া

মিম প্রবেশ করা মানে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হওয়া

বর্তমানে প্রায় ৩১ শতাংশ মুসলিম ভোট রয়েছে বাংলায়। ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পূর্ব পর্যন্ত এই সম্প্রদায় বামফ্রন্টের দিকে ছিল। ২০১১ সাল থেকে তা পুরোপুরি তৃণমূলের দিকে চলে এসেছে। এখন মিম প্রবেশ করা মানে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হয়ে যাবে। সেটা তৃণমূলের কাছে চিন্তার কারণ হয়ে যাবে।

৯০টি বিধানসভা কেন্দ্র মুসলিম ভোট দ্বারা নিয়ন্ত্রিত

৯০টি বিধানসভা কেন্দ্র মুসলিম ভোট দ্বারা নিয়ন্ত্রিত

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এটা ভালভাবেই জানেন যে, রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে প্রায় ৯০টি বিধানসভা কেন্দ্র মুসলিম ভোট দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। ফলে এই ভোট ভাগাভাগি বড় ফ্যাক্টর হতে পারে ২০২১-এর নির্বাচনে। বিজেপিকে বিশাল সুবিধা করে দিতে পারে মিম। তাই আগাম মিমকে সতর্ক করেছেন মমতা। তিনি বলেন, ওয়েইসি আসলে বিজেপির দালাল।

মুসলিম ভোট বিভক্ত হলে, বাংলায় তৃণমূল-রাজ শেষ

মুসলিম ভোট বিভক্ত হলে, বাংলায় তৃণমূল-রাজ শেষ

বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, মুসলিম ভোট বিভক্ত হলে, বাংলায় তৃণমূল-রাজ শেষ হয়ে যাবে। বিজেপি সঠিক সময়েই মোক্ষম চালটা দিয়েছে। মমতা তাই এখন হিন্দু ভোটের দিকে বেশি করে নজর দিয়েছেন। কারণ বিজেপিকে হারাতে গেলে হিন্দু ভোটকে আরও বেশি পরিমাণ নিজেদের দিকে আনা জরুরি।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+