পাহাড়ে হাসি ফেরালেও উধাও খুশি, পর্যটকমুখর পাহাড়ে তাল কাটলেন মমতা স্বয়ং
যে মমতা পাহাড়ে ফের হাসি ফেরালেন, তাঁকেই না পেয়ে মন খারাপ পাহাড়বাসীর। মন খারাপ সত্ত্বেও শীতের সোনা রোদ মাখা পাহাড়ে হাজির হাজারো পর্যটক।
পাহাড় থেকে মুখ ঘুরিয়ে সাগরমুখী হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাতেই তাল কেটে গেছে পর্যটন উৎসবের। যে মমতা পাহাড়ে ফের হাসি ফেরালেন, তাঁকেই না পেয়ে মন খারাপ পাহাড়বাসীর। মন খারাপ সত্ত্বেও শীতের সোনা রোদ মাখা পাহাড়ে হাজির হাজারো পর্যটক। আর তাতেই পর্যটন উৎসবে একেবারে চেনা ছবি ফুটে উঠল দার্জিলিং-কালিম্পংয়ে।

পাহাড়ের স্তব্ধতা ভেঙে আবার পর্যটক কোলাহলময় টাইগার হিল থেকে সুকনা। অশান্তি বন্ধ হওয়ার পর এই প্রথম পাহাড় সেজে উঠেছে, উৎসব শুরু হয়েছে। ভিড় করেছেন পর্যটকরা। লাইন দিয়ে আবার পাহাড়ে উঠছেন মানুষজন। একেবারে ঠিক আগের ছবি। সৌজন্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সৌজন্যে জিটিএ। তাহলে কথা দিয়েও নেই কেন মুখ্যমন্ত্রী? প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু উত্তর মিলছে না। সেজন্য সব আছে, শুধু ছন্দটারই পতন হচ্ছে বারে বারে।
কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই পাহাড়ে পর্যটন উৎসবের সূচনা হবে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় এখন পাহাড়ি পথ ছেড়ে ছুটে চলেছে সাগর পানে। বুধবার যখন পাহাড়ে পর্যটন উৎসব শুরু হচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখছেন। আর তিনি যাচ্ছেন না শুনে, কোনও মন্ত্রীই পাহাড়ের পথ মাড়াচ্ছেন না। শুধু স্বরাষ্ট্রসচিবকে পাঠিয়ে দিয়েই ক্ষান্ত রাজ্য সরকার।

যে ঐক্যের ছবিটা গত কয়েকমাসে ফুটে উঠেছিল পাহাড়ে, যে ঐক্যে ভর করে পাহাড়ে ফিরে এসেছিল শান্তির বাতাবরণ, সেই পাহাড়ে হাসি ফিরলেও, খুশি নেই। ঐক্যের সুর নেই। যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ কোনও মন্ত্রী থা্কছেন না, থাকছেন না জিএনএসলএফের সদস্যরাও। তাঁদের সেই পুরনো গোঁ- দার্জিলিং গোর্খা পার্বত্য পরিষদ ভেঙে জিটিএ গঠনের বিরোধিতা। তারই মাঝে অন্যান্যদের সম্মিলিত করে এই উৎসবকে সার্থক করে তুলতে চেষ্টার কসুর করছেন না বিনয় তামাং-অনীত থাপারা।
তবে উৎসব যাই হোক, এখন পাহাড় দেখে আর মনে হবে না, মাস দুয়েক আগেও এখানে কী হিংসার পরিবেশই না ছিল। পাহাড় ফের শান্ত, সৌম্য। পাহাড় আবার পর্যটনমুখী। পর্যটকে ভরপুর। আর পর্যটন উৎসবেও পাহাড়ের পর্যটকদের জন্য বিশেষ ছাড়ের বন্দোবস্ত করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications