সন্দেশখালিতে সিবিআই তদন্ত! হাইকোর্টের নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার
২০২৪-এর মার্চের পাঁচ তারিখে সন্দেশখালির ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। পরবর্তী সময়ে সন্দেশখালির সব মামলায় সিবিআই তদন্তে র নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। এর মধ্যে রয়েছে জোর করে টাকা আদায়, জমি দখল এবং যৌন নির্যাতনের মতো অভিযোগও। হাইকোর্টের সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।
প্রসঙ্গত, এমন একটা দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সন্দেশখালি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদনের কথা জানা গেল, সেই দিনে সন্দেশখালির সরবেরিয়ার একটি বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি অস্ত্র ও বিস্ফোরকের খোঁজ পায় সিবিআই। পরে সেখানে এনএসজি কমান্ডোদের নিয়ে যাওয়া হয়।

গত পাঁচ জানুয়ারি সন্দেশখালিতে তৎকালীন তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের বাড়িতে ইডি হানা দেয়। কিন্তু শাহজাহানের সমর্থকদের তাড়ায় ইডি সেদিনের জন্য সেখান থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হয়। পরবর্তী সময়ে শেখ শাহাজাহান, শিবু হাজরাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে সন্দেশখালি। এরপর একে একে শিবু হাজরা এবং শেখ শাহজাহানদের গ্রেফতার করে ইডি-সিবিআই-রাজ্য পুলিশ।
সন্দেশখালিতে গিয়ে ইডির আক্রান্ত ঙওয়ার পরেই সিবিআই তদন্ত চেয়ে আর্জি জানানো হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে। এক্ষেত্রে রাজ্যের পাল্টা দাবি ছিল তদন্ত পুলিশের হাতেই থাকুক। দুইপক্ষের বক্তব্য শোনার পরে জয় সেনগুপ্তের বেঞ্চ এই মামলার তদন্তের জন্য সিট গঠনের নির্দেশ দেয়। তারপর প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম ও বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশের ওপরে স্থগিতাদেশ দেন।
শুনানির সময় রাজ্যের আইনজীবীকে ছত্রে ছত্রে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় আদালতে। অভিযুক্ত রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত প্রভাবশালী। সন্দেশখালি ঘটনার সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়ে বলে কলকাতা হাইকোর্ট।
পরবর্তী সময়ে বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের বেঞ্চ জমি দখল , ধর্ষণ, চাষের জমিকে ভেড়িতে পরিবর্তন করা সহ সমস্ত অভিযোগের তদন্ত সিবিআই-এর হাতে তুলে দেন। নির্দেসে তিনি বলেন, এব্যাপারে রাজ্যকে সব রকম সাহায্য করতে হবে। সেখানকার মানুষ তাদের অভিযোগ সরাসরি সিবিআইকে জানাতে পারবে। এজন্য সিবিআইকে আলাদা পোর্টাল তৈরি করতে হবে। আদালত পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবে বলেও জানানো হয় নির্দেশে।
সেই মতো কাজও শুরু করে সিবিআই। অভিযোগ মতো এলাকায় গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালান সিবিআই আধিকারিকরা। সিবিআই আধিকারিকরা শেখ শাহজাহানের বাড়ির বাইরে থেকেই পর্যবেক্ষণ করেন। তারপর তাঁরা স্থানীয় মার্কেটেও হানা দেন। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট এব্যাপারে কী রায় দেয় এখন সেটাই দেখার।












Click it and Unblock the Notifications