করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে কতজন আক্রান্ত রাজ্যে, মমতা দিলেন সম্পূর্ণ তথ্য
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে কতজন আক্রান্ত রাজ্যে, মমতা দিলেন সম্পূর্ণ তথ্য
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা জানিয়ে ফের সমালোচনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী সাফ করে দেন, কেউ কেউ এই সংখ্যা নিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, এখন বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে জাতিকে বাঁচানোর সময়, কেউ অযথা কুৎসা-অপপ্রচার করবেন না।

করোনায় পরিসংখ্যানে আক্রান্ত
মমতা জানান, সোমবার ১২টা পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত ৬১। এর মধ্যে ৫৫টি কেস সাতটি পরিবারের। কালিম্পংয়ে ১টি পরিবারেই ১১ জন আক্রান্ত হন। তার মধ্যে ১ জন মারা গিয়েছেন। এরা চেন্নাই থেকে এসেছিলেন। হাওড়ায় ৮ জন আক্রান্ত, কলকাতায় ১২ জন আক্রান্ত। কম্যান্ড হাসপাতালের চিকিৎসকের পরিবার আক্রান্ত হয়েছেন। তেহট্টের বিয়েবাড়িতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন। এগরায় ১১ জন আক্রান্ত। হলদিয়ায় দুজন করোনা আক্রান্ত।

করোনায় আশার খবর
তিনি বলেন, রাজ্যে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্তে মৃত্যু হয়েছে তিন জনের। তবে সবথেকে আশাব্যাঞ্জক যে, ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন ১৩ জন করোনা আক্রান্ত। এটা একটা ভালো সাইন। বেলেঘাটায় এখনও যে ১৭ জন ভর্তি রয়েছেন, তার মধ্যে ১২ জনের অবস্থা ভালো। ১ জনের অবস্থা একটু সিরিয়াস। বেলেঘাটা আইডি-সহ সমস্ত হাসপাতালই দারুন কাজ করছে। আমরা কৃতজ্ঞ চিকিৎসক-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি। তিনি বলেন, চিন্তার কোনও কারণ নেই। করোনা সংক্রমণ রোধের পথ খুঁজছে রাজ্য।

রাজনীতি বন্ধের বার্তা মমতার
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনীতি বন্ধ করার বার্তা দেন। তবে তিনি সমালোচনা করতে ছাড়েননি কেন্দ্রের। বর্তমান সংকটজনক পরিস্থিতিতে নাম না করেই তিনি বলেন, আগে ছিল নোটবন্দি, এখন হয়েছে ঘরবন্দি। কাঁসর ঘণ্টা বাজিয়ে রাস্তায় নেমে মানুষকে ভুল বোজানো হচ্ছে। অনেক ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আইটি সেল ভুয়ো খবর ছড়াচ্ছে। এই সময় রাজনীতি করা যাবে না।

চা বাগান খোলা হচ্ছে না
মমতা আরও জানান, এখনই চা বাগান খোলা হচ্ছে না। কেন্দ্রের গাইডলাইনে চা বাগান খুলে দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু চা বাগান কর্মীরা ভয় পাচ্ছেন। তাই চা বাগান বন্ধ রাখা হচ্ছে। সংক্রমণের আশঙ্কা থেকে একটু মুক্ত হওয়ার পরই চা বাগান খোলা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পিপিই নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ
এদিন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে গর্জে উঠে মমতা জানান, এখনও পর্যাপ্ত পিপিই পায়নি রাজ্য। মাত্র তিন হাজার পিপিই এসেছে রবিবার। আর আমরা নিজেরা অর্ডার দিয়েছি ১১ লক্ষ পিপিই। তার মধ্যে হাতে পেয়েছি ২ লক্ষ। কিন্তু কেন্দ্রের তরফে সহযোগিতা পাওয়া যায়নি সে অর্থে।

করোনা মোকাবিলায় কমিটি
এদিকে করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় গ্লোবাল অ্যাডভাইসারি বোর্ড তৈরি করছে রাজ্য সরকার। সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে এই কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এই কমিটি তৈরি করা হচ্ছে রাজ্যের করোনা মোকাবিলার জন্য। কমিটিতে থাকবেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। থাকবেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।












Click it and Unblock the Notifications