মুকুলের তৃণমূল কংগ্রেসে ফেরা নিয়ে জল্পনা উসকে দিলেন কুণাল! আসল দৃষ্টিশক্তি ফেরার আশা
মুকুলের তৃণমূলে ফেরা নিয়ে জল্পনা উসকে দিলেন কুণাল! আসল দৃষ্টিশক্তি ফেরার আশা
মুকুল রায়কে নিয়ে ফের জল্পনা বাড়িয়ে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসে সদ্য মুখপাত্রের দায়িত্বে আসা কুণাল ঘোষ। প্রাক্তন এই সাংসদ-সাংবাদিক তৃণমূলে সক্রিয় হয়েই মুকুল রায়কে নিয়ে জল্পনা বাড়ালেন। তিনি বলেন, বিজেপির দিল্লির বৈঠক নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাখ্যা করেন তিনি। তাঁর কথায়, আমি চাইব মুকুলদা যেন চোখের ইঞ্জেকশনের পর আসল দৃষ্টিশক্তিটা ফিরে পান।

মুকুলকে নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা
মুকুলদাকে আমি দীর্ঘদিন চিনি। তাঁর চোখে একটা প্রবলেম হয়েছে, একটা ইঞ্জেকশনও নিতে সহয়েছে। তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। আমি চাইব তিনি এবার নতুন দৃষ্টিশক্তি নিয়ে নতুন করে ফিরে আসুন। তিনি তাঁর এই কথার মধ্য দিয়ে মুকুলকে নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে জল্পনার পারদ আরও চড়িয়ে দিলেন।

তৃণমূল দল ভাঙানো প্রসঙ্গে
বিজেপি তথা বিরোধীরা এখন থেকেই বলতে শুরু করেছেন, কুণাল ঘোষ পিছন থেকে সামনে এসে দলের মুখপা্ত্র হয়েছেন। তাঁকে দিয়ে তৃণমূল দল ভাঙানোর খেলা চালিয়ে যাবে। আর কিছু অপপ্রচার করাবে।। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কুণালের জবাব আমি এমন শক্তিশালী কেউ নই। আর যদি বিজেপি প্রতিষ্ঠিত বিরোধী দল হয়, তাদের এমন ভঙ্গুর অবস্থা যে আমার মতো একজন তুচ্ছ ব্যক্তি কার সঙ্গে দেখা করবে, তাতেই কম্পন ধরে যাবে দলে।

বিজেপির মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাসেই কাঁপুনি
কুণাল বলেন, আমার মনে হয় বিজেপির মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাসেই কাঁপুনি ধরে যাচ্ছে। ইনি ওঁকে বিশ্বাস করছেন না, উনি তাঁকে সরাতে চাইছেন। আমার মনে হয় কেউ কেউ এসব আমার ঘাড়ে দল ভাঙানের অভিযোগ চাপিয়ে দিতে চাইছেন। এটা ঠিক নয়। আমি অত শক্তিশালী কেউ নই, গুরুত্বপূর্ণ কেউ নই।

বিজেপি নিজেদের মধ্যেই খেলছে
দিল্লির বৈঠকে বিজেপির কোন্দল নিয়ে তৃণমূল পরিবারের সদস্য কুণাল ঘোষের ব্যাখ্যা, বিজেপি প্র্যাক্টিক্যালি বলছে তারা ফাইনাল খেলতে নামছে। কিন্তু আদতে আমার মনে হচ্ছে বিজেপি নিজেদের মধ্যে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনাল, কোয়ার্টার ফাইনাল খেলছে। কুণালের কথায়, এই খেলা বিজেপি বনাম বিজেপি, বিজেপি বনাম আরএসএস, আদি বনাম তৎকাল, নতুন বনাম পুরনো।

তৃণমূল চ্যাম্পিয়ন্স কাপ নেবে, রানার্স কারা
রাজ্যসভার প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ বলেন, নিজেদের মধ্যে প্রি-কোয়ার্টার, কোয়ার্টার, সেমিফাইনাল খেলে তারা আগে ঠিক করুন কারা ফাইনালে উঠবে। কারণ ফাইনালটা জিতে তৃণমূল চ্যাম্পিয়ন্স কাপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছে। তাঁরা নিজেরা ঠিক করুন কারা রানার্স কাপটা নেবেন।

মমতার ফিরে আসার ডাক প্রসঙ্গে
তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডাক দিয়েছেন যাঁরা ভুল করে চলে গিয়েছেন, তাঁরা ফিরে আসুন। তা নিয়ে দলের কী অবস্থান, সেই প্রশ্নের উত্তরে কুণাল ঘোষ বলেন. ওটা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ব্যাপার। কে ফিরতে চাইছেন, কে ফিরবেন, দল ঠিক করবে সেইসব।

৯৪ আসনে হারা দিয়ে শুরু
বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের ২০০ আসন টার্গেট প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ বলেন, এখনও ছ-মাসেরও বেশি সময় বাকি ভোটের। তার আগেই যদি ৯৪ আসনে হারা দিয়ে শুরু করে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল, তাহলেই বুঝুন কী হতে চলেছে ২০২১-এর ফল। আমার স্থির বিশ্বাস, তৃণমূল ২০২১-এ হ্যাটট্রিক করছে।

জ্যোতি বসুতেই সলিল সমাধি হত বামফ্রন্টের
কুণাল ঘোষ বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া যদি আগ থাকত, সংবাদমাধ্যম যদি এখনকার মতো স্ট্রং থাকত, তবে বামফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হতে হত না বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে। জ্যোতি বসু থাকাকালীনই সলিল সমাধি হয়ে যেত বামফ্রন্ট সরকারের। শুধু একবার ভাবুন মরিচ ঝাঁপি, কাণ্দুয়া-কাণ্ডের ঘটনা যদি ফেসবুকে ঘুরে বেড়াত, তাহলে কী হত। প্রযুক্তির প্লাস পয়েন্টও আছে মাইনাস পয়েন্টও আছে।

তৃণমূলে নাড়ির টান
বিপ্লিব মিত্র বা প্রশান্ত মিত্রের মতো নেতাদের ফি্রে আসা প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস একটা পরিবার, একটা বাড়ি। রাগারাগি হলে কেউ বাড়ি ছেড়ে চলে যেতেই পারে। আল্টিমেট সে তো ফিরে আসে। রাগ পড়ে গেলে ফিরে আসে। আমি মনে করি প্রত্যেকেরই ফিরে আসা উচিত। আমরা তো বাবার উপর রাগ করি। তা বলে কি পাশের বাড়ির জেঠুকে বাবা বলতে পারি। তাই যত কটাক্ষ হোক, কুৎসা হোক আমি দল ছাড়িনি এখানেই থেকেছি।

মানুষ যুক্তি দিয়ে বিচার করবেন
একজন যদি তাঁর পুরনো বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়ে থাকেন। তিনি যদি ফিরতে চান। তাহলে দোষটা কোথায়। মানুষ শুধু ফেসবুক, টুইটার দেখছে বলেই তা মনে নিচ্ছে চা কিন্তু নয়। মানুষ যুক্তি দিয়ে সবটা ভেবে দেখবেন। মানুষ যদি যুক্তি পান, নিশ্চিতভাবেই তাকে সাপোর্ট করবেন। মানুষ দেখছে, যুক্তি দিয়ে তাঁদের যেটা সঠিক মনে হবে, তাঁকা সেটাই সমর্থন জানাবেন।












Click it and Unblock the Notifications