কলকাতায় কোটি কোটি টাকার এটিএম জালিয়াতির কিনারা, লালবাজারের জালে কলকাতা ও ভিনরাজ্যের ৪
কলকাতায় কোটি কোটি টাকার এটিএম জালিয়াতির কিনারা, লালবাজারের জালে কলকাতা ও ভিনরাজ্যের ৪
একেবারে নতুন পদ্ধতিতে এটিএম (atm) জালিয়াতি (fraud)। এটিএম-এর কোথাও কোনও আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও, মেশিন থেকে কোটি কোটি টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সেই জালিয়াতির কিনারা করে ফেলল লালবাজারের (lalbazar) গোয়েন্দা বিভাগ। এই ঘটনায় কলকাতা ও ভিন রাজ্য থেকে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

একের পর এক এটিএম-এ জালিয়াতি
দিন কয়েক আগে কলকাতায় একের পর এক এটিএম থেকে প্রায় দু কোটি টাকা গায়েব হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। বিশেষ এক গ্যাজেটের সাহায্যে এই টাকা তুলে নেওয়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। বেসরকারি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ এবং এটিএম পরিচর্যাকারীদের তরফে লালবাজারে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। নিউমার্কেট, যাদবপুর, কাশীপুর, বউবাজার, ফুলবাগান, বেনিয়াপুকুর এবং বেহালা থানায় ওই বেসরকারি ব্যাঙ্কের তরফে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। কোথাও ৫ লক্ষ, কোথাও ১০ লক্ষ আবার কোথাও থেকে তার বেশি টাকা তোলা হয়েছিল। এরপরেই তদন্তে নামে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ।

বিশেষ পদ্ধতিতে তোলা হয়েছিল টাকা
যে সময়ের মধ্যে টাকা তোলা হয়েছিল এটিএমগুলি থেকে তাতে তদন্তকারীরা অনুমান করেছিলেন, টাকা তোলার জন্য যে সংখ্যা টাইপ করা হয়েছে, তার দ্বিগুণ কিংবা তার গুণিতকে টাকা তোলা হয়েছে একেকবারে। কোনও সফটঅয়্যারের সাহায্য নেওয়া হয়েছে বলেও অনুমান করেছিলেন গোয়েন্দারা। নির্দিষ্ট যন্ত্রকে কাজে লাগিয়ে এটিএম-এর ব্রেন ট্যাম্পারিং করা হয়েছে বলেও প্রাথমিক তদন্তে জানিয়েছিলেন গোয়েন্দারা। পাশাপাশি তদন্তকারীরা এও বলেছিলেন, এটিএম তৈরি কিংবা রক্ষণাবেক্ষণের সঙ্গে যুক্ত লোকেরাই এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত। পরে সিসিটিভি থেকে দেখা যায় এটিএম-এর স্ক্রিন খুলে ডিভাইসটি বসিয়ে দিচ্ছিল জালিয়াতরা। আর বেরিয়ে যাওয়ার সময় তা খুলে নিচ্ছিল। ফলে এটিএম-এ কোনও আঘাত লাগছিল না।

পুলিশের জালে চার
এই এটিএম জালিয়াতির ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কলকাতা পুলিশের জালে চারজন। তাঁদের মধ্যে কলকাতা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বিশ্বদ্বীপ রাউত এবং আব্দুল সইফুল মণ্ডল। এছাড়াও সুরাত থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে মনোজ গুপ্ত এবং নবীন গুপ্তকে। এরা দুজনেই দিল্লির বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।

জালিয়াতির টাকা নিজেদের অ্যাকাউন্টে রেখেছিলেন কলকাতার ২ জন
বিভিন্ন এটিএম-এর সিসিটিভি পরীক্ষা করে জালিয়াতদের সম্পর্কে তথ্য যোগার করে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, কলকাতা থেকে যাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা রাখতেন, সুরাত থেকে গ্রেফতার হওয়া দিল্লির মনোজ গুপ্ত এবং নবীন গুপ্ত।












Click it and Unblock the Notifications