নজরে যাদবপুর: মহাজোট নেই, হবে ভোট ভাগাভাগি, আশায় সুজন চক্রবর্তী

নজরে যাদবপুর: মহাজোট নেই, হবে ভোট ভাগাভাগি, আশায় সুজন চক্রবর্তী
পশ্চিমবঙ্গে এবার পাঁচদফায় লোকসভা ভোট হবে। যাদবপুর আসনে ভোট পঞ্চম তথা শেষ দফায়। এখানে ১২ মে ভোট নেওয়া হবে।

আসনের বিচারে যাদবপুর খুবই কুলীন। বরাবর এই আসনের ওপর নজর থাকে সব মহলের। এবার এখানে লড়াইটা দ্বিমুখী। তৃণমূল কংগ্রেসের সুগত বসু এবং সিপিএমের সুজন চক্রবর্তী। তা ছাড়া রয়েছেন কংগ্রেসের সমীর আইচ। বিজেপি এখান থেকে দাঁড় করিয়েছে স্বরূপপ্রসাদ ঘোষকে। তবে তিনি যে কোনও ফ্যাক্টর হবেন না, এটা পণ্ডিত থেকে সাধারণ মানুষ সবাই বলছেন।


সুজন চক্রবর্তী

'ওজনদার প্রার্থী' শব্দটা এঁর ক্ষেত্রে যথাযথ। পেশায় ইঞ্জিনিয়ার সুজনবাবু ২০০৪ সালে যাদবপুর আসন থেকেই জিতেছিলেন। কিন্তু ২০০৯ সালে হেরে যান। লক্ষণীয় বিষয় হল, গতবার কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের মহাজোট হয়েছিল। ফলে সিপিএম-বিরোধী ভোট পুরোটাই পেয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী কবীর সুমন। বৈধ ভোটের ৪৯.৮ শতাংশ পান তিনি। সেই প্রবল সিপিএম-বিরোধী হাওয়া সত্ত্বেও সুজনবাবু কিন্তু খুব একটা পিছিয়ে ছিলেন না। ৪৪.৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন তিনি। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকার গত তিন বছর ধরে একটার পর একটা জনবিরোধী কাজ করেছে। ফলে গোটা রাজ্যের পাশাপাশি ক্ষুব্ধ হয়ে রয়েছেন যাদবপুরের মানুষও। এ ছাড়া এবার কংগ্রেস এবং তৃণমূলের ভোট ভাগাভাগি হয়ে যাবে। ফলে জয়ের ব্যাপারে ১০০ শতাংশ আশাবাদী সুজনবাবু।

সুগত বসু

গতবার এই আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী করেছিলেন কবীর সুমনকে। কিন্তু কবীর সুমনের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে দলের দূরত্ব বেড়ে যায়। খোলাখুলি সমালোচনা করতে থাকেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ফলে এবার তিনি টিকিট পাননি। আনা হয়েছে নতুন মুখ। সুগত বসু।

সুগতবাবু নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর পরিবারের মানুষ। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। তাঁর মা কৃষ্ণা বসু ১৯৯৮ এবং ১৯৯৯ সালে যাদবপুর আসন থেকেই লোকসভা ভোটে জিতেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী সুজন চক্রবর্তীর মতো তিনি যাদবপুরের অ-আ-ক-খ সম্পর্কে ততটা পরিচিত নন। ভোটে জিতলেও তাঁকে কতদিন কাছে পাওয়া যাবে, এটা ভাবনা অনেকের। সুগতবাবু যদিও নিজে এ সবে বিশ্বাস করছেন না। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়মমূলক কর্মকাণ্ডে মানুষ খুশি। ফলে ভোটে জেতা সমস্যা হবে না।

সমীর আইচ

কিছুদিন আগে পর্যন্তও ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একনিষ্ঠ সমর্থক। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে গলা ফাটিয়েছিলেন চিত্রশিল্পী সমীর আইচ। কিন্তু রাজ্যে পরপর কতগুলি ধর্ষণের ঘটনায় প্রশাসনের সমালোচনা করেন। স্বাভাবিকভাবেই মমতার বিষ নজরে পড়ে যান তিনি। ফলে শিবির বদলে এখন কংগ্রেসে।

গতবার কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের মহাজোট হওয়ায় এখানে প্রার্থী দেয়নি কংগ্রেস। এবার সমীরবাবু অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন। কারণ একক কৃতিত্বে তাঁকে ভোট পেতে হবে। সমীরবাবু নিজে জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হলেও ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, মাত্র কয়েক হাজার ভোট পেয়েই সন্তুষ্ট থাকবে হবে তাঁকে।

উপসংহার

যাদবপুর একটানা কাউকে জিতিয়েছে, এমন নজির সাম্প্রতিক অতীতে নেই। যেমন, ১৯৯৮ এবং ১৯৯৯ সালে এখান থেকে জেতে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০০৪ সালে জেতে সিপিএম। ২০০৯ সালে ফের তৃণমূল। ফলে এবার সিপিএমের জেতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। মহাজোট হওয়া সত্ত্বেও গতবার সুজনবাবু যে বিপুল ভোট পেয়েছিলেন, এবার ভোট ভাগাভাগিতে যে তিনি শেষ হাসি হাসবেন না, এটা জোর দিয়ে বলা সম্ভব হচ্ছে না।


পুনশ্চ

২০০৯ সালে কবীর সুমন পেয়েছিলেন ৫৪০,৬৬৭ ভোট। সিপিএমের সুজন চক্রবর্তী পেয়েছিলেন ৪৮৪,৪০০ ভোট। ৫৬,২৬৭ ভোটে জিতেছিলেন সুজনবাবু। বিজেপি-র সনৎ ভট্টাচার্য ২৫,৩৩১ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান দখল করেছিলেন। পিডিএস নেতা সৈফুদ্দিন চৌধুরী পেয়েছিলেন ৬১৪১ ভোট।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+