Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

রাজ্যে নারকীয় ঘটনা-খুনের রাজনীতির পরও বুদ্ধিজীবীরা নীরব, ক্ষতি হচ্ছে শাসক দলেরই

রাজ্যে নারকীয় ঘটনা-খুনের রাজনীতির পরও বুদ্ধিজীবীরা নীরব, ক্ষতি হচ্ছে শাসক দলেরই

রাজ্যের একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটছে। কংগ্রেস ও তৃণমূলের কাউন্সিলর খুন হয়েছেন, খুন হয়েছেন তৃণমূলের উপপ্রধান। তারপর রামপুরহাটে ঘটে গিয়েছে নারকীয়-কাণ্ড। আগুনে ঝলছে মৃত্যু হয়েছে শিশু-মহিলাসহ আট জনের। রাজ্যের তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা কিন্তু নীরব। বিরোধীরা দাবি করছেন রামপুরহাটে যা ঘটেছে তা ছোট আঙাড়িয়ার থেকে কম কিছু নয়। আগে যে সব গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে, সবই বাম আমলে। রামপুরহাটের বগটুই গ্রামের ঘটনা যদি গণহত্যা হয়, সেটা হবে তৃণমূলের আমলে প্রথমবার।

রাজ্যে নারকীয় ঘটনা-খুনের রাজনীতির পরও বুদ্ধিজীবীরা নীরব, ক্ষতি হচ্ছে শাসক দলেরই

কিন্তু বুদ্ধিজীবীরা এ ব্যাপারে মুখ খুলছেন না। যাঁরা মুখ খুলেছেন, তাঁরা গণহত্যা বললেও রাজনৈতিক হত্যা বলে মনে করছেন না। আবার গা হিম করা ঘটনা বললেও রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একটা শব্দও উচ্চারণ করলেন না। রাজ্যকে বদনাম করার জন্য যদি ষড়যন্ত্র হয়ে থাকে, তা রুখতে না পারাও যে রাজ্যের শাসকদলের ব্যর্থতা, তা কেউ ভুলেও বললেন না।

রাজ্যের পক্ষে এই ঘটনা পরম্পরা আদৌ সুখকর নয়। রাজ্যের শাসকদলের কাছে তা বুমেরাং হতে পারে। আন্ডার কারেন্ট তৈরি হতে কিন্তু বেশি সময় লাগবে না। এই য়ে রাজ্যের সমালোচনা করার মতো মুখ না থাকা বা কোনও বিশেষ কারণে স্পিকটি নট হয়ে থাকা, সোজা কথা সোজা ভাবে না বলতে দেওয়ার যে প্রবণতা, তা ক্ষতি করবে রাজ্যের শাসকেরই।

কলকাতা থেকে আড়াইশো-তিনশো কিলোমিটা দূরে ঘটে গেল নির্মম ঘটনা। তা কি আদৌ প্রভাব ফেলল না বুদ্ধিজীবীদের মনে। তা হলে তারা এই নির্মম ঘটনার পরও মুখ খুললেন না কেন, কেন নিন্দা করলেন না। তাঁরা সুকৌশলে এড়িয়ে যাচ্ছেন পুরো বিষয়টি। অপর্ণা সেন, কৌশিক সেনদের মতো কেউ কেউ মুখ খুললেও তাঁরা ঘটনার নিন্দা করেছেন, কিন্তু রাজ্য সরকারের ব্যর্থতার কথা কার মুখে শোনা যায়নি। কেউই সে অর্থে রাজ্য সরকার তথা সরকারি দলের সমালোচনা করেননি।

বিরোধীরা বুদ্ধিজীবীদের নীরব থাকা প্রসঙ্গে মুকে খুলেছেন। বিজেপি থেকে সিপিএম সবাই সরব। বিজেপি নেতা অনুপম হাজরা লিখেছেন, রামপুরহাটের ভয়ঙ্কর গণহত্যা নিয়ে এখনও অবধি কোনও বুদ্ধিজীবিকে কেন টুঁ শব্দ করতে দেখা গেল না। কেন কাউকে রাস্তায় নামতে দেখা গেল না। প্রিপেড বুদ্ধিজীবী বা বুদ্ধিজীবীদের লিডারকে কাক-শিল্পী বলেও কটাক্ষ করেছেন নীরব থাকা নিয়ে।

শুধু অনুপম হাজরা নন, সৌমিত্র খানও বাংলার বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে বিতর্কিত পোস্ট করেছেন। তিনি কটূ ভাষায় ক্যাপশনে লেখেন- বাংলার বুদ্ধিজীবীরা চোখে কন্ডোম বেঁধে ল্যাংটা হয়ে ঘুমোচ্ছে। তারপর লেখেন, আসলে বুদ্ধিজীবীরা নির্লজ্জ। বুদ্ধিজীবীরা কাউকে মুখ খুলতে দেখা যায়নি। এখন পর্যন্ত তাঁরা প্রায় সবাই চুপ। সবার মুখে কুলুপ। তা বলে যে ভাষায় তিনি সমালোচনা করেছেন, তাও সমর্থনযোগ্য নয়। তাঁর ভাষা ব্যবহারে শালীনতার মাত্রা অতিক্রম করে গিয়েছে।

বামপন্থীদের পক্ষে শ্রীলেখা মিত্রও বুদ্ধিজীবীদের নীরব থাকা নিয়ে সরব হয়েছেন। সরব হয়েছেন টলি ও টেলি অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নীরবতা নিয়েও। তিনি বলেছেন, আমি এখন ইন্ডাস্ট্রির মানুষেদের কাছে থেকে এর বেশি কিছু আশা করি না। মোট কথা, বুদ্ধিজীবীদের এই নীরব থাকা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। রাজনৈতিক মহল থেকে এমনকী অন্য জগতের মানুষেরাও বুদ্ধিজীবীদের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন।

বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছেন, তবে কি বুদ্ধিজীবীরা শুধু শাসকদসলের পক্ষে কথা বলতেই সক্রিয় হয়ে ওঠেন। বাংলার বুকে এমন একটা নারকীয় ঘটনার পরও তাঁরা মুখ খুলছেন না। নাকি তাঁরা ভয় পান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে। বাংলার সরকার তথা শাসক দলের সমালোচনা করলে যদি সুবিধা হারাতে হয়, তার ভয়ে তাঁরা মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকেন, সেই প্রশ্ন কিন্তু উঠতে শুরু করেছে।

বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে সৌমিত্র খান যে মন্তব্য করেছেন, সে প্রসঙ্গে বিজেপি মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, অপশব্দের স্বীকৃতি দিই না। তবে বুদ্ধিজীবী ক'জন আছেন জানি না। নন্দীগ্রামের গণহত্যার সমর্থনে যারা হেঁটেছিলেন, আজ তাঁরা সরকারের পাশে। তারা প্রতিবাদ করবেন না, এটাই স্বাভাবিক।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+