শাসকের চিন্তা বাড়িয়ে দ্বিতীয় পজিশনে নির্দল! একাধিক পুরসভায় কাঁটা 'বহিষ্কৃত' তৃণমূলীরাই
প্রথমদিন থেকেই তৃণমূলের কাছে বড় ফ্যাক্টার ছিল নির্দল প্রার্থীরা! আর সেজন্যে বারবার দলের তরফে এই সমস্ত কাঁটাদের সরানোর জন্যে চেষ্টা চালানো হয়েছে। বারবার মনোনয়ন তুলে নেওয়ার জন্যে বার্তা দেওয়া হয়। এমনকি এই অবস্থায় মাঠে নামত
প্রথমদিন থেকেই তৃণমূলের কাছে বড় ফ্যাক্টার ছিল নির্দল প্রার্থীরা! আর সেজন্যে বারবার দলের তরফে এই সমস্ত কাঁটাদের সরানোর জন্যে চেষ্টা চালানো হয়েছে। বারবার মনোনয়ন তুলে নেওয়ার জন্যে বার্তা দেওয়া হয়। এমনকি এই অবস্থায় মাঠে নামতে হয় তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

কিন্তু এরপরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুমোদিত প্রার্থীদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল এই সমস্ত নির্দল প্রার্থীরা। শেষমেশ বরখাস্ত করা হলেও ভোটের পরেও সেই চিন্তার ভাঁজ নির্দলই।
সকাল ৮টা থেকে রাজ্যের ১০৮ পুরসভার ভোট গণনা শুরু হয়। আর তা শুরু হতেই খেলা ঘুরতে শুরু করে। একের পর এক পুরসভায় তৃণমূল প্রার্থীদের জয়জয়কারের খবর সামনে আসতে থাকে। এমনকি উত্তর থেকে দক্ষিণ সর্বত্রই পুরসভা তৃণমূলের দখলে যেতে শুরু করেছে। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে প্রত্যেক ক্ষেত্রেই তৃণমূলের কাঁটা হয়ে রয়ে যাচ্ছে নির্দল।
একের পর এক পুরসভার একাধিক ওয়ার্ডে নির্দল প্রার্থীদের জয়ের খবর আসছে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ওয়ার্ডে রীতিমত তৃণমূল প্রার্থীরা এই সমস্ত নির্দল প্রার্থীদের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করছেন। যথেষ্ট বেগও পেতে হচ্ছে!
যেমন কোচবিহারের ২ নং ওয়ার্ডে তৃণমূল প্রার্থী তথা নিজের মাকে ভোটে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন নির্দল প্রার্থী। আর জেতার পরেই স্পষ্ট জানিয়েছেন, এটা পারিবারিক নয়, রাজনৈতিক লড়াই। আমাকে মানুষ চেয়েছিল তা প্রমাণ হল। অন্যদিকে বাঁকুড়া পুরসভার ৭ নং ওয়ার্ডে জয়ী হলেন নির্দল প্রার্থী দিলীপ আগরওয়াল। ভোটের আগেই তাঁকে তৃণমূল থেকে বহিস্কার করা হয়েছিল। আজ তিনিও জয় পেয়েছেন।
পুরভোটে এভাবে নির্দল প্রার্থীদের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে ক্ষোভও উগরে দিয়েছেন একাধিক পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী। এক তৃণমূল নেতার কথায়, দল যেভাবে চলছে তাতে খুব খারাপ দিন আসতে চলেছে। অন্যদিকে এক জয়ী নির্দল প্রার্থীর কথায়, আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক আগেও ছিলাম, এখনও আছি। দল ফিরিয়ে নিলে অবশ্যই যোগ দেব। যদিও নির্দল তৃণমূলের কাছে কোনও কাঁটা কিংবা চিন্তার কারন নয় বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক দেবাশিষ কুমার।
তিনি জানিয়েছেন, আগেই তো এদের বহিস্কার করা হয়েছে। তবে তাঁদের দলে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রশ্নে ওই বিধায়ক জানিয়েছেন, কোনও প্রশ্নই ওঠে না। তাঁদের দলে ফেরানো হবে না। তবে দেবাশিষবাবু জানিয়েছেন, এই সমস্ত ভোটে এই সমস্ত নির্দলরা যেতে। এত ভাবার কিছু নেই।
তবে ১০৮ পুরসভার ভোটে দ্বিতীয় জায়গাতে কে যাবে তা নিয়ে একটা নজর রয়েই গিয়েছে। তবে এখনও যা ট্রেন্ড তা কার্যত নজিরবিহীন বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিভিন্ন জায়গাতে নির্দলরাই দ্বিতীয় পজিশনে রয়েছে। এখানেও ধারে কাছে নেই বিজেপি কিংবা বামেরা। তাহলে কি মানুষ এখনও তাঁদের দ্বিতীয় বিরোধী শক্তি হিসাবে কে থাকবে তা বেছে নিতে পারেনি? প্রশ্নটা থেকেই গিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications