Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

'একবার সুযোগ দিন, বাংলার 'বিকাশে'র জন্য টাকার অভাব...'! উন্নয়ন থেকে বঙ্কিমচন্দ্রের কথা, আর কী বললেন মোদী?

ঘন কুয়াশার কারণে সরাসরি সভার জায়গায় অর্থাৎ নদিয়ার তাহেরপুরে নামতে পারেনি নরেন্দ্র মোদীর হেলিকপ্টার। নিরাপত্তাজনিত কারণে মোদীর হেলিকপ্টার দমদম বিমানবন্দরে ফিরে আসে। তারপরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, সরাসরি সভাস্থলে না গিয়ে বিমানবন্দরের লাউঞ্জ থেকেই ভার্চুয়াল মাধ্যমে সভায় বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী।

মোদীর এই সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনাও ছিল চোখে পড়ার মতো। চাকদহে জাতীয় সড়কের ধারে 'গো ব্যাক মোদী' লেখা প্ল্যাকার্ডও দেখা যায়। বিজেপির দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকেই এই পোস্টার লাগানো হয়েছিল। যদিও তৃণমূল সেই অভিযোগ অস্বীকার করে জানায় যে, এর সঙ্গে তাদের কোনও যোগ নেই।

কুয়াশার কারণে বদলে যাওয়া কর্মসূচির কথা প্রথমেই জানিয়ে দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি এবং সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। তিনি জানান যে, প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার নামতে না পারার কারণে ভার্চুয়াল মাধ্যমেই ভাষণ শুরু হবে। সেই সময় বিমানবন্দরে দ্রুত ভার্চুয়াল সভার প্রস্তুতি শুরু করা হয়। কলকাতা বিমানবন্দরের ভিআইপি গেট দিয়ে পোডিয়াম এবং ডায়াস ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন মঞ্চে শমীক ভট্টাচার্য তাঁর ভাষণ চালিয়ে যান, কারণ প্রযুক্তিগত প্রস্তুতিতে কিছুটা সময় লাগছিল।

এই সফরের মধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনও হয়। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস রিমোটের মাধ্যমেই ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের কৃষ্ণনগর থেকে বড়জাগুলি পর্যন্ত প্রায় ৬৮ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের রাস্তার উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি দাবি করা হয় যে, এই সড়ক চালু হওয়ার পরে নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড়সড় উন্নতি হবে।

সব প্রস্তুতি শেষে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বক্তব্য দিতে শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যদিও প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই বক্তৃতা থামাতে হয়। পরে প্রযুক্তিগত সমস্যা ঠিক হলে ফের বক্তব্য শুরু করেন তিনি।

ভাষণের শুরুতেই বাংলায় সম্ভাষণ জানিয়ে মোদী বলেন, "জয় নিতাই, বড়রা প্রণাম নেবেন।" খারাপ আবহাওয়ার কারণে সরাসরি সভাস্থলে পৌঁছতে না পারার জন্য তিনি সকলের কাছে ক্ষমাও চান। কুয়াশার কারণে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। ট্রেনে কাটা পড়ে কয়েকজন বিজেপি কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে মোদী মৃতদের পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

নতুন সড়ক প্রকল্প নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, এই রাস্তা তৈরি হওয়ায় নদিয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনার মানুষরা অনেক দিনের বঞ্চনা থেকে মুক্তি পাবেন। কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি যেতে আগের তুলনায় প্রায় দু'ঘণ্টা কম সময় লাগবে বলে জানান তিনি। এতে ব্যবসা এবং অর্থনীতির গতি বাড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নদিয়ার ঐতিহ্যের কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যের মধ্যে। মোদী বলেন, এই মাটিতেই প্রেম, করুণা এবং ভক্তির প্রতীক চৈতন্যদেবের জন্ম। এক সময় নদিয়ার গ্রামে গ্রামে কীর্তনের সুরে ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে পড়েছিল। বাংলায় উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, "হরিনাম দিয়ে জগৎ মাতায় আমার একলা নিতাই।" পাশাপাশি মতুয়া সমাজ, হরিচাঁদ ঠাকুর, গুরুচাঁদ ঠাকুর ও বড়মার অবদানের কথাও স্মরণ করেন তিনি।

'বন্দে মাতরম' প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বাংলা ভাষা ভারতের ইতিহাস এবং সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা 'বন্দে মাতরম' স্বাধীনতার সময়ে দেশের মন্ত্র হয়ে উঠেছিল।" তাঁর কথায়, "আজ বিকশিত ভারতের মন্ত্রও বন্দে মাতরম। আর সেই ভাবনা থেকেই বিজেপি সরকার নতুন নীতি নিচ্ছে।"

রাজনৈতিক বক্তব্যে এসে মোদী বিহারের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, "সম্প্রতি জিএসটি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং রাজ্যে দু'টি বড় সড়ক প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে, যার ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নতি হয়েছে।" তিনি বলেন, "গত মাসে বিহারে এনডিএ সরকারের জনাদেশ তৈরি হয়েছে। তার পরেই বলেছিলাম যে, গঙ্গাজি বিহার থেকে প্রবাহিত হয়ে সোজা গঙ্গায় পৌঁছোয়। গঙ্গা বাংলাতেও বিজেপির জয়ের জন্য রাস্তা তৈরি করেছে।"

তারপরেই বিহারের 'জঙ্গলরাজ'-এর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন যে, "বিহারে জঙ্গলরাজের অবসান ঘটিয়েছে বিজেপি। এবং ২০ বছর পরেও সেখানে আগের থেকে বিজেপি বেশি আসন পেয়েছে।" তাঁর অভিযোগ, "পশ্চিমবঙ্গেও এখনও 'মহাজঙ্গলরাজ' চলছে। গ্রাম, শহর, পাড়া, সব জায়গাতাই আওয়াজ আসছে, মানুষ মুক্তি চায়। তারা বাঁচতে চায়।"

আবেগী সুরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি বাংলার মানুষের কাছে মন থেকে দুঃখ প্রকাশ করতে চান। তাঁর বক্তব্য, "তৃণমূল চাইলে মোদীর বিরোধ করুক, বিজেপির বিরোধ করুক, কিন্তু রাজ্যের উন্নয়ন যেন আটকে না রাখা হয়।" পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে আটকে আছে। তিনি বলেন, " একবার সুযোগ দিয়ে দেখুন, বাংলার 'বিকাশে'র জন্য টাকার অভাব হবে না। বিজেপিকে একবার সুযোগ দিলে দ্রুত গতিতে উন্নতি হবে।"

অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গেও তীব্র আক্রমণ করেন মোদী। তিনি বলেন, "অনুপ্রবেশকারীদের 'গো ব্যাক' বলা উচিত, অথচ বিরোধীরা 'গো ব্যাক মোদী' স্লোগান তুলছে।" তাঁর অভিযোগ, "তৃণমূল অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করছে এবং সেই কারণেই বিভিন্ন উদ্যোগের বিরোধিতা করছে।" ত্রিপুরার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, "সেখানে মানুষ বিজেপিকে সুযোগ দিয়েছিল, আর সেখানে উন্নয়ন হয়েছে।"

শেষে মোদী বলেন, "বাংলাতে এমন সরকার দরকার, যারা দ্রুত গতিতে উন্নয়ন করবে।"

আবহাওয়ার কারণে আজ সরাসরি আসতে না পারলেও তিনি বারবার বাংলায় আসবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। "আপনাদের স্বপ্ন পূরণ করতে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে আমি আবার আসব"-এই বার্তা দিয়েই 'বন্দে মাতরম' বলে সভা শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+