নারদ মামলায় জামিন মঞ্জুর ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র ও শোভন চট্টোপাধ্যায়ের
অবশেষে জামিন পেলেন নারদ কাণ্ডে ধৃত চার হেভিওয়েট অভিযুক্ত।
নারদ কাণ্ডে মুখ পুড়ল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের। কার্যত শুনানিতে সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে উঠল প্রশ্ন। এরপর দীর্ঘক্ষণ রায়দান স্তগিত রাখে আদালত।

অবশেষে সোয়া ৭টা নাগাদ আসে স্বস্তির খবর। নারদায় ধৃত ৪ জন অর্থাৎ ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র এবং শোভন চট্টোপাধ্যায়ের অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করল বিশেষ সিবিআই আদালত। সোমবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে এই শুনানি চলে।
কোভিড পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ভার্চুয়াল শুনানির আয়োজন করা হয়েছিল। ভার্চুয়ালের মাধ্যমে হয় এই শুনানি।
জানা যাচ্ছে, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই সম্পূর্ণ নির্দেশনামা চলে আসবে। আর তা চলে আসলে রাতের মধ্যেই এই চারজনকে ছেড়ে দেওয়া হবে। অন্যদিকে, রাজ্যের দুই মন্ত্রী সহ এক বিধায়ককে গ্রেফতারের পরেই সকাল থেকে ভিড় বাড়তে থাকে তাদের অনুগামীদের।
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিজাম প্যালেসের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন তাঁরা। তাঁদের দাবি ছিল, তাঁদের প্রিয় নেতাদের ছাড়তে হবে। আদালতের রায় সামনে আসার পরেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন নেতা কর্মীরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে উঠতে থাকে লাগাতার স্লোগান।
অন্যদিকে, আদালতে এদিন তৃণমূলের বিধায়ক-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে আদালতে সওয়াল করেন তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। নারদ কাণ্ডে বিরোধী দল নেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি বিধায়ক মুকুল রায়কে কেন গ্রেফতার করা হল না, তা নিয়ে এদিন সকালে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি ধৃত ৪ জনের জামিনের আবেদন করেন। যদিও তার বিরোধিতা করে সিবিআই। সিবিআই পক্ষের আইনজীবী ধৃতদের জেল হেফাজতে রাখার আর্জি জানায়। ১৪ দিনের জেল হেফাজতে রাখার জন্যে আদালতে সওয়াল করেন সিবিআইয়ের আইনজীবীরা।
সওয়াল জবাবে সিবিআই পক্ষের আইনজীবীরা বলেন, ধৃতরা বাইরে বেরিয়ে প্রমাণ নষ্ট করে দিতে পারেন। এমনকি প্রভাবশালী তকমা দেওয়ারও চেষ্টা করেন সিবিআইয়ের আইনজীবীরা। ধৃতদের আইনজীবীরা পাল্টা যুক্তি দেখান, ফিরহাদ কলকাতা পুরসভার প্রধান প্রশাসক।
সাম্প্রতিক কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তাঁকে প্রয়োজন। অন্য দিকে ম্যাথু স্যামুয়েলের স্টিং অপারেশন নিয়েই প্রশ্ন তোলেন শোভনের আইনজীবী।
অন্যদিকে এদিন আদালতে চার্জশিটও জমা দেয় সিবিআই। চার্জশিট জমা দেওয়ার পরে আদালত শুনানিতে জানায়, চার্জশিট যখন জমা পড়ে গিয়েছে তখন কীসের প্রয়োজন ধৃতদের হেফাজতে রাখার। অন্যদিকে, বিধানসভার অধ্যক্ষের অনুমতি ছাড়া মন্ত্রী এবং জন প্রতিনিধিদের কী ভাবে গ্রেফতার করা হল, আদালতে সোমবার সেই প্রশ্নও তোলেন কল্যাণ।
গ্রেফতারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কল্যাণের মন্তব্য, ''রাজ্যপাল যা করেছেন পিছনের দরজা দিয়ে করেছেন।'' কোভিড পরিস্থিতিতে গ্রেফতার নিয়ে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কথাও তুলে ধরা হয় আদালতে। সোমবার সকালেই নারদ কাণ্ডে গ্রেফতার করা হয় রাজ্যের মন্ত্রী তথা প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে।
সেই সঙ্গে গ্রেফতার করা হয় কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রকে। এই ৩ জনের সঙ্গে তালিকায় ছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়ও।
জানা গিয়েছে, আদালতব এদিন নারদায়চ চারজনকে জামিন দিলেও বেশ কিছু শর্ত আরোপ করেছে। জানা যাচ্ছে, ৫০ হাজার টাকার বন্ডে জামিন দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও আরও বেশ কিছু শর্ত দেওয় হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications