হাজারের বেশি অভিযোগ, পুনর্নির্বাচন মাত্র দুটি বুথে! নির্বাচন কমিশনের ঘোষণায় ক্ষোভ
বাংলার ভোটে অভিযোগের কমিতি নেই। বুথদখল, ছাপ্পা, রিগিং, ভুয়ো ভোটার- সবরকম ঘটনার ঘনঘটা বাংলার ১০৮ পুরসভার ভোটে। বিরোধীরা বহু ওয়ার্জডে পুনর্নির্বিচানের দাবি জানিয়েছেন। তারপরও মাত্র দুটি বুথে পুনর্নির্বাচন।
বাংলার ভোটে অভিযোগের কমিতি নেই। বুথদখল, ছাপ্পা, রিগিং, ভুয়ো ভোটার- সবরকম ঘটনার ঘনঘটা বাংলার ১০৮ পুরসভার ভোটে। বিরোধীরা বহু ওয়ার্জডে পুনর্নির্বিচানের দাবি জানিয়েছেন। তারপরও মাত্র দুটি বুথে পুনর্নির্বাচন ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। সোমবার রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাতের পর নির্বাচন কমিশন পুনর্নির্বাচন ঘোষণা করে। মঙ্গলবারই হবে ভোট।

রাজ্যে লাগামছাড়া ভোট সন্ত্রাসের কারণে রাজ্যপাল এদিন তলব করেছিল নির্বাচন কমিশনকে। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল নির্বাচন কমিশন শোচনীয় ব্যর্থ। রাজ্যের ভোট সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করার কথা বলেছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু দেখা যাচছে নির্বাচন কমিশন সেই দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। ফলে ভোট হয়েছে সন্ত্রাসের আবহে। বাংলার পুরভোটে বুথদখল, হিংসা, রিগিং, ছাপ্পা হয়েছে। ভোটের নামে হয়েছে চূড়ান্ত প্রহসন।
সেই কারণেই বাংলার একাধিক পুরসভার বহু ওয়ার্ডে পুনর্নির্বাচনের দাবি তুলেছিলেন বিরোধীরা। বিজেপি থেকে সিপিএম তথা বামফ্রন্ট, কংগ্রেস, এমনকী নির্দলের তরফেও পুনর্ভোটের আবেদন করা হয়। স্বভাবতই নির্বাচন কমিশনের দিকে নজর ছিল বিরোধীদের। নির্বাচন কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার অপেক্ষায় ছিল তারা। কিন্তু দেখা গেল অপেক্ষাই সার।
এদিন রাজ্যপালের ডাকে সাড়া দিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার সৌরভ দাস যান রাজভবনে। রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশনার সিদ্ধান্ত নেন পুনরায় ভোট করার। মাত্র দুটি বুথে তিনি পুনর্ভোটের ঘোষণা করেন। শ্রীরামপুর পুরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের ৭ নম্বর বুথ ও দমদম পুরসভার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের চার নম্বর বুথে পুনরায় ভোটগ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
অভিযোগ, রাজ্যের ১০৮টি পুরসভায় মোট ২২৭৬টি ওয়ার্ডে ভোট হয়েছে রবিবার। ১১২৮০ বুথে এই ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। ভোটে সকাল থেকেই হিংসার ঘটনা ঘটছে একাধিক। সাকুল্যে হাজারেরও বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনে। ২৪টিরও বেশি ইভিএম ভাঙার অভিযোগ গিয়েছে নির্বাচন কমিশনে। সেই অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখেই দুটি বুথে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
এদিন মাত্র দুটি বুথে পুনর্নির্বাচন ঘোষণার পর তার পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিরোধীরা। বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, শান্তিপূর্ণ ছাপ্পা হয়েছে। তার পরে কী দরকার পুনর্ভোটের। নির্বাচন কমিশন মাত্র দুটি বুথে পুনর্নির্বাচন না ঘোষণা করলেই ভালো করত। কী হবে মাত্র দুটি বুথে পুনরায় ভোট করিয়ে। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে। তাহলে কী দরকার দুটি বুথে পুনর্নির্বাচনের। এই হাস্যাস্পদ সিদ্ধান্ত না নিলেই পারত নির্বাচন কমিশন। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ সুষ্ঠু ভোট করতে। এবার মাত্র দুটি বুথে পুনর্নির্বাচন করে নির্বাচন কমিশন ফের একবার তাদের অযোগ্যতার পরিচয় দিল।












Click it and Unblock the Notifications