নথি চাই না, এনআরসিতে নাম তুলতে হলে বিজেপিকে বলুন! বিজেপির দিলীপের কথাই ঢাল তৃণমূল কংগ্রেসের
বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও জনসংযোগে বেরোচ্ছেন নিয়মিত। তেমনই রাজাভাতখাওয়ার বনবস্তিতে গিয়ে তিনি পড়লেন এনআরসি নিয়ে প্রশ্নের মুখে।
লোকসভা ভোটে ধাক্কা খেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 'দিদিকে বলো' অভিযানে নেমে জনসংযোগে মন দিয়েছেন। আর লড়াই যখন ২০২১-এর, বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষই বা পিছিয়ে থাকেন কী করে। তিনিও রাজ্য জুড়ে জনসংযোগে বেরোচ্ছেন নিয়মিত। তেমনই রাজাভাতখাওয়ার বনবস্তিতে গিয়ে তিনি পড়লেন এনআরসি নিয়ে একাধিক প্রশ্নের মুখে।

দিলীপের পথ আটকালেন মহিলা
দলের এক কর্মীর বাড়ি থেকে মধ্যাহ্নভোজ সেরে বেরোতেই দিলীপ ঘোষের পথ আটকালেন এক মহিলা। তাঁর সরাসরি প্রশ্ন, আমার কাছে নথিপত্র কিছু নেই। তাহলে কি আমাকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে। পাঁচ মাস আগে স্বামী মারা গিয়েছেন। আমি কি তাহলে সন্তানদের নিয়ে এ দেশ থেকে বিতাড়িত হব?

মহিলার প্রশ্ন- আমাদের তাড়িয়ে দেবেন
জনৈক মহিলা অনিভা করের প্রশ্ন শুনে থমকে গিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। একটু সামলে নিয়ে জবাব দিলেন, ফনার নথিপত্রের কোনও প্রয়োজন নেই। আপনি থাকলেই হবে। প্রয়োজনে আপনি আমাদের বলবেন। দিলীপের এই মন্তব্যেই বিতর্ক তীব্র আকার নিয়েছে।

৯৩ সালের বন্যায় ভেসে গিয়েছে নথি
বিজেপি নেতা বিজয় শর্মার বাড়ি থেকে বের হওয়ার পরই স্থানীয় বাসিন্দা অনিভা কর দিলীপ ঘোষের সামনে এসে দাঁড়ান। দিলীপ ঘোষকে সামনে পেয়ে অনিভাদেবী ছুঁড়ে দেন মনে জেগে ওঠা প্রশ্নটা। পেড়েও ফেলেন দিলীপ ঘোষের সামনে। তিনি জানান, তাঁদের সমস্ত নথিপত্র ৯৩ সালের বন্যায় ভেসে গিয়েছিল।

নথির প্রয়োজন নেই, তাঁরা আছেন
বিজেপি সভাপতির কাছে তাঁর প্রশ্ন, তাহলে কি আমাদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে। আর তা শুনে দিলীপ ঘোষ যে জবাব দিলেন, তাতে আগুনে ঘি পড়ে গেল। তিনি যা বললেন, তার অর্থ হল- নথির প্রয়োজন নেই, তাঁরা বললেই এ দেশে থাকা যাবে, তালিকায় নাম থাকবে।

দিলীপের বয়ানই হাতিয়ার তৃণমূলের
দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য তাই হাতিয়ার করেছে তৃণমূল। তৃণমূলের কথায়, নথি থাকা সত্ত্বেও অসমে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়ে গেল এনআরসির তালিকা থেকে। সেখানে দিলীপ ঘোষ বলছেন, নথির কোনও প্রয়োজনই নেই। তৃণমূলের যুক্তি, এনআরসি নিয়ে অস্বস্তি ও বিক্ষোভ এড়াতেই ওই কথা বলে কোনওরকমে গা বাঁচিয়েছেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications