ধর্ষণের চেষ্টা, নিগৃহীতার বাবার চোখে রড, সাফাই দিলেন মন্ত্রী

স্থানীয় সূত্রে খবর, অভিযুক্তের নাম রিন্টু শেখ। সে এক সপ্তাহ আগে পাড়ারই এক মহিলাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। আগেও ইভটিজিং, শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটিয়েছে ওই ব্যক্তি। কিন্তু লোকলজ্জার ভয়ে কেউই থানায় যাননি। কিন্তু এ বার নির্যাতিতার বাড়ির লোকজন রুখে দাঁড়ায় রিন্টু শেখের বিরুদ্ধে। ইংরেজবাজারের পুকুরিয়া থানায় অভিযোগ জানান ওই মহিলার বাবা। অভিযোগ, পুলিশ 'দেখছি, দেখব' বলে ব্যাপারটা নিয়ে গড়িমসি করে। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত নিগৃহীতাকে শাসায়। বলে, অভিযোগ তুলে না নিলে দলবল নিয়ে এসে গণধর্ষণ করবে তাঁকে। এতে বেজায় ভয় পেয়ে গিয়ে ওই মহিলার বাবা আবার থানায় যান। এ বারও পুলিশ চরম শৈথিল্য দেখায়।
এদিকে, রিন্টু শেখ জানতে পারে ঘটনাটি। ক্ষেপে গিয়ে মাঝ রাস্তাতেই চড়াও হয় মেয়েটির বাবার ওপর। প্রথমে তাঁকে ঘুষি-লাথি মারে। তার পর মাটিতে ফেলে বুকের ওপর চেপে বসে লোহার একটি রড ঢুকিয়ে দেয় চোখে। অত্যাচারে তিনি জ্ঞান হারান। প্রৌঢ় মারা গিয়েছে ভেবে চম্পট দেয় অভিযুক্ত। এখনও তাকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। নিগৃহীতার অভিযোগ, পুলিশ রিন্টু শেখের কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা নিয়েছে। তাই কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না তারা।
ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে লেখিকা বোলান গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, "এমন বর্বর কাণ্ড যারা ঘটায়, তারা মানসিকভাবে অসুস্থ। গোটা রাজ্যে লুম্পেনদের বাড়বাড়ন্ত হয়েছে। পুলিশের কাজ নবান্নে গিয়ে আনুগত্য দেখানো। এটাই এখন আমাদের পুলিশের দায়বদ্ধতা। এই নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে রাজনীতি ভুলে সবার রাস্তায় নামার সময় হয়েছে।"
কংগ্রেস নেতা তথা চিত্রশিল্পী সমীর আইচ বলেন, "মধ্যমগ্রাম, বারাসত, মহেশতলা সর্বত্র এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এখন মালদহে ঘটল। মুখ্যমন্ত্রী মানুষের নিরাপত্তায় নজর দেবেন কী, উনি তো উৎসব করতে ব্যস্ত। কখনও ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, কখনও আইপিএল, উৎসব আর শেষ হচ্ছে না।"
এদিকে, এই ঘটনাকে লঘু করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন স্থানীয় বিধায়ক তথা মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী। তিনি বলেন, "আমি যত দূর জানি, মেয়েটি বিধবা। মেয়েটির সঙ্গে অভিযুক্তের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। দু'জনে মেলামেশা করত। কেউ স্বেচ্ছায় সহবাস করলে তাকে ধর্ষণ বলা যায় না। কিছুদিন আগে মেয়েটির বাবা তাঁর মেয়েকে ওই ছেলেটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখতে পান। তখন তিনি বাধা দিতে ছেলেটি রেগে গিয়ে আক্রমণ করে। ধর্ষণের কোনও ঘটনা ঘটেনি।"
মন্ত্রীর এমন কথা শুনে বিজেপি নেতা তথাগত রায়ের সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, "উনি বলতে পারতেন যে, চোখে রড ঢুকিয়ে দেওয়ার ব্যাপারটাও সম্মতি সাপেক্ষে ঘটেছিল। ধর্ষণের মতো ঘটনায় এমন আলটপকা মন্তব্য দুর্ভাগ্যজনক।" তদন্তের আগে মন্ত্রী কি করে ধরে নিলেন যে ধর্ষণ হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তথাগতবাবু।












Click it and Unblock the Notifications