এসআইআর নিয়ে নতুন বিতর্ক, ফর্ম বিলির মাঝেই রাস্তায় লুটিয়ে পড়লেন কোন্নগরের প্রৌঢ়া বিএলও তপতী বিশ্বাস
এসআইআর প্রক্রিয়াকে ঘিরে রাজ্যে যখন মালবাজারের এক বিএলওর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তপ্ত রাজনৈতিক পরিবেশ, ঠিক সেই সময় আরও এক উদ্বেগজনক ঘটনা সামনে এল হুগলির কোন্নগর থেকে। এনুমারেশন ফর্ম বিলি করতে গিয়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেন প্রায় ৬০ বছরের প্রৌঢ়া বিএলও তপতী বিশ্বাস। রাস্তায় ঢলে পড়তেই তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানান তাঁর সেরিব্রাল অ্যাটাক হয়েছে, বাঁ দিক সম্পূর্ণ অবশ।
পরিবারের দাবি, অসহনীয় কর্মচাপই এই পরিণতির জন্য দায়ী। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে ভিন্ন কথা তপতীর রক্তে শর্করা ও রক্তচাপ দুটিই অত্যন্ত বেশি ছিল, এছাড়াও নিয়মিত ওষুধ না খাওয়ার কারণেই মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ঘটতে পারে।

তপতী পেশায় ছিলেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও কোন্নগর নবগ্রামের বাসিন্দা। কয়েক মাস ধরেই শারীরিকভাবে দুর্বল ছিলেন তিনি। স্বামী প্রবীর বিশ্বাসের অভিযোগ, স্ত্রীকে বারবার সতর্ক করা হয়েছিল এই দায়িত্ব না নেওয়ার জন্য। কিন্তু তপতীর মতে, "বিএলওর দায়িত্ব না নিলে চাকরিই থাকবে না।" সেই বাধ্যবাধকতাই আজ বিপদ ডেকে আনল।
প্রবীর বিশ্বাস আরও জানিয়েছেন
ফর্ম বিলি থেকে জমা নেওয়া,
তারপর সেই বিপুল তথ্য মোবাইল অ্যাপে আপলোড করা, ইন্টারনেটের অস্থিরতার কারণে কিউআর কোড স্ক্যান করতে না পারা, আর দিনরাত ভোটারদের ফোন,সব মিলিয়ে অসহনীয় চাপেই ভেঙে পড়ছিলেন তপতী। রাতে ঘুম আসত না, উদ্বেগ বাড়ছিল দিন দিন।
তথ্য অনুসারে, কোন্নগর পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে বিএলও হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন তপতী বিশ্বাস। তাঁর দায়িত্বে থাকা বুথে মোট ভোটার সংখ্যা ১০১৬। এখনও প্রায় ৪৫ জন ভোটারের কাছে ফর্ম পৌঁছোয়নি। আবার অনেকের ফর্ম জমাও পড়ে থাকছে। ডিজিটাল আপলোডের কাজেরও বড় অংশ এখনও অসম্পূর্ণ।
এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তাই আরও ঘনীভূত হচ্ছে,
বারবার কি বিএলওদের অস্বাভাবিক চাপের মধ্যেই ঠেলে দেওয়া হচ্ছে?
কোন্নগরের ঘটনাটি সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল।












Click it and Unblock the Notifications