সিবিআই গ্যালারি শো করছে! খেজুরির ঘটনায় সিআইডিতেই আস্থা হাইকোর্টের
সিবিআইকে তীব্র কটাক্ষে বিঁধলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরিতে দুই বিজেপির কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার তদন্তভার সিআইডিকে দেওয়ার আভাসও দিয়ে রাখলেন তিনি। কাল এই মামলায় চূড়ান্ত নির্দেশ দেবেন বিচারপতি।

গত ১১ জুলাই খেজুরিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে গিয়েছিলেন ২৩ বছরের সুজিত দাস ও বছর ৬৫-র সুধীর পাইক। সুজিত পূর্ব ভাঙনমারি ও চন্দ্র ঝাঁটিহারির বাসিন্দা ছিলেন। তাঁদের মৃতদেহ উদ্ধারের পর তাম্রলিপ্ত মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্তে পাঠায় খেজুরি থানার পুলিশ। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান পুলিশের। স্থানীয়রাও জানান, হ্যালোজেন খুলে তাঁদের উপর পড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এই দুজনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বারবার বলে এসেছেন, মহরমেক জলসা দেখতে যাওয়া ওই দুজনকে পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে শুধু দুজন হিন্দুর কেন মৃত্যু হবে? এই বিষয়টি নিয়ে মামলা হয় কলকাতা হাইকোর্টে।
তাম্রলিপ্ত মেডিক্যাল কলেজে যে ময়নাতদন্ত হয়েছিল তার রিপোর্টে উল্লেখ, তড়িদাহত হয়েই মৃত্যু হয়েছে দুজনের। তবে মৃতদের পরিবার তা মানতে রাজি হয়নি। হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় দুটি পরিবার। ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত হয়। তার রিপোর্টে বলা হয়, দুজনের দেহে আঘাতের চিহ্ন মিলেছে।
রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল শুনানি চলাকালীন ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ফারাকের কথাটি স্বীকার করে নেন। বিচারপতি তখন প্রশ্ন তোলেন, চিকিৎসকদের মতামতে এত পার্থক্য কেন? এতে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। বিচারপতি বলেন, জেলার ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা অভিজ্ঞ নন? নাকি তাঁদের স্থানীয় ব্যক্তিদের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে?
আজ শুনানি চলাকালীনই মামলাকারীদের তরফে বলা হয়, আমাদের রাজ্য পুলিশে ভরসা নেই। সে কারণেই সিবিআই চাইছি। এরপর বিচারপতি পর্যবেক্ষণে বলেন, এই মামলা সেই পর্যায়ে এখনও নেই। সিবিআই এখন গ্যালারি শো করে। পরে পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে। বিচারপতি মৌখিক পর্যবেক্ষণে বলেন, ডিআইজি পদমর্যাদার একজন আধিকারিকের নেতৃত্বে সিট গঠন করবেন এডিজি সিআইডি। হোমিসাইড শাখার আধিকারিকরাও সেই টিমে থাকবেন। বিশেষ তদন্তকারী দলের হাতে তুলে দিতে হবে তদন্তভার। মাসখানেকের মধ্যেই তদন্তের অগ্রগতি রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
এ প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, কলকাতা হাইকোর্ট যখন সিবিআই নিয়ে এমন পর্যবেক্ষণের কথা বলছে তখন তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।












Click it and Unblock the Notifications