রাজ্য পুলিশে অনাস্থা, পাড়ুই-কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের

পাড়ুই-কাণ্ডেও শেষ পর্যন্ত সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বুধবার বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডন এই আদেশ দেন।
২০১৩ সালে পঞ্চায়েত ভোটের সময় প্ররোচনামূলক ভাষণ দিয়েছিলেন বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। নির্দল প্রার্থীদের ওপর বোমা মারার কথা বলেছিলেন তিনি। বলেছিলেন, ঘরে আগুন লাগিয়ে দিতে। এর পরই ওই বছরের জুলাই মাসে বীরভূম জেলার পাড়ুই গ্রামে খুন হয় নির্দল প্রার্থী সাগর ঘোষ। অভিযোগ ওঠে, তৃণমূল কংগ্রেসের মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীরা এই খুন করেছে। কারণ সাগর ঘোষের জনপ্রিয়তায় শাসক দল ভয় পেয়ে গিয়েছিল। ৪১ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ রুজু হয়। তাতে নাম ছিল অনুব্রত মণ্ডলেরও।
নিহত সাগর ঘোষের পরিবার অভিযোগ তোলে, অনুব্রত মণ্ডলের প্ররোচনামূলক ভাষণের পরই হামলার ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি, ঘটনার পরও তিনি নানাভাবে ভয় দেখাচ্ছেন, মামলাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। রাজ্য পুলিশের 'সিট' (স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম) এই ঘটনার তদন্ত করলেও তার ভূমিকা নিয়ে এর আগে হাই কোর্ট ক্ষোভ ব্যক্ত করেছিল। কিছুদিন আগে পর্যন্তও বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের এজলাসে মামলাটি চলছিল। তিনি ওই মামলা থেকে ব্যক্তিগত কারণে সরে দাঁড়ানোয় বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডন তার ভার পান। পুলিশ একপেশে তদন্ত করায় ডিজি-কে ডেকে পাঠিয়ে ভর্ৎসনা করেন বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডন। তার পরও পুলিশের হুঁশ ফেরেনি।
এ দিন সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিতে গিয়ে বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডন বলেন, তদন্ত নিরপেক্ষ হয়নি। 'সিট' রাজনীতিক প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে কাজ করতে পারেনি। একপেশে তদন্ত করেছে তারা। যেখানে অনুব্রত মণ্ডল প্ররোচনামূলক ভাষণ দিয়েছিলেন, সেখানে 'সিট' তাকে ক্লিনচিট দিয়েছে। রাজ্য পুলিশের ডিজি 'সিট'-এর মাথায় ছিলেন। কিন্তু তিনি দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে কাজ করেছেন। তদন্তের রিপোর্ট যেখানে খামবন্ধ করে আদালতে পেশ করার কথা, সেখানে অন্যান্য অফিসারদের তা দেখানো হয়েছে। তাই গোটা বিষয়টি নতুন করে তদন্ত করুক সিবিআই। বিচারপতি আরও জানান, তদন্তে নজরদারি করবে হাই কোর্ট।
আদালতের রায়ের পর উচ্ছ্বাস চেপে রাখেননি নিহত সাগর ঘোষের ছেলে হৃদয় ঘোষ। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "আমি মহামান্য কলকাতা হাই কোর্টের এই রায়ে খুশি। আশা করি, এ বার ন্যায়বিচার পাব। ভাবতে পারেন, আমার বাবা খুন হয়েছে অথচ আমারই বয়ান নেয়নি সিট। বারবার বলেছি, অনুব্রত মণ্ডল আমাদের ভয় দেখাচ্ছে। ওরা কোনও ব্যবস্থাই নিল না। সিবিআই নিরপেক্ষ তদন্ত করে সঠিক তথ্য তুলে ধরবে বলে আশা রাখছি। যা বলার এ বার সিবিআই-কে বলব।"
কিন্তু রাজ্য সরকার জানিয়েছে, তারা সিঙ্গল বেঞ্চের এই নির্দেশের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করবে।












Click it and Unblock the Notifications