টার্গেট মমতা! কংগ্রেসমুক্ত ভারত ছেড়ে আঞ্চলিক দলমুক্ত রাজ্য গড়তে চায় বিজেপি
টার্গেট মমতা! কংগ্রেসমুক্ত ভারত ছেড়ে আঞ্চলিক দলমুক্ত রাজ্য গড়তে চায় বিজেপি
২০১৪-য় মোদী সরকারে ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি কংগ্রেস মুক্ত ভারত গড়ার ডাক দিয়েছিল। তা গত ছ-বছরে কংগ্রেসকে বাগে পেয়েও তা সম্ভব হয়নি। এবার সেখান থেকে সরে এসে বিজেপি চাইছে আঞ্চলিক দলগুলিকে নির্মূল করতে। তার প্রথম টার্গেয় হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। সেই লক্ষ্যে মিশন ২০২১-এ বিজেপির পাখির চোখ এখন বাংলায়।

বিহার জেতার পর বাংলার নির্বাচন জিততে মরিয়া বিজেপি
বিহার জেতার পর বাংলার নির্বাচন জিততে মরিয়া বিজেপি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে ফলতে কোমর বেঁধে নেমেছে তাঁরা। ২০২১-এ অনেক রাজ্যে ভোট রয়েছে, কিন্তু বাংলাকে তাঁরা পাখির চোখ করছে। পাঁচ জন কেন্দ্রীয় নেতাকে বাংলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আরও অনেক কেন্দ্রীয় নেতাকে নামানো হচ্ছে বাংলার তৃণমূলকে হারাতে।

বিজেপি জেডিইউয়ের থেকে বড় পার্টি হয়ে গিয়েছে বিহারে
বিহারে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি আঞ্চলিক পার্টি জনতা দল ইউনাইটেড সুপ্রিমো নীতীশ কুমারকে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসিয়েছে ঠিকই, কিন্তু লোক জনশক্তি পার্টিকে ব্যবহার করে আকারে ছোট করে দিয়েছেন জেডিইউকে। এবার বিজেপি জেডিইউয়ের থেকে বড় পার্টি হয়ে গিয়েছে। ফলে নীতীশ কুমার কুর্সিতে বসলেও রাশ রয়েছে বিজেপির হাতে।

তেলঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি বিজেপির টার্গেট হায়দরাবাদ পুরভোটে
বাংলার মতো হায়দরাবাদ পুর নির্বাচনে বিজেপি একই কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে। সেখানে তেলঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতিকে হারানো তাঁদের মূল উদ্দেশ্য। মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাওর নেতৃত্বাধীন টিআরএস এখানে বিজেপিকে দাঁত ফোটাতে দেননি বিগত বিধানসভা নির্বাচনে। আসাদউদ্দিন ওয়াইসিকে নিয়ে ভোট মেরুকরণের অভিযোগ রয়েছে এখানে।

মহারাষ্ট্রে শিবসেনা মোক্ষম জবাব দিয়েছে বিজেপিকে
তবে বিজেপির এই অভিপ্রায় বুঝতে পেরে আঞ্চলিক দলগুলি এ সম্পর্কে সচেতন হয়ে গিয়েছে। অনেকক্ষেত্রে যেখানে আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে বিজেপি সরকার করছে, সেখানেও যে ভিন্ন ছবি দেখা যেতে পারে, তা দেখিয়ে দিয়েছে শিবসেনা। গেরুয়া শিবসেনা সবুজ কংগ্রেস ও এনসিপির সঙ্গে জোট করে সরকার চালাচ্ছে।

একাধিক শরিকদল জোটসঙ্গী হয়েছে বিজেপির, এমনকী তৃণমূলও
বিজেপি অসমে এজিপি, হরিয়ানায় ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল লোকদল, পঞ্জাবের শিরোমণি আকালি দল, তামিলনাড়ুতে ডিএমকে, এআইএডিএমকে, পিএমকে- এমন বিভিন্ন দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে লড়াই করেছে। কর্ণাটকের জনতা দল (এস), অন্ধ্রপ্রদেশের টিডিপি, ওড়িশার বিজু জনতা দল, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস এবং জম্মু ও কাশ্মীরে পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সঙ্গেও একসময়ে জোটবদ্ধ হয়েছে।

তৃণমূল বিজেপির প্রধান শত্রুতে পরিণত হয়েছে এখন
এছাড়াও বিজেপি উত্তরপ্রদেশের বহুজন সমাজ পার্টিকে সমর্থন করেছিল এবং মায়াবতীকে মুখ্যমন্ত্রী হতে সাহায্য করেছিল। বিহারে আরজেডি সুপ্রিমো লালুপ্রসাদ যাদবকে দুর্বল করার জন্য নীতীশ কুমারের সঙ্গে কাজ করেছিল। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়েছে। যদিও এখন এ রাজ্যে তৃণমূল বিজেপির প্রধান শত্রুতে পরিণত হয়েছে এবং তারা এবার ‘দিদি' কে টার্গেট করেছে।












Click it and Unblock the Notifications