রাজীব-সব্যসাচী-সোনালি-দীপেন্দুদের 'বহিষ্কারের' পথে বিজেপি!
রাজীব-সব্যসাচী-সোনালি-দীপেন্দুদের 'বহিষ্কারের' পথে বিজেপি!
২রা মের পর থেকেই ধোয়াঁ উঠছিল৷ ক্রমশ আগুনের দেখাও পাওয়া যাচ্ছে৷ বিজেপিতে থেকেই দলের শীর্ষনেতা ও নীতিকে ক্রমাগত আক্রমণ করে যাচ্ছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়-সব্যসাচী দত্তরা৷ সোনালি গুহ তো ভোটের পর সরাসরি তৃণমূলের কাছে আবেদন করেছেন ফেরার৷ মমতার সবুজ সংকেত পেলেই বিজেপি ছাড়বেন তিনি৷ এতদিন এ নিয়ে মাথা না ঘামালেও এবার বোধহয় এই চারজনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে চলেছে বিজেপি।

রাজীব-কিসসা
শেষ বিধানসভা নির্বাচনের একেবারে দোরগোড়ায় মমতার ছবি বুকে নিয়ে বিজেপিতে যোগ দিতে দিল্লি উড়ে গিয়েছিলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির টিকিটে নিজের কেন্দ্রে ভোটেও লড়েছেন রাজীব তবে জিততে পারেননি৷ ২রা মে ফল ঘোষণার কয়েকদিন পরই একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে রাজীব লেখেন, 'সমালোচনা তো অনেক হল। মানুষের বিপুল জনমর্থন নিয়ে আসা নির্বাচিত সরকারের সমালোচনা ও মুখ্যমন্ত্রীর বিরোধিতা করতে গিয়ে কথায় কথায় দিল্লি আর ৩৫৬ ধারার জুজু দেখালে বাংলার মানুষ ভালোভাবে নেবে না৷ আমাদের উচিৎ 'কোভিড' ও 'ইয়াস' এই দুই দুর্যোগে বিপর্যস্ত বাংলার মানুষের পাশে থাকা৷'
এরপর সরাসরি তৃণমূল ফিরে যাওয়ার ইচ্ছেও প্রকাশ করেছিলেন রাজীব। কিন্তু তৃণমূল সে আবেদনে কর্ণপাত করেনি। গতকাল আরও একটি ফেসবুক পোস্টে শুভেন্দু অধিকারীকে কটাক্ষ করে রাজীব লিখেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই বাংলার মানুষের ৪৮ শতাংশ ভোট ও ২১৩ আসন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে তৃণমূল৷ তাঁকে আক্রমণ করা একদমই উচিৎ নয়।

সব্যসাচীর সাতকাহন
মুকুলের হাত ধরেই বিজেপিতে এসেছিলেন সব্যসাচী৷ সল্টলেকে নিজের এলাকা থেকে ভোটে লড়ে পরাজিত হয়েছেন৷ তারপর রাজীবের মতোই দলে থেকে শীর্ষ নেতা ও নীতির বিরোধিতা করে দলত্যাগের জল্পনা বাড়িয়েছেন৷ মুকুল রায় তৃণমূলে ফিরে যাওয়ার পর বিজেপিতে সব্যসাচীর থাকার অনিশ্চয়তা নিয়ে অনকেই ভবিষ্যবানী করেছিলেন৷ এবার সে দিকেই যেন হাঁটছে বিজেপি৷ সূত্রের খবর ভোটের ফলাফলের পর থেকেই গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে দূরত্ব রেখে চলছেন সব্যসাচী। বিভিন্ন জায়াগাতে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত দেখাসাক্ষাতের খবরও সামনে আসছে৷

কাদের শোকজ করেছে বিজেপি?
সূত্রের খবর দলবিরোধী কাজের জন্য বিজেপির পক্ষ থেকে শোকজ করা হয়েছে রাজীব-সব্যসাচীকে। সময় মতো শোকজের জবাব না পেলে বিজেপি থেকে এই দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হতে পারেও বলে জল্পনা তৈরি হয়ছে৷ বিজেপি নীচুতলার কর্মী-সমর্থক ও নেতারাও রাজীবদের দল থেকে বহিষ্কারের দাবি তুলেছেন৷ ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে বিজেপি নেতাদের সরব হতে দেখা গিয়েছে সব্যসাচীদের বিরুদ্ধে।

কী বলছে বিজেপি?
রাজীব-সব্যসাচীর শোকজের বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কিছু বলেনি গেরুয়া শিবির। কিন্তু দিলীপ ঘোষ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ' কিছু লোক আছেন যারা ঠিক করতে পারছেন না কোথায় যাবেন কী করবেন। উনি (রাজীব) দলের কোনও পদাধিকার নন।' অবশ্য বঙ্গ-বিজেপি মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে ওয়ানইন্ডিয়া বাংলাকে জানানো হয় সবস্যাচী বা রাজীবকে এরকম কোনও শোকজের চিঠি পাঠানো হয়নি৷












Click it and Unblock the Notifications