বিজেপিতে চলছে দোষারোপের পালা, কলকাতা পুরভোটে ছন্নছাড়া দেখাচ্ছে গেরুয়া শিবিরকে
বিজেপিতে চলছে দোষারোপের পালা, কলকাতা পুরভোটে ছন্নছাড়া দেখাচ্ছে গেরুয়া শিবিরকে
২০২১-এ তৃণমূলের কাছে বিপর্যস্ত হওয়ার পর কলকাতা পুরভোটে বিজপি ঝাঁপিয়ে পড়বে পুরুত্থানের জন্য, এটাই মনে করেছিল রাজনৈতিক মহল। কিন্তু যতই ভোট সামনে আসছে, ততই বিজেপিতে তীব্র হচ্ছে দোষারোপের পালা। কলকাতা পুরভোটের দায়িত্বে থাকা 'বহিরাগত' নেতা, বিধায়ক ও সাংসদদের নিয়ে একে অপরকে দোষারোপ চলছে।

দানা বাঁধছে না বিজেপির প্রচার পরিকল্পনা
অভিযোগ, প্রায় ২০ দিন আগে ভোট পরিচালন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু সেই পরিচালন কমিটির তেমনও কোনও ভূমিকা নেই। কলকাতার নেতাদের অনেকে অভিযোগ করেছেন, যাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাঁদের অনেকেরই কলকাতা সম্পর্কে খুঁটিনাটি ধারণা নেই। ফলে দানা বাঁধছে না বিজেপির প্রচার পরিকল্পনা।

বিজেপি নেতারা ব্যস্ত কাদা ছোঁড়াছুঁড়িতে
বিজেপি কলকাতা পুরসভার ভোট পরিচালন কমিটি গঠন করে ১৭ নভেম্বর। সেই কমিটিতে স্থান দেওয়া হয় কলকাতার বাইরের নেতা, বিধায়ক ও সাংসদদের। সেই কমিটি সাকুল্যে ১টা মিটিং করেছে মাত্র। অথচ আর ১৫ দিনও বাকি নেই কলকাতা পুরভোটের। নেতারা ব্যস্ত নিজেদের মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুঁড়িতে।

বিজেপির রাজ্য দফতর যেন ভাঙা হাট
২০১৫ সালে বিজেপির তেমন বাড়বাড়ন্ত ছিল না। তবু বিজেপির রাজ্য দফতরে উৎসাহী নেতা-কর্মীদের ভিড় থাকত। গমগম করত বিজেপির রাজ্য দফতর। কিন্তু এখন বিজেপির রাজ্য দফতর যেন ভাঙা হাট। বাংলরা প্রধান বিরোধী শক্তি এখন বিজেপি। তারপরও বিজেপির এমন অবস্থায় রাজনৈতিক মহলও বিস্মিত।

বিজেপির লড়াই ভোটের আগেই থমকে গিয়েছে
কলকাতার অনেক প্রার্থীই প্রচার নিয়ে উদ্বিগ্ন। কেননা দলীয় কর্মীদের তাঁরা প্রচারে নামাতে পারেননি বলে জানিয়েছেন। এদিন অনেক প্রার্থী নাম প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন। ফলে অনেক ওয়ার্ডেই বিজেপির লড়াই থেমে যাচ্ছে ভোটের আগে। কলকাতা পুরসভার ১৩৩ ও ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি প্রার্থী সদানন্দ প্রসাদ ও মমতাজ আলি মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়ছেন। ফলে এই দুই ওয়ার্ডে বিজেপির লড়াই ভোটের আগেই থমকে গিয়েছে।

পাল্টা ঝটকা দেওয়ার অবস্থায় নেই বিজেপি
প্রশ্ন উঠেছে, কেন বিজেপিতে এমন গা-ছাড়া ভাব? যে দলটা ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে ২০০ আসনে জয়ের টার্গেট নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, সেই দলটা এখনও বিপর্যয়ের মানসিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ৭৭ আসনে জিতলেও অনেকে দল ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন। সাত জন বিধায়ক ইতিমধ্যেই মাইনাস হয়ে গিয়েছে। ফলে মনোবলে যে আঘাত লেগেছে, তা কাটিয়ে উঠে পাল্টা ঝটকা দেওয়ার অবস্থায় নেই বিজেপি।

বিজেপি নেতাদের মধ্যে সঙ্ঘবদ্ধতার ছবি অস্পষ্ট
অন্তত বিজেপি কর্মীদের ভোট-পরিকল্পনা দেখে মনে হচ্ছে দলে উদ্যমের অভাব রয়েছে। বিজেপির কলকাতা পুরভোটের পরিচালন কমিটির দায়িত্বে থাকা দুই সংসদ অর্জুন সিং ও জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো ও দলের রাজ্য সহ সভাপতি রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে সঙ্ঘবদ্ধতার ছবি অস্পষ্ট। অভিযোগ, তিনজনের কারও দেখা মেলেনি। অর্জুন ভাইপোর বিয়েতে ব্যস্ত, রাজু মেয়ের বিয়েতে। আর জ্যোতির্ময় লোকসভার অধিবেশনে।

বিজেপির প্রস্তুতিতেই ফাঁক রয়ে যাচ্ছে, অভিযোগ
দলের অন্দরেই অভিযোগ, এই তিনজনের কেউই কলকাতার বাসিন্দা নন। আবার কলকাতার ১৬টি বরো এলাকায় বিধায়কদের পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে, তাঁরাও কেউ কলকাতার বাসিন্দা নন, সেটাই সবথেকে সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। বিজেপির প্রস্তুতিতেই ফাঁক রয়ে যাচ্ছে। তা পূরণ করতে পারছে না বিজেপি। যদিও বিজেপি নেতৃত্ব এই অভিযোগ মানতে নারাজ। সবাই পুরভোটে দলকে সাফল্যের খোঁজ দিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন বলে দাবি নেতৃত্বের।












Click it and Unblock the Notifications