বাংলায় উত্তরপ্রদেশ-মডেল চলবে না, নতুন পথ খুঁজতে শুরু করে দিল বঙ্গ বিজেপি
বাংলায় উত্তরপ্রদেশ-মডেল চলবে না, নতুন পথ খুঁজতে শুরু করে দিল বঙ্গ বিজেপি
উত্তরপ্রদেশ মডেলে ভোট করিয়ে বাংলা দখল করতে তুরুপের তাস খেলেছিল বিজেপি। কিন্তু বিজেপি বুঝেছে বাংলায় চলবে না ওই মডেল। তাই বিজেপি তিনদিনের সাংগঠনিক বৈঠক থেকে নতুন পথ খোঁজা শুরু করে দিল। কেন্দ্রীয় নেতা শিব প্রকাশ প্রকাশ্যেই শিকার করে নিলেন এই সার কথা। তিনি বলেন একুশের ভোট স্থির করে দিয়েছে বাংলার রাজনীতি একেবারেই আলাদা।

হিন্দি বলয়ের সঙ্গে বাংলার রাজনীতির ধরন খাপ খায় না
বাংলার রাজনীতির সঙ্গে হিন্দি বলয়ের রাজনীতির কোনও মিল নেই। বলা যায়, বাংলার রাজনীতি আলাদা আর গোটা ভারতের রাজনীতি আলাদা। শিব প্রকাশ বলেন, বাংলার নেতারা আমাদের আগে সে কথা বলতে চেয়েছেন, কিন্তু আমরা তা মানতে চাইনি। অবশেষে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব বুঝতে পেরেছে হিন্দি বলয়ের সঙ্গে বাংলার রাজনীতির ধরন খাপ খায় না।

বাংলা দখলে ফুল টিম নামিয়েও ব্যর্থ বিজেপি
২০২১-এর ভোটযুদ্ধে বাংলা দখলের লড়াইয়ে বিজেপি ভিনরাজ্যের নেতাদের মাঠে নামিয়েছিল। উত্তরপ্রদেশ ছাড়াও অন্যান্য বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলির থেকে বাংলায় এসে ঘাঁটি গেড়েছিলেন বিজেপি নেতারা। বাংলা দখলে ফুল টিম নামিয়ে দিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু নিট ফল হয়েছে শূন্য। অব কি বার দুশো পার তো দূরের কথা তিন অঙ্কই অতিক্রম করতে পারেনি বিজেপি। থমকে গিয়েছে ৭৭-এই।

ভিনরাজ্যের নেতাদের দিয়ে বাংলা-জয় হয় না
বিজেপির বঙ্গ দখলের স্বপ্ন অধরা থেকেছে। বিরোধী দল হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তাদের। এরপর বঙ্গ বিজেপির নেতারা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, বাংলার ভোটে তাঁদেরকেই ব্রাত্য করে রাখা হয়েছিল। তাঁদের মতামতকে কোনও গুরুত্বই দেওয়া হয়নি। প্রচারেও ব্যবহার করা হয়নি সেভাবে। ভিনরাজ্যের নেতাদের দিয়ে বিজেপি বাংলা-জয় করতে চেয়েছিল। তাই যা হওয়ার ছিল সেটাই হয়েছে। বাংলার মাটিতে লড়াই থেকে ছিটকে গিয়েছে বিজেপি।

অনেক মণ্ডল সভাপতির অনুপস্থিতি, কড়া বার্তা
সোমবার থেকে বিজেপির হেস্টিংস কার্যালয়ে শুরু হয়েছিল তিনদিনের বিশেষ সাংগঠনিক বৈঠক। এই বৈঠকে কেন্দ্রীয় নেতা শিব প্রকাশের উপস্থিতিতে বিজেপির সমস্ত সংগঠনের সভাপতিদের নিয়ে আলোচনায় বসার কথা ছিল। তা আয়োজন হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি সে অর্থে। অনেক মণ্ডল সভাপতি অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁদের কড়া বার্তা দেওয়া হয়।

হার থেকে শিক্ষা নিয়ে পরের নির্বাচনে জিততে হবে
বঙ্গ বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ রুদ্ধদ্বার বৈঠকে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে কড়া বার্তা দেন। তিনি জানান, দলে আমি বলে কিছু তাকবে না। আদি-নব্য বলে কিছু থাকবে না। সবাইকে মিলেমিশে কাজ করতে হবে। একটা নির্বাচনে হার মানে সব শেষ হয়ে যাওয়া নয়। এই হার থেকে শিক্ষা নিয়ে পরের নির্বাচনে আমাদের জিততে হবে। সেটাকই আমরা মিশন করে এগোব।

তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা নেতাদের চিহ্নিতকরণ
বিজেপি এই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা নেতাদের চিহ্নিত করতে হবে। সেই তলিকা রাজ্য দফতরে পাঠাতে হবে। গোপনীয়তা রেখেই এই কাজ করতে হবে। দলের নিয়ম, নীতি ও আদর্শ মেনে চলতে হবে। নতুবা বিজেপিতে কোনও জায়গা হবে না। বিজেপি রাজ্য সভাপতি প্রকারান্তরে অন্য দল থেকে আসা নেতাদেরই এই কড়া বার্তা দেন।

অনেকে বিজেপিতে এসেছিল ক্ষমতার লোভে
দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, অনেকে বিজেপিতে এসেছিল ক্ষমতার লোভে। ক্ষমতা না পাওয়া তাঁরা আবার অন্য পথ ধরেছেন। বা অনেকে অন্য পথের সন্ধানে রয়েছেন। ভোট মিটতেই তাঁদের বেশিরভাগ চলে গিয়েছেন। এখনও যাঁরা পড়ে আছেন, তাঁদের তালিকা তৈরি করছি আমরা। তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা নেতাদের একঘরে করতে চাইছে বিজেপি।

ইচ্ছে করলেই বুথ সভাপতি বদল নয়
দিলীপ ঘোষ সাংগঠনিক বৈঠক থেকে জেলা সভাপতিদের উদ্দেশে বলেন, ইচ্ছে করলেই বুথ সভাপতি বদল করা যাবে না। রাজ্য কমিটির অনুমতি লাগবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজ্য কমিটিই নেবে। দলে নতুন ও পুরনো সমস্ত নেতাদেরই সমান চোখে দেখতে হবে। সবাইকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলার রাজনীতিতে বাংলার নেতাদের অগ্রাধিকার দেবে বিজেপি।

সহজ তিনটি সূত্রে মেনে চলবে বিজেপি
যাঁরা বিজেপির নিয়ম-নীতি মেনে চলতে পারবে না। যাঁরা বিজেপির আদর্শকে মানতে পারবে না, তাঁদের জন্য দরজা খোলা আছে। মণ্ডল সভাপতিদের অনুপস্থিতি নিয়ে তিনি সাফ কথা জানিয়ে দেন। বিজেপিতে আগে দেশ, তারপর দলে, ব্যক্তি সবার শেষে। এই সহজ তিনটি কথা মনে চলতে হবে।












Click it and Unblock the Notifications