বিশ্বব্যাঙ্ক হাত বাড়িয়ে দিল মমতার সরকারের দিকে, মহিলাদের ক্ষমতায়নে আরও প্রকল্পের ভাবনা
বিশ্বব্যাঙ্ক হাত বাড়িয়ে দিল মমতার সরকারের দিকে, মহিলাদের ক্ষমতায়নে আরও প্রকল্পের ভাবনা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারে আসার পর রাজ্যে মহিলা উন্নয়নে বিশেষ নজর দিয়েছেন। ইতিমধ্যে অনেকগুলি প্রকল্প চালু করেছে তাঁর সরকার। মহিলাদের জন্য কন্যাশ্রী থেকে শুরু করে রূপশ্রী, হালে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প চালু হয়েছে। এই প্রকল্পগুলি বিশ্বের দরবারে স্বীকৃত হয়েছে। একাধিক সম্মান পেয়েছে প্রকল্পগুলি। এবার এই সমাজ উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির পাশে দাঁড়াতে চলেছে বিশ্বব্যাঙ্ক।

বিশ্বব্যাঙ্ক হাত বাড়িয়ে দিল মমতার সরকারের দিকে
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানোন্নয়নে নিত্যনতুন প্রকল্প গ্রহণ করলেও, তা চালানোর টাকা কোথা থেকে আসবে, তা নিয়ে বরাবরই বিতর্ক ছিল। সেই বিতর্কের মাঝেই বিশ্বব্যাঙ্ক হাত বাড়িয়ে দিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনদরদী সরকারের দিতে। তৃণমূল সরকারের জনদরদী নীতির পাশে দাঁড়িয়ে আর্থিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিল বিশ্বব্যাঙ্ক।

১২ কোটি মার্কিন ডলার সাহায্য মিলতে পারে
বিশ্বব্যাঙ্ক জানিয়েছে, রাজ্যের মহিলাদের ক্ষমতায়নে যে সমস্ত প্রকল্প চালু করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেই প্রকল্পে আর্থিক সাহায্য করবে তারা। মহিলাদের সামাজিক সুরক্ষার জন্য উইমেনস এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড ইনক্লুসিভ সোশ্যাল প্রোটেকশন প্রোগ্রাম-এ প্রায় সাড়ে ১২ কোটি মার্কিন ডলার সাহায্য মিলতে পারে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

প্রথম সেরার স্বীকৃতি এনেছিল বাংলার কন্যাশ্রী
রাজ্য সরকারের যুগান্তকারী প্রকল্প হল কন্যাশ্রী। এই প্রকল্পই বিশ্বের দরবার থেকে প্রথম সেরার স্বীকৃতি এনেছিল। এই প্রকল্পে রাজ্যের কন্যাশ্রীদের আর্থিক সাহায্য করা হয়। এই প্রকল্পের ফলে স্কুলছুটের সংখ্যা কমেছে। ১৮ বছরের নিচে অর্থাৎ অপ্রাপ্তবয়স্ক মহিলার বিয়ে রোখা সম্ভব হয়েছে। তারপর রয়েছে দরিদ্র পরিবারের মহিলাকে বিয়ের জন্য রূপশ্রী প্রকল্পে টাকা প্রদান।

কন্যাশ্রীতে বার্ষিক ১০০০ টাকা বৃত্তি পেতে যোগ্যতা
কন্যাশ্রী প্রকল্পে বার্ষিক বৃত্তি ১০০০ টাকা। এককালীন ২৫০০০ টাকা বৃত্তি পাবে ছাত্রীরা। ছাত্রীর বয়স ১৩ বছরের বেশি ও ১৮ বছরের কম হলে, অন্তত অষ্টম শ্রেণীতে পাঠরতা ছাত্রী বার্ষিক ১০০০ টাকা বৃত্তি পাবে। সরকারি বা সরকার অনুমোদিত বা সরকারি সাহায্য প্রাপ্ত বিদ্যালয়ে পাঠরতা ছাত্রীরা এই সুযোগ পাবে। এবং ছাত্রীকে অবিবাহিতা হতে হবে।

কন্যাশ্রীতে এককালীন ২৫০০০ টাকা বৃত্তি পেতে
আর এককালীন ২৫০০০ টাকা বৃত্তি পেতে আবেদন করার দিনে ছাত্রীর বয়স আঠেরো বছরের বেশি ও উনিশ বছরের কম হতে হবে। ছাত্রীকে মাধ্যমিক, উচ্চ-মাধ্যমিক, কারিগরি, বৃত্তিমূলক, ক্রীড়াবিষয়ক ইত্যাদি যে কোনো বিষয়ে নিবন্ধীকৃত প্রতিষ্ঠানে পাঠরতা হতে হবে। তবেই সেই ছাত্রী এককালীন ২৫০০০ টাকা পাওয়ার যোগ্য।

কন্যাশ্রীর পাশাপাশি রূপশ্রী নামে একটি প্রকল্প রয়েছে
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কন্যাশ্রীর পাশাপাশি রূপশ্রী নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যাতে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের বিয়ে দেওয়া যায়। এই প্রকল্পের আওতায় এককালীন ২৫০০০ টাকা দেওয়া হয়, যাদের বার্ষিক আয় ১.৫০ লক্ষ টাকার কম হয়। এছাড়া বার্ধক্য ও বিধবা ভাতা রয়েছে ১ হাজার টাকার করে।

মমতার সরকার চালু করেছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প
সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার চালু করেছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প। এই প্রকল্পে জেনারেল ক্যাটাগরির মহিলারা ৫০০ টাকা এবং তফশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা ১০০০ টাকা করে প্রতি মাসে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাবেন। সেপ্টেম্বর থেকেই তা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পাঠিয়ে দেওয়া হবে মহিলাদের হাত খরচের টাকা। সমাজ উন্নয়নে মমতার সরকারের এই কাজের পাশে দাঁড়াতে চায় বিশ্বব্যাঙ্ক।

নারীদের মানোন্নয়নে অনেক পরিকল্পনা মমতার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কন্যাশ্রী প্রকল্পে যে সাড়া পেয়েছে, তাতে অভিভূত হয়েই নারীদের মানোন্নয়নে এমন অনেক পরিকল্পনা করছে। এই সরকার মহিলাদের সামনে এগিয়ে আনছে। তাই স্বাস্থ্যসাথী কার্ড কোনও পুরুষের নামে না হয়ে বাড়ির মহিলার নামে হচ্ছে। মহিলারাই বাড়ির চালিকাশক্তি। তাই মহিলাদের বাড়ির প্রধানের সম্মান দিচ্ছে রাজ্যের তৃণমূল সরকার।

মমতা ভাবনা-চিন্তাকে আরও সুদূরপ্রসারী করবেন
কন্যাশ্রী, রুপশ্রী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো আরও প্রকল্প চালু করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার মহিলাদের ক্ষমতায়নের ব্যবস্থা করতে উদ্যোগী। এই কাজে বিশ্বব্যাঙ্ক যদি সহায়তায় এগিয়ে আসে, তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে তাঁর ভাবনা-চিন্তাকে আরও সুদূরপ্রসারী করবেন তা বলাই যায়। তিনি চান নীতি নির্ধারণ করে নাগরিকদের সুবিধা প্রদান করতে।

কাজের পরিধি আরও বাড়বে বিশ্বব্যাঙ্ক হাত বাড়ালে
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চান, মহিলাদের আরও অংশগ্রহণ। সে জন্য তাঁদের ক্ষমতায়নের ব্যবস্থা করতে হবে। সেটাই করছে তাঁর সরকার। বিশ্বব্যাঙ্কের মতো সংস্থা যদি তাঁর কাছে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসে, তার থেকে ভালো কিছু হতে পারে না। এই উৎসাহ পেলে আমরা আমাদের কাজের পরিধি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারব।












Click it and Unblock the Notifications