শেষের শুরু মোর্চার! গুরুংয়ের গোর্খা বাহিনীর সফট টার্গেটে বিনয় তামাং
বিনয় তামাংকে দল থেকে বহিষ্কার করতে সিকিমের নিমচিতে বৈঠকে বসেছিলেন গুরুংরা। সেই বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই পুলিশি হানায় বৈঠক ভেঙে যায়।
তাঁর অপরাধ পাহাড়ে শান্তি ফেরানোর উদ্যাগ নেওয়া। তাঁর অপরাধ পাহাড় থেকে অনির্দিষ্টকালীন বনধ তুলে নেওয়ার কথা ঘোষণা করা। শুধু সেই কারণেই মোর্চার তরফে বিনয় তামাংকে দলে বিদ্রোহীর তকমা লাগিয়ে দিলেন বিমল গুরুং-রা। বিনয় তামাং সফট টার্গেট হয়ে গেলেন জিএলপি (গোর্খাল্যান্ড পার্সোনেল) বাহিনীর।
বিনয় তামাংকে দল থেকে বহিষ্কার করতে সিকিমের নিমচিতে বৈঠকে বসেছিলেন গুরুংরা। সেই বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই পুলিশি হানায় বৈঠক ভেঙে যায়। তাতে বিপদ আরও বেড়েছে বিনয় তামাং ও তার সহযোগীদের। সবাইই সফট টার্গেট হয়ে গিয়েছেন বিমল গুরুংয়ের জিএলপি-র। যে কোনও মূহূর্তে তাঁদের উপর হামলা হতে পারে এই আশঙ্কা করছে প্রশাসন। রাজ্যের তরফ থেকে তাই সমস্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

শুক্রবার থেকেই সুরক্ষা বলয় তৈরি করা হয়েছে বিনয় তামাংয়ের বাড়িকে ঘিরে। মোর্চা নেতারা তাঁকে বিশ্বাসঘাতক বলে প্রচার শুরু করতেই, রাজ্য প্রশাসনের তরফে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন। এই অবস্থায় মোর্চার অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরে যে কোনও মূহূর্তে বিনয় তামাংকে পাহাড় ছাড়তে হতে পারে এমন সম্ভাবনাও যেমন থাকছে, তেমনই গুরুংয়ের আরও বিপদ বাড়ার সম্ভাবনাও প্রবল।
বিনয় তামাং দলে কোণঠাসা হয়ে পড়ায় প্রশাসন উদ্বেগে রয়েছে। যেভাবে বিনয় তামাংকে টার্গেট করা হচ্ছে, তাতে আশঙ্কার কালো মেঘ আবার জমাট বাঁধতে শুরু করেছে পাহাড়ে- সবই ঠিক। কিন্তু প্রশাসন যে গুরুংয়েদর বিরুদ্ধে জাল গোটানোর কাজ দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কোনও হিংসাশ্রয়ী ঘটনা ঘটুক পাহাড়ে, তা কোনওভাবেই বরদাস্ত করবে না রাজ্য প্রশাসন।
মোর্চার বিদ্রোহী নেতাকে পুলিশ-প্রশাসন বিমল গুরুংয়ের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। তাই বিশেষ ভাবেই তাঁকে রক্ষা করতে তৎপর প্রশাসন। বিমল গুরুংয়ের অনেক গোপন কৌশল বিনয় তামাং জানেন। অনেক তথ্য রয়েছে তাঁর কাছে। সেগুলি ফাঁস করলে বিমল গুরুং আরও বিপদে পড়তে পারেন।
এই মুহূর্তে বিমল গুরুং বা রোশন গিরি কেউই স্বস্তিতে নেই। দু-জনেই লুক আউট নোটিশে পুলিশের স্ক্যানারে। এখন তাঁরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। গোপন অঞ্চলে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন। তারপর বিনয় তামাং, অনীত থাপা দলে বিদ্রোহীর ভূমিকায়। মোর্চা নেতাদের সফট টার্গেটে রয়েছেন তাঁরা। ফলে এই মুহূর্তে পাহাড়ে মোর্চাকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো কোনও নেতা নেই। সমস্ত নেতৃস্থানীয়রাই ঘোর বিপাকে পড়ে রয়েছেন।
এর আগে দলীয় গোষ্ঠীকোন্দল বারবার সাংঘাতিক রূপ নিয়েছে পাহাড়ে। গোষ্ঠীকোন্দলের জেরেই একটা সময়ে পাহাড়ে অস্তিত্ব হারিয়েছিল জিএনএলএফ। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার উত্থান হয়েছিল। এখন মোর্চাও সেই একই পরিণতির দিকে এগোচ্ছে। অচিরেই শেষ হয়ে যেতে পারে মোর্চার অস্তিত্ব। কারণ বিমল গুরুংরা শুরু করলে থামতে জানেন না। তা-ই অস্তিত্বের শেষ ধাপে পৌঁছে দিয়েছে মোর্চাকে।












Click it and Unblock the Notifications