পাকিস্তান সহায়তা করবে তালিবানদের, আফগানিস্তানে প্রশাসক গঠনে বার্তা সেনাপ্রধানের
প্রতিবেশী আফগানিস্তানে অন্তর্বর্তী প্রশাসক গঠনে তালিবানদের সহায়তা করবে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া শনিবার ব্রিটিশ পররাষ্ট্র সচিব ডোমিনিক রাবকে একথা জানিয়েছেন দ্ব্যর্থহীন ভাষায়।
প্রতিবেশী আফগানিস্তানে অন্তর্বর্তী প্রশাসক গঠনে তালিবানদের সহায়তা করবে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া শনিবার ব্রিটিশ পররাষ্ট্র সচিব ডোমিনিক রাবকে একথা জানিয়েছেন দ্ব্যর্থহীন ভাষায়। জেনারেল বাজওয়া-রাবের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।

পাকিস্তানের জেনারেল বাজওয়া বৈঠকে বলেন, "আফগানিস্তানে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য লড়াই চালিয়ে যাবে পাকিস্তান। পাশাপাশি একটি অন্তর্ভুক্ত প্রশাসন গঠনে সহায়তা করবে তালিবানদের।" পাকিস্তানের গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফয়েজ হামিদ শনিবার আফগানিস্তানে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে চূড়ান্ত করার কথা বলেন। প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করার লড়াইয়ে তালিবানদের সাহায্য করার ব্যাপারে জেনারেল বাজওয়ার মন্তব্যটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে বলে তিনি আশাবাদী।
তালিবানদের প্রশাসন গড়ে তুলতে পাকিস্তানি সহায়তা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যায়। তবে বিদ্রোহী গোষ্ঠী সংগ্রাম অব্যাহত রাখায় তালিবানরা আগামী সপ্তাহে আফগানিস্তানে নতুন সরকার গঠন স্থগিত করেছে। মার্কিন সমর্থিত আফগানিস্তান সরকার পতনের পর দ্বিতীয়বারের জন্য তালিবান সরকার গঠন বিলম্বিত হল। প্রাথমিকভাবে বিদ্রোহী গোষ্ঠী শুক্রবার তার সহ-প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা আবদুল গনি বরাদারের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের ঘোষণা করা হবে আশা করা হয়েছিলষ
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র সচিব রাব বৃহস্পতিবার দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করতে পাকিস্তানে পৌঁছেছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- উভয় পক্ষ প্রতিরক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং সন্ত্রাস দমনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে। এ ব্যাপারে উভয়েই সম্মত হয়েছে। রাব বলেন, "ইউকে-পাকিস্তান সম্পর্কের ভিত্তি খুব শক্তিশালী। ইউকে এটিকে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রাখে। আফগানিস্তানের ভবিষ্যতের ব্যাপারেও আমাদের একটি সুস্পষ্ট এবং অভিন্ন আগ্রহ রয়েছে। আমরা তালিবানকে তাদের কথায় নয়, তাদের কাজে বিচার করব।
রাব তালিবানদের সঙ্গে যোগাযোগের ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের সরকারকে তাৎক্ষণিক স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করেছিলেন। রাব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকেও ডেকেছিলেন আলোচনায়। ইমরান আফগানিস্তানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও শান্তি জোরদার করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছিলেন এবং যে কোনও বড় আকারের অভিবাসন রোধের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছিলেন।
ইমরান খান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি মানবিক সংকট রোধ এবং অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে বলে বার্তা দেন। আফগান জনগণের সঙ্গে একাত্মতা বজায় রাখতে হবে। শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতিতে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান তিনি।
ব্রিটিশ হাইকমিশনের মতে, পররাষ্ট্র সচিব তুরখামে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিং পয়েন্ট পৌঁছন। আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্ত পরিদর্শন করেন তিনি এবং সেখানকার পরিস্থিতি নিজেই দেখেছেন। বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সমর্থনকারী দলের সদস্যদের সঙ্গেও দেখা করেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications