নোয়াপাড়া-দক্ষিণেশ্বর মেট্রো চালুর প্রথম কারিগর বামেরাই, উদ্বোধনের দিন ইতিহাস ঘেঁটে আক্ষেপ প্রাক্তন বাম সাংসদের
নোয়াপাড়া-দক্ষিণেশ্বর মেট্রোর চালুর প্রথম কারিগর বামেরাই, উদ্বোধনের দিন ইতিহাস ঘেটে আক্ষেপ প্রাক্তন বাম সাংসদের
অবশেষে চালু হল নোয়াপাড়া-দক্ষিণেশ্বর মেট্রো। নোয়াপাড়া থেকে দক্ষিণেশ্বর মাত্র ৪.১ কিলোমিটার সম্প্রসারণের কাজ করতে কেটে যায় কয়েক বছর। শুধু জমির জটের কারনেই দীর্ঘদিন আটকে থাকে এই প্রকল্পের কাজ। যা নিয়ে কম রাজনৈতিক দড়ি টানাটানি হয়নি। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়াতে সেই সময় তার দায় চাপানো হয় মমতা বন্দ্যপাধ্যায় সরকারের উপরেই। কেন্দ্রের অভিযোগ ছিল জমি অধিগ্রহণ না করার কারণে থমকে আছে নাকি নোয়াপাড়া-দক্ষিণেশ্বর সম্প্রসারণের কাজ। এই নিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি। যদিও সেই বাধা কাটিয়ে ভোটের মুখে ছুটল মেট্রো। কিন্তু এই মেট্রোর কৃতিত্ব নিয়ে শুরু হয়েছে নয়া রাজনীতি!

নোয়াপাড়া থেকে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত মেট্রোর সম্প্রসারণের পিছনে নাকি বামেরা!
সোমবার হুগলির সাহাগঞ্জ থেকে এই প্রকল্পের ভার্চুয়াল উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এর ফলে নিউ গড়িয়া থেকে এক মেট্রোতে সরাসরি দক্ষিণেশ্বর যাওয়া সম্ভব হবে। শুধু তাই নয়, মাত্র আধ ঘন্টায় পৌঁছে যান ধর্মতলা। ভোটের আগে মেট্রোর উদ্বোধন নিয়ে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চর্চা। শাসকদলের দাবি, বেছে বেছে ভোটের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তৈরি প্রকল্পগুলির উদ্বোধন করা হচ্ছে। যদিও তা মানতে নারাজ বিজেপিও। আর এই অবস্থায় দক্ষিণেশ্বর-নোয়াপাড়া মেট্রো পিছনে তাঁদের অবদানের কথা তুলে ধরার চেষ্টা বামেদের।

উইকিপিডিয়ার স্ক্রিন শর্ট শেয়ার করে দাবি
বামেদের দাবি, রাজ্যে মেট্রো রেল চলার প্রয়োজনীয়তা বুঝেই প্রথম ইউপিএ সরকারের সঙ্গে কথা বলেন সিপিআই (এম) সাংসদরাই। এমনকি বিধায়করাও এই বিষয়ে এগিয়ে আসেন। বামেদের দাবি, ২০০৪ সাল থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে একাধিকবার এই বিষয়ে কেন্দ্রের দ্বারস্থ হন বাম বিধায়ক এবং সাংসদরা। বিশেষ করে দমদম লোকসভা কেন্দ্রের তৎকালীন সাংসদ অমিতাভ নন্দী এই বিষয়ে বারবার রেলমন্ত্রকের দ্বারস্থ হন। নোয়াপাড়া থেকে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত এই রেলপথ সম্প্রসারণের জন্য দাবি জানান। এই প্রকল্পটি নিয়ে কনভেনশনও হয়েছে। এবং বামেদের চাপেই প্রকল্পটি অনুমোদন পায় বলে দাবি বামেদের। সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করা হচ্ছে সেই স্ক্রিন শর্ট।

২০০৯ সালে মেট্রো সম্প্রসারণের অনুমোদন
সেই সময় তৎকালীন কংগ্রেস সরকার। ২০০৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী রেল বাজেট পেশ করেন তৎকালীন রেলমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদব। তিনি দক্ষিণশ্বর পর্যন্ত মেট্রো সম্প্রসারণের অনুমোদন দিতে গিয়ে ঘোষণা করেছিলেন, এই প্রকল্পের ব্যয়ভারের ৫০ শতাংশ বহন করবে রাজ্য সরকার। প্রাথমিকভাবে দমদম থেকে নোয়াপাড়া হয়ে বরানগর পর্যন্ত সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়। কিন্তু বামফ্রন্ট সাংসদরা বারবার রুটকে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত সম্প্রসারিত করার জন্য কার্যত লেগে পড়ে থাকতেন।

মমতাকেও একাধিকবার অনুরোধ জানানো হয়
এরপর দ্বিতীয় ইউপিএ সরকার তৈরি হয়। আর সেই সময় কংগ্রেসের শরিক ছিল তৃণমূল। রেলমন্ত্রী ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রসঙ্গে বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন সাংসদ তড়িত বোরণ তোপদার জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেই সময় আবেদন জানানো হয়েছিল। যাতে দ্রুত দক্ষিণেশ্বর-নোয়াপাড়া মেট্রোর সম্প্রসারণ করা যায়। আমি আর অমিতাভ নন্দী গিয়ে একাধিকবার আবেদন জানাই। আর তাই মন্ত্রিত্ব অনেক পালটালেও বাস্তবায়ণের মুখ দেখল বলে মন্তব্য প্রাক্তন এই সাংসদের। দেরিতে হলেও প্রকল্প চালু হওয়াতে খুশি হলেও এর পিছনে থাকা বামেদের অবদান ভুলে যাওয়া নিয়ে আক্ষেপ রয়েছে তাঁর। তিনি বলেন, মানুষের মনে দাগ কাটেনি। ভারতবর্ষের জন্যে অনেক কিছু করেছে বামেরা। কিন্তু কেউ তা মনে রাখে না বলে মনে করেন এক সময়ের প্রভাবশালী এই নেতা।












Click it and Unblock the Notifications