Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানল না নির্বাচন কমিশন! অভিষেকের দাবিতে শুরু রাজনৈতিক চাপানউতোর

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পালনে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ল নির্বাচন কমিশন। আজকের মধ্যে অসঙ্গতিপূর্ণ ভোটার তালিকা প্রকাশ করার কথা থাকলেও, সময়মতো প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার হাতে পাননি বুথ লেভেল অফিসাররা (বিএলও)।

গত ১৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি তালিকাভুক্ত এবং 'আনম্যাপড' ভোটারদের নাম স্থানীয় পঞ্চায়েত ও ব্লক অফিসগুলিতে প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু সময়মতো তা না হওয়ায় নির্বাচন কমিশনকে বিঁধলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) কার্যালয়ের এক উর্ধ্বতন আধিকারিক জানান, "শুক্রবার রাত পর্যন্ত আমরা সফটওয়্যার পাইনি। শেষ মুহূর্তে সফটওয়্যার পেলেও অল্প কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এত বিপুল ডেটা ডাউনলোড, প্রিন্ট এবং প্রদর্শন করা অত্যন্ত কঠিন হবে। বিএলও-রা ইতিমধ্যেই শুনানির কাজে ব্যস্ত। লজিস্টিকভাবে এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ।"

প্রকাশিতব্য তালিকায় ডেটা অসঙ্গতিপূর্ণ নাম এবং 'আনম্যাপড' ভোটারসহ প্রায় ১.২৬ কোটি ভোটারের নাম থাকবে। কমিশনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, শেষ মুহূর্তের এই বিলম্ব নির্দেশাবলি পালনে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। অপর এক আধিকারিক বলেন, "আমাদের কাছে তথ্য আছে, কিন্তু তৃণমূল স্তর অবধি বাস্তবায়ন পুরোপুরি বিএলও-দের উপর নির্ভরশীল।" তিনি আরও বলেন, "বর্তমান পরিস্থিতিতে আদালতের সময়সীমা পূরণ সম্ভব নাও হতে পারে।"

এরই মধ্যে, 'আনম্যাপড' হিসাবে চিহ্নিত ৩ লক্ষেরও বেশি ভোটার নোটিশ পাঠানো সত্ত্বেও শুনানির জন্য উপস্থিত হননি। একজন আধিকারিক জানান, "প্রায় ১০ শতাংশ আনম্যাপড ভোটার শুনানিতে আসেননি।" স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়া দ্রুত করতে ইসি প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে ২৯৪ জন অতিরিক্ত সিনিয়র মাইক্রো-পর্যবেক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর উদ্দেশ্য, "স্বচ্ছতা এবং দ্রুত অনিষ্পন্ন মামলার নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা।"

রাজ্যে মোট ৭.৬২ কোটি গণনা ফর্ম ভোটারদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছিল। গত ১৬ ডিসেম্বর ইসি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করে, যেখানে মৃত্যু, স্থান পরিবর্তন ও নামের পুনরাবৃত্তির কারণে প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। প্রায় ১.২৬ কোটি ভোটার, যাঁদের নাম খসড়া তালিকায় রয়েছে, তাঁদের 'যৌক্তিক অসঙ্গতি' অথবা ২০০২ সালের নির্বাচনী তালিকার (যখন শেষ এসআইআর হয়েছিল) সঙ্গে তাঁদের এন্ট্রিগুলির ম্যাপিং না হওয়ায় যাচাই শুনানির নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

আধিকারিকরা জানান, 'যৌক্তিক অসঙ্গতি'-এর মধ্যে রয়েছে পিতার নাম ভুল বা বেমানান হওয়া, ছয়টির বেশি সন্তানযুক্ত ভোটার, বাবা-মা বা ঠাকুরদা-ঠাকুমার সঙ্গে বয়সের অবিশ্বাস্য পার্থক্য এবং ৪৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিদের 'নতুন ভোটার' দেখানো ইত্যাদি। ৭ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষ হওয়ার কথা, আর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা ১৪ ফেব্রুয়ারি। তবে ইসি ইঙ্গিত দিয়েছে যে, সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় 'যৌক্তিক অসঙ্গতি' তালিকাভুক্ত নামগুলি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রকাশ করতে ইসিআই-এর ব্যর্থতার অভিযোগ করেন। অভিষেক দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং নির্বাচন প্যানেলের নিজস্ব যোগাযোগ থাকা সত্ত্বেও ২৪ জানুয়ারির মধ্যে সব গ্রাম পঞ্চায়েত ও পৌর ওয়ার্ডে এই নামগুলি প্রকাশ করা হয়নি।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আজ সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করা এক বার্তায় বলেন, "সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ এবং নিজস্ব আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ থাকা সত্ত্বেও, নির্বাচন কমিশন ২৪ জানুয়ারি - আজ - সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পৌর ওয়ার্ডে যৌক্তিক অসঙ্গতির তালিকা প্রকাশ করতে ব্যর্থ হয়েছে, যা তাদের প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।"

গত ১৯ জানুয়ারি শীর্ষ আদালত ইসিআই-কে পশ্চিমবঙ্গের গ্রাম পঞ্চায়েত ভবন, তালুকা ব্লক অফিস এবং ওয়ার্ড অফিসগুলিতে 'যৌক্তিক অসঙ্গতি' তালিকাভুক্ত নামগুলি প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছিল। আদালত উল্লেখ করেছিল যে, রাজ্যের ১.২৫ কোটি ভোটদাতার নাম এই অসঙ্গতিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে।

তিনি এই প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত সফটওয়্যারের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন, এর কার্যকারিতায় অসঙ্গতির অভিযোগ করে। অভিষেক বলেন, "যে সফটওয়্যারটি নাকি ৭ কোটিরও বেশি গণনা ফর্ম মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণ করে খসড়া তালিকা প্রকাশের পর ১৬ ডিসেম্বরে এক ঘণ্টার মধ্যে অলৌকিকভাবে 'যৌক্তিক অসঙ্গতি' সনাক্ত করেছিল, এখন তার যুক্তি, গতি, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং আত্মবিশ্বাস সবই হারিয়ে ফেলেছে।"

অভিষেক ইসিআই-এর কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন, প্রশ্ন তুলেছেন এই বিলম্ব ইচ্ছাকৃত কিনা। তিনি বলেন, "তিনটি সুস্পষ্ট প্রশ্ন এখনও অমীমাংসিত রয়েছে: ইসিআই ঠিক কী লুকাতে চাইছে? যদি এক ঘণ্টায় অসঙ্গতিগুলি চিহ্নিত করা যায়, তাহলে সেগুলো প্রকাশ করতে কেন এত দিন লাগছে? নির্বাচন কমিশন কি যুক্তি খুঁজছে না অসঙ্গতিগুলি লুকাতে চাইছে?"

অভিষেকের বক্তব্যকে সমর্থন করে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র দাবি করেন যে, ইসিআই বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে এবং তারা তালিকা প্রকাশে বিলম্ব করতে চাইছে তা স্পষ্ট। মহুয়া মৈত্র প্রশ্ন তোলেন, "তারা কি প্রায় ১.৩ কোটি মানুষের তালিকায় আরও বাড়াতে চায়? কেন শুধু বাংলার মানুষের জন্যই এটা?"

যদিও এই অভিযোগের জবাবে বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা তৃণমূলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য নির্বাচন প্যানেলকে হেয় করার চেষ্টার অভিযোগ তোলেন। রাহুল সিনহা বলেন, "তৃণমূল ইসিআই-এর বিরুদ্ধে উন্মাদনা সৃষ্টি করে এবং তাদের নির্বাচনী লাভের জন্য এসআইআর অভিযানকে ব্যাহত করার চেষ্টা করছে। ইসিআই-এর মতো একটি সংস্থার ভীত হওয়া উচিত নয় এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির যে কোনও প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।"

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+